ফেনী প্রতিনিধি : সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুরে হিন্দু নারীকে শ্লীনতাহানীর মামলার প্রধান অাসামী শেখ ফরিদকে ২জুন শুক্রবার বিকালে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের দাসপাডায় হিন্দুপল্লির লোকজন পুকুর না থাকায় আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব নবী ফরহাদের বাড়ীর পুকুর ব্যবহার করেন। ফরহাদের পরিবার ফেনীতে থাকায় বাডীটি প্রায় নির্জন, সেই সুযোগে পাশের বাডীর আমিনুল হকের ছেলে বখাটে শেখ ফরিদ(৩২) পুকুর ঘাটে হিন্দু মেয়েদের প্রায়ই উত্যক্ত করতো।
জানা যায়, প্রতিদিনকার মত গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পানি আনতে যায় দাসপাডার রবি দাসের (ছদ্মনাম) স্ত্রী ঐশী(ছদ্মনাম) (১৯)। পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা বখাটে শেখ ফরিদ,ঐশী কে একা পেয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। ঐশীর অাত্নচিৎকারে ওই বাডীর কেয়ারটেকার এমরান হোসেন এগিয়ে এসে ঐশীকে উদ্ধার করে বাডীতে পৌঁছে দেন। ভুক্তভোগী ঐশীর স্বামী রবি ছুটেযান সমাজপতিদের কাছে, হিন্দুপরিবার বলে সমাজপতিরা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার দুলাল বিষয়টি সমাধান করবে বলে ৩দিন পার করে দিয়েছে এবং কাউকে না জানাতে ধর্ষক শেখফরিদ অব্যহত হুমকি দিতে থাকে।
বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব নবী ফরহাদ জানতে পেরে তাৎক্ষনিক সোনাগাজী মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির কে জানান। ওসি সাথে সাথে নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিম ঐশী কে উদ্ধার করে নিজের গাডী করে থানায় নিয়ে মামলা দেয়ার পরামর্শ দেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান ,লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহযোগীতায় শেখ ফরিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অারো অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব নবী ফরহাদ জানান,দাসপাড়া গ্রামের হিন্দুরা ২০ বছরধরে অামাদের বাডীর পুকুর ব্যবহার করছেন এবং আমরা তাদের জন্য ঘাটলা করে দিয়েছি। মঙ্গলবারের ওই অনাকাঙ্খীত ঘটনার কথা শুনে পুলিশ অবহিত করেছি। পুলিশ তাৎক্ষনিক ব্যাবস্থা নিয়েছে। শেখ ফরিদ কে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয়দের সহযোগীতা চাই।
নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী রবি জানান, আমার স্ত্রীকে শেখ ফরিদ জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করেছে এবং আমাকে বাডী এসে হুমকি দিয়েছে আমি যাতে কাউকে না জানাই এবং কি মামলা করলে আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।