লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামায় বালু খেকোদের মধ্যে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে ঈদ আনন্দ। উপজেলার ফাঁসিয়ালিতে প্রায় পাঁচ লক্ষ ঘনফুট বালু নিলামে কেনার মধ্যদিয়ে তাদের এই ঈদ আনন্দ শুরু হয়। এরআগে একইভাবে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে এই ঈদ আনন্দ উপভোগ করে পাথর, বাঁশ ও গাছ খেকোরা। এসব ধংস হওয়ার পর এবার নতুন উদ্যোমে শুরু হলো পাহাড়ি খাল, ঝিরি, ঝর্ণা ও বালুময় পাহাড় ধংসের পালা।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২৯ মে) বিকেলে লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় ৫ লক্ষ ঘনফুট বালু উম্মুক্ত নিলামে (ইজারায়) বিক্রি করে দিয়েছে লামা উপজেলা প্রশাসন। এদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্টে মো. রেজা রশীদ এবং বিজিবি সদস্যদের নিয়ে এক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫লক্ষ ঘনফুট উত্তোলন করা বালু জব্দ করে। পরে জব্দকৃত সেসব বালু সেই বালু চোরদের উপস্থিতিতেই নিলামে বিক্রি করে দেন। আর এই সুযোগটি লুফে নেয় পুরোনো পরিচিয়ত সেই বালু খেকোরা।
স্থানীয় বন ও পরিবেশ রক্ষা পরিষদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের এই নিলাম পত্রের অসৎ ব্যবহারে এবার ধংসের মুখে পড়তে যাচ্ছে লামার বালুময় ছোট-বড় পাহাড়, খাল, ঝিরি ও ঝর্ণা। ক্রয়কৃত এই বালুর পত্র দেখিয়ে এখন বেপরোয়া ভাবে পুরো বছর জুড়েই চলবে এই এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার বালুময় ছোট-বড় পাহাড়, খাল, ঝিরি ও ঝর্ণার বালু উত্তোলন।
যদিও শুধুমাত্র উত্তোলন করে পাচারের অক্ষোয় রাখা বালু ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জব্দ করার পর তা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এর বাহিরে এক চিমটি বালুও নেওয়া সুযোগ নেই বলে জানান উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।
লামা উপজেরা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজা রশীদ বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার (২ মে) বিকেলে লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ফকিরাখোলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। সেসময় ঘটনাস্থল থেকে ৫ লক্ষ ঘনফুট বালু জব্দ করে তা নিলাম বিক্রি করা হয়েছে।
এছাড়া সেখানে বালু তোলার কাজে ব্যবহৃত বেশকিছু শ্যালো মেশিনসহ সরঞ্জামাদি ধংস করা হয়েছে।
স্থানীয়রা সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ইতিপূর্বে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর জব্দকরে নিলামে বিক্রি করেছে উপজেলা প্রশাসন। আর সেই নিলামপত্র দেখিয়ে পাথর খেকো সি-িকেট ধংস করেছে লামা-আলীকদমের সব ঝিরি, ঝর্ণা ও পাথরের পাদদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ পাথর। একইভাবে ধংষ করা হয়েছে বাঁশ, গাঁছসহ বনজ সম্পদ। এবার উপজেলার পাহাড়, খাল ও ঝিরি ঝর্ণার বালু শেষ করবে কথিত এই নিলাম পত্রের বৈধতা নিয়ে।
উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া এই নিলামপত্রে অসৎ ব্যবহার ঠেকাতে এবার শুধুমাত্র নিলামে বিক্রিকরা বালুগুলো উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে স্থান্তরের ব্যবস্থা করার দাবী জানান উপজেলার এই সচেতন মহল।