কাগতিয়া মাদরাসা যেন দারুল হিকমাত : ৮৬তম এনামী জলসায় বক্তারা

 

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

কাগতিয়া মাদরাসার অবকাঠামো, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অধ্যক্ষ মহোদয়ের দক্ষতা ইত্যাদি দেখে মনে হচ্ছে এ মাদরাসা একদিন মুসলিম মিল্লাতের জন্য নব্য দারুল হিকমাত তথা ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। মুসলিম মিল্লাতের এ ছন্দপতনের মূল কারণ ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে উদাসীনতা। ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য প্রয়োজন মান সম্মত গবেষণাগার, লাইব্রেরি, অবকাঠামো এবং শান্ত পরিবেশ। যার সবই কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসায় বিদ্যমান। এ মাদরাসার অধ্যক্ষ মহোদয় মাদরাসার উন্নয়নে, শিক্ষার অগ্রগতি এবং ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসারে যে উদারতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তাতে মনে হয় একদিন এ মাদরাসা বিশ^খ্যাতি অর্জন করবে। ইলমে জাহির-বাতিনের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ মাদরাসা অন্যতম। কারণ এ মাদরাসার প্রাণপুরুষ হলেন আধ্যাত্মিক মহা মনীষী হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)। যাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা, অবদান ও কুরবানির বিনিময়ে এ মাদরাসার সুনাম এশিয়া মহাদেশের গন্ডি পেরিয়ে গেছে।

গতকাল ১৮নভেম্বর, শনিবার চট্টগ্রাম কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম. এ. মাদরাসার ৮৬তম এনামী জলসায় অতিথিবৃন্দ এ কথা বলেন।

ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার গভীর সমন্বয় উপলব্ধি করে অতিথিগণ মাদরাসার অধ্যক্ষ মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলীর ভূঁয়সী প্রশংসা করেন এবং আধুনিক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলতে এমন উদার দ্বীনি মনোভাবাপন্ন মনীষীর একান্ত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে এনামী জলসায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছিনের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বির আহমদ মোমতাজী।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের মাননীয় উপ-সচিব জনাব সুবোধ চন্দ্র ডালী, উপ-সচিব জনাব মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত সহকারি সচিব মোহাম্মদ নূর খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. এস. এম. রফিকুল আলম, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মানজুরুর রহমান। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফী, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুহাম্মদ এমদাদুল হক মুনিরী, মুফতি কাজী আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, মুহাদ্দিস আল্লামা আশেকুর রহমান, আল্লামা সেকান্দর আলী প্রমুখ।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে হুজুর ক্বেবলা দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর রূহানী নজর ও ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *