গিয়াস উদ্দিন রনি, নোয়াখালী-
বাংলাদেশ আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সাথে বিরোধের জেরে আ’লীগের দু’টি গ্রুপ পৃথক ভাবে কোম্পানীগঞ্জে ৭ই মার্চ উদযাপন করেছে।
রোববার (৭ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে বসুরহাট নুরুল হক বীর উত্তম (ডাক বাংলো) প্রাঙ্গণে বড় সমাবেশ করে মির্জা বিরাধী পক্ষ।
সমাবেশে বসুরহাট পৌরসভা ও আট ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে। পরে সমাবেশ শেষে তারা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্প্য মাল্য অর্পণ করে।
সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন, স্বাধীণতা ব্যাংকার্স পরিষদ সসদ্য ফখরুল ইসলাম রাহাত প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে অপরাজনীতির হোতা হিসেবে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন।
অপরদিকে, ৭ই মার্চ জাতীয় দিবস উপলক্ষে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে রোববার (৭ মার্চ) সকাল ১১টায় বসুরহাট পৌরসভার পৌরহলে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টার দিকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে বসুরহাট বাজারের বঙ্গবন্ধু চত্তরে ৭ই মার্চ উপলক্ষে পুষ্প মাল্য অর্পণ করা হয়।
এ ছাড়াও,৭ই মার্চ উপলক্ষে বসুরহাট পৌরসভার বঙ্গবন্ধু চত্বরে বিকেল চারটায় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।
উল্লেখ্য, একই সময়ে দু’টি গ্রুপের কাছাকাছি স্থানে পাল্টাপাল্টি ৭ই মার্চ উদযাপন কে ঘিরে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝেও নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
প্রসঙ্গত, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা গত দুই মাস থেকে বড় ভাই ওবায়দুল কাদের, ভাবী ইসরাতুন্নেছা কাদের, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিয়ে আসছেন। পরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাদের মির্জার সমর্থকদের সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থকদের স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মৃত্যুর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে জেলা আওয়ামী লীগ।