শ্রীলঙ্কাকে ৪৬ রানে পরাজিত করলো বাংলাদেশ 

 

বাংলার দর্পন

স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কাকে ৪৬ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মোস্তাফিজের তোপে মুখ থুবড়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান করে মালিঙ্গার দল।

শ্রীলঙ্কা শিবিরে প্রথম দুটি আঘাতই হানেন সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারকেই ফিরিয়ে দেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহ বিদায় করেন লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গাকে। এরপর নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত। প্রথম দুই বলেই আসেলা গুনারত্নে ও মিলিন্দা সিরিওয়ার্দানেকে ফিরিয়ে দিয়ে মোস্তাফিজ জাগিয়ে ছিলেন হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা। কিন্তু লাসিথ মালিঙ্গার মতো তার সেই আশা পূরণ হয়নি। হতে দেননি থিসারা পেরেরা। তবে হ্যাটট্রিক না হলেও লঙ্কান ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মোস্তাফিজ।

এর আগে টস জিতে নিজের বিদায়ী এবং সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হারিয়ে করে ১৭৬ রান। সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ৭১ রান। সেটাও মাত্র ৬.২ ওভারে। সৌম্য-ইমরুলের এনে দেয়া এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এক পর্যায়ে প্রথম ১০ ওভারেই বাংলাদেশ তুলে ফেলে ১০১ রান। ১২ ওভারে ১১৮। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে তখন বাংলাদেশের স্কোর প্রথম বারের মতো ২০০ পেরোনোরই আভাস। কারণ তখনো ৮ ওভার বাকি, হাতে ৮টি উইকেট। কিন্তু ২০০ ছোঁয়া তো হলোই না, হলো না লঙ্কানদের বিপক্ষে করা এর আগে করা সর্বোচ্চ ১৮১ পেরিয়ে যাওয়াও। বাংলাদেশের ইনিংস বরং আটকে গেল ১৭৬ রানেই। লাসিথ মালিঙ্গার হ্যাটট্রিক জাদুর কারণে শেষ ৮ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে মাত্র ৫৮ রান। হারায় ৭টি উইকেট।

কোমরের চোটের কারণে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে নেই তামিম ইকবাল। তার পরিবর্তে একাদশে ঢুকেছেন ইমরুল কায়েস। সৌম্যর সঙ্গে ইনিংস ওপেন করেন তিনিই। তো সৌম্য-ইমরুল দারুণ একটা সূচনাই এনে দিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু দারুণ সেই পথ চলায় হঠাৎই ছন্দপতন। যুগপত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান সৌম্য-ইমরুল দুজনেই। সৌম্যকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত ওপেনিং জুটিটা ভাঙেন আসেলা গুনারত্নে। একটু পর ইমরুল রান আউট। আউট হওয়ার আগে সৌম্য ১৭ বলে ৩৪ ও ইমরুল ২৫ বলে করেছেন ৩৬ রান। দুই ওপেনারকে হারানোর পরও রানের চাকা ঠিক রেখেছিলেন সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন। কিন্তু দলকে ১২৪ রানে রেখে সাব্বিরের বিদায়ের পরই মোড়কটা লাগে বাংলাদেশ ইনিংসে। ১৮ বলে ১৯ রান করা সাব্বিরকে বিদায় করেন ভিকুম সঞ্জয়া। একটু পর ৩১ বলে ৩৮ রান করা সাকিবও আউট। তাকে বোল্ড করে দেন নুয়ান কুলাসেকারা। তার খানিক পর মোসাদ্দেককে ফেরান থিসারা পেরেরা।

এরপরই মালিঙ্গার হ্যাটট্রিক ম্যাজিক। যার শুরুটা মুশফিকুর রহীমকে দিয়ে। এক ছক্কা এক চারে ৬ বলে ১৫ রান করে মুশফিক বোল্ড। পরের বলে মাশরাফিও বোল্ড। নিজের বিদায়ী ম্যাচে আজন্ম লড়াকু মাশরাফি গোল্ডেন ডাক! শূন্য রানেআউট হয়ে মাশরাফি স্মরণ করিয়ে দেন ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে। মাশরাফিকে বিদায় করে দিয়ে মালিঙ্গা দাঁড়িয়ে যান হ্যাট্রিকের দরজায়। অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ লঙ্কান পেসারের সেই আশা পূরণ করে দিয়েছেন। অভিষেকেই গোল্ডেন ডাক মেরে!

মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচটা বাংলাদেশের বাঁচা-মরার ছিলো। সিরিজ ১-১ শেষ হলো। টেস্ট-ওয়ানডের পর টি-টুয়েন্টি সিরিজটাও ১-১। এর ফলে মাশরাফির বিদায়টাও হলো স্মরণীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *