নোয়াখালী সুবর্নচরে স্বামীকে জবাই করে হত্যা করলো পাষণ্ড স্ত্রী, ঘাতক আটক

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলায় ২ সন্তানের জননীর হাতে নির্মম ভাবে খুন হলেন অসহায় স্বামী।  ঘটনাটি ঘটে সুবর্নচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে।
স্বরজমিনে গিয়ে জানাযায়, উক্ত গ্রামের শাহ আলমের পুত্র শহিদ উল্যাহ (৩৩) এর সাথে একই গ্রামের মৃত ইলিয়াসের কন্যা শরিফা বেগম (২৭) এর সাথে ৭ বছর আগে সামাজিক ভাবে  বিয়ে হয়,  বেশ কয়েক বছর সংসার বেশ সুখেই চলছিল,  সম্প্রীত শরিফা খাতুন জানতে পারেন স্বামী শহিদ উল্যাহ আরেকটি বিয়ে করেছেন এ নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক কলহ।  গতকাল সকালে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্য ঝগড়া ঝাটি হয় রাতে সামাজিক গন্যমান্য ব্যাক্তিরা এটি  সালিশের বৈঠক করে  এতে তারা   জানতে পারেন শহিদ উল্যাহ বিয়ের বিষয়টি ছিল মিথ্যা এতে শরিফা খাতুন মানতে নারাজ হওয়ায় শহিদ উল্যাহকে  কে তার বাবার বসত  ঘরে থাকতে বলেন বিচারকারিরা।  রাতে শহিদ উল্যাহ  তার বড় মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।  ভোর রাত ৩টার সময় ঘাতক শরিফা বেগম তার ঘর থেকে উঠে এসে সহিদের ঘরে দরজা কড়া নেড়ে তার শাশুড়িকে বলেন আমি আমার স্বামীর সাথে থাকবো পরে তিনি ঘরে প্রবেশ করে শহিদ উল্যার সাথে শুয়ে পড়েন,  রাত ৪টার সময় ঘরে ঘরে থাকা দা  নিয়ে সহিদ উল্যাহকে কোপ মারে এতে শহিদের গলার অধিকাংশ কেটে যায় বাচার জন্য দস্তাদস্তি করে এবং ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে শিশু সালমা শৌর চিৎকারে ঘরের অন্য সদস্যরা উঠে শরিফাকে আটক করে শহিদ সে মাইদজী জেনারেল হাসপালে প্রেরন করে,  হাসপালে যাওয়ার পথেই সে মারা যায়।  ঘাতকের হাতে ২টি বিষের বোতল পান, সবাই ধারনা করছেন স্বামীকে মেরে নিজে বিষপানে আত্তহত্যা করার উদ্দ্যশ্য ছিল তার।  এব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার রুহুল আমিন জানান, খুনের বিষয়টি আমরা শুনেই ঘটনার স্থলে ছুটে আসি,  তাদের মধ্য দির্ঘদিন থেকে  পারিবারিক ভাবে কলহ ছিল পরে সামাজিক সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করছি,  কিন্ত ঘাতক মানতে রাজি হয়নি  তাই সে  ক্ষিপ্ত হয়ে এই খুনটি করেছে।  তাদের ঘরে সালমা (৫) এবং  জাহেদ ( ১)  ছেলে সন্তান  রয়েছে । চর জব্বর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘাতক শরিফা বেগম কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এব্যাপারে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে,  লাশ মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।  ময়না তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাযাবে। সহিদের মৃত্যুতে তার বাবা মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মৃতের ভাইবোন, এলাকায় চলছে শোকের মাতম, এলাকাবাসি জানান সহিদ খুব সাদাসিধে যুবক ছিলেন কোনদিন কারো সাথে বাকবিতণ্ডা হয়নি। অবুঝ ২ শিশু নিথর হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়, শিশু কন্যারটির পুরো গায়ে লেগে রয়েছে বাবার তাজা রক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *