গাজীপুরের টঙ্গীতে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ

জাহিদ হোসেন জিহাদ: টঙ্গীর আরিচপুর বৌ-বাজার রেলগেইট এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধু মুক্ত বেগমকে হত্যা করেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানা যায়, মুক্তার স্বামী আরিফ হোসেন দীর্ঘ ৪ বছর পূর্বে মুক্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং তার বাবা নাসিরউদ্দিনকে খুন করার হুমকি দিয়ে মুক্তাকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই মুক্তার উপর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলছে। এক পর্যায়ে মুক্তা তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে বিষয়টি জানানিয়ে বলেন, আমি যদি আরিফকে বিয়ে না করি তাহলে আরিফ বখাটে ছেলে তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদের পরিবারটি মাদক ব্যবসাসহ সমাজের অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত। এছাড়া তার বাশুর বাইচতা শামীম একজন সন্ত্রাসী। তারা আমার বাবাকে মেরে ফেলতে দিধাবোধ করবে না। আমার বাবার জীবন বাঁচাতে গিয়ে আমি আরিফকে বিয়ে করি। বিয়ের পর থেকেই আরিফের পরিবারের লোকজন আমার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। কিন্তু আরিফ এবং আমার সংসারে আবিফা নামের একটি আড়াই বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি সকল অত্যাচার সহয্য করে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে গত ৪/৫দিন যাবত আরিফ ও তার পরিবাররের লোকজন আমার বাবার কাছ থেকে ৫লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে এবং আমাকে ৫লাখ টাকা এনে না দিলে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং টাকার কথা মুক্তার বাবাকে জানানোর পর তার মা টাকা দিতে অস্বীকার করলে মুক্তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।  মুক্তার মা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তা তার মাকে মোবাইল ফোনে জানান মা আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমার আর অত্যাচার, নির্যাতন সহ্যকরতে পারছি না। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, তখন কি আমার লাশ নিতেও তোমারা আসবে না। গত বৃহস্পতিবার আরিফের পরিবাররের লোকজন মোবাইল ফোনে মুক্তার বাবা মাকে জানান মুক্তা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মুক্তার পরিবারের লোকজন জানান, মুক্তাকে হত্যা করা হয়েছে। টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতন্ত শেষে আরিচপুর রেলগেইট এলাকায় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়। মুক্তার বাবা বলেন, আমার মুক্তার বয়স যখন ১৫ বছর তখন আরিফ আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে। আমার জীবন বাঁচাতে গিয়ে মুক্তা আরিফকে বিয়ে করেছে। কিন্তু আজ আমি বেঁচে আছি, কিন্তু আমার মেয়ে দুনিয়া থেকে অত্যাচার ও নির্যাতন নিয়ে চলে গেছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। আমার মেয়েকে আরিফ ও তার পরিবারের লোকজন হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে আরিফ ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। মুক্তার বাবা আরো বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে আমার মেয়ের সুষ্ঠু বিচারের জন্য আমি আদালতে মামলা করবো। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *