নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি :ফেনীর ছাগলনাইয়া তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় এক বয়স্ক রুগীর মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩ মে বুধবার ছাগলনাইয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড পশ্চিম ছাগলনাইয়া গ্রামের হাজী আহসান উল্লাহ মুন্সি বাড়ীর মরহুম আবদুস সোবহানের ছেলে ফয়েজ আহম্মদ (৬০) পান্নিয়া রোগের চিকিৎসা করার জন্য তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। দুপরে ঐ হাসপাতালে রুগী ফয়েজ আহম্মদ পায়ে হেটে তার পরিবারের লোকের সাথ যায় বলে জানায় তার পরিবার।
রাত ১০ টায় ফেনী সদর হাসপাতালের আর এস ডাঃ হারুন অর রশীদ এফ সি পি এস(সার্জারি), এম আর সি এস (ইউ কে) ফয়েজ আহম্মদের অপারেশন করেন তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতালে। তার আগে ডাঃ সাইফুল ইসলাম রুগী ফয়েজ আহম্মদকে এনএসট্রেটিক ড্রাগ দিয়ে অজ্ঞেন করে। রুগী ফয়েজ আহম্মদের শেলক কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অপারেশন থিয়েটারে ফয়েজ আহম্মদকে প্রবেশ করানোর আগে তার পেশার ছিলে ৮০ এবং থিয়েটারে প্রবেশ করানোর পরে তার পেশার ২০০ ছিলো। অধিক পেশার থাকা শর্তেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন শুরু করে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, অজ্ঞান হওয়া নিশ্চিত না হয়েই ডাক্তার অপারেশন শুরু করেন এবং অপারেশন যখন হচ্ছিলো তখন রুগীর চিৎকারের আওয়াজও শুনাযায়। এছাড়াও ফয়েজ আহম্মদের পরিবারের অভিযোগ, রুগী মারা যাওয়ার পর তারা তাড়াহুড়া করে তাদের নিজস্ব এম্বুলেন্সেকরে মৃতদেহ বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয় এবং চিকিৎসা খরচও নিয়নি। অন্যদিকে তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতালের কর্তব্যরত আর এফ ডাঃ সোহেল মাহমুদ বলেন, এই রুগী পূর্বে দু’বার স্টোক করেছিলো।
বুধবার রাত ১০ টায় তার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিলো এবং অপারেশন শেষে তাকে যখন পোস্ট অপারেটিভ রোমে নিয়ে যাওয়া হয় তখন ফয়েজ আহম্মদ তার স্ত্রীর সাথে কথাও বলেছিলো। ডাঃ সোহেল মাহমুদ বলেন, রুগীর পরিবার যে অভিযোগ করছেন তা সঠিক নয়, রুগী মারা যাওয়ার পর আমরা সাথে সাথে টাকা আদায় করিনি কারন তার পরিবারের লোকেরা বলেছে দাফন সম্পন্ন করে টাকা দিয়ে যাবে। এছাড়াও ডাঃ সোহেল মাহমুদ বলেন, এই রুগীর সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ ছিলোনা। রুগীর সাথে ডাঃ হারুন অর রশীদের যোগাযোগ। ডাঃ হারুন অর রশীদ ও রুগীর পরিবার কথা বলে তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডাঃ সোহেল বলেন আমরা শুধু আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়াতে থিয়েটার ব্যবহার করতে দিয়েছি অন্য কিছু আমরা জানিনা। ফয়েজ আহম্মদে ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে। ৪ ছেলের সবাই প্রবাসে আছে বলে পারিবার সূত্রে জানাগেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় ফয়েজ আহম্মদ মারা যায় বলে জানান ডাঃ সোহেল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ছাগলনাইয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তার নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।