ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে অম্বিকাচরণ মজুমদারের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন ফরিদপুরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯১৫ইং সালের ২১ নভেম্বর কয়েকজন গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে একটি সভা ডাকেন। উক্ত সভায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং অম্বিকাচরণ মজুমদার কে সভাপতি মনোনীত করা হয়। এরপর ১৯১৬ সালের ৯ জানুয়ারী কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মাষ্টার প্লান করা হয় এবং নির্বাচিত করা হয় কলেজের স্থান।
তবে পরিকল্পনা করলেই তো আর কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না এর জন্য প্রয়োজন কিছু জমি ও প্রচুর টাকা-পয়সা। তাই অর্থের জন্য তিনি দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করে দেন। বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তিনি যান বাইশরশির জমিদার রমেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর কাছে। রমেশচন্দ্র জানান তিনি টাকা দিতে রাজি আছেন, যদি ঐ কলেজের নাম তার বাবা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে রাখা হয়।
১৯১৬ইং সালের ১৩ অক্টোবর কলেজ কমিটি রাজেন্দ্র কলেজ নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করে। রমেশচন্দ্র চৌধুরীর পিতার নামে কলেজের নামকরণের প্রস্তাব গৃহীত হলে তিনি কলেজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দান করেন। এছাড়া মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী নামে এক জমিদার কলেজ স্থাপনের জন্য ৩০ হাজার টাকা দান করেন।
টাকা জোগাড় হলেও এক সময় কলেজের জমি নিয়ে সমস্যা হলে কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এরপর সরকার কলেজ ভবন নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে শত বাঁধা সত্যেও অম্বিকাচরণ মজুমদার থেমে থাকেননি। সরকারি বরাদ্দের জন্য ঘুরেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। তবে অবশেষে তিনি সফল হন। ১৯১৮ইং সালের ২৫ মে ভারত সরকার বার্ষিক একটাকা খজনার বিনিময়ে রাজেন্দ্র কলেজের জন্য ৫.৫৫ একর জমি বরাদ্দ দেন এবং ঐ সালের ১১ জুন কলেজ ভবন নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। অবশেষে ১৯১৮ইং সালের ৩০ জুলাই রাজেন্দ্র কলেজের উদ্বোধন করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঐ কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ ও লেখক প্রফেসর মোশার্রফ আলী জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুনামের ধারা আজও অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও কলেজটি ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের গৌরব অর্জন করেছে। তিনি আরো জানান, এই গৌরবজ্জল প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ইং সালে জাঁকজমকপূর্ণভাবে তার শতবর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ইতিহাস