বাংলার দর্পন ডটকম : এই কারখানায় সবচেয়ে ছোট কর্মী আমি। এইজন্য সবাই খুব আদর করে আমাকে। কাপড়ের সব কাজ শেষ হয়ে যাবার পর প্যাকিংয়ে থাকি আমি। সবকিছু গোছানো থাকে। আমি শুধু লেভেল দেখে প্যাকেজিং করি। বেশ কঠিন না, সবাই সাহায্য করে তাই আরো সহজেই হয়ে যায়। কিন্তু তবুও আমি মাঝে মাঝে গন্ডগোল করে ফেলি। ম্যানেজার স্যার এসে দেখলে কিছুটা রাগ করে। তবুও কেন যেন আমাকে বকা দিতে পারেনা। অবশ্য ভুল হলে বাকী সবাই সাহায্য করে সেটা তাড়াতাড়ি ঠিকও করে ফেলি।
বাড়িতে আমি শ্বশুর, শাশুড়ি আর স্বামীর সাথে থাকি। সদ্যই বিয়ে হয়েছে আমাদের। শাশুড়ি সারাক্ষণই আমার চাকরি নিয়ে বিভিন্নভাবে কথা শোনায়, গাল-মন্দ করে। প্রতিদিন বাসায় যেয়ে রান্না করে, শ্বশুর শাশুড়ি’কে খাইয়ে, সব পরিষ্কার করে তারপর বিশ্রাম নেই। তবুও শুনতে হয় আমি নাকি কোন কাজই করি না। তবে আমার স্বামী বলে এসব খুব একটা পাত্তা না দিতে, সব ঠিক হয়ে যাবে। বাসায় যতক্ষণ থাকি, আমি যেন নিঃশ্বাস নিতে পারিনা। আর যতক্ষণ কাজ করি, এই বদ্ধ ঘরে কাজের মধ্যেও মনে হয় আমি ভালো আছি, প্রানভরে নিঃশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছি সবার সাথে।” – একটি তৈরি পোশাক কারখানার প্যাকিংয়ে নিযুক্ত কর্মী।