প্রতিবেদক :
বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কিছু কিছু দেশ এর মধ্যে সফলতাও পেয়েছে। বাংলাদেশীয় করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই নাজুক।
বাংলাদেশী এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার, মৃতের সংখ্যা শতাধিক। ফেনীতে ইতিমধ্যে ২ জন আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে ফেনীতে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছরই হাজার কোটি টাকা চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ দেয়া হলেও এর সঠিক ব্যবহার এবং কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে জনগণ সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। আইসিও, ভেন্টিলেশন, চিকিৎসা খাতে টেন্ডার বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-লুটপাট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন ফেনীর রাজনৈতিক অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।
নাসিম চৌধুরী আরো বলেন,“ফেনী জেলার কোন হাসপাতালে আইসিইউ নাই। পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহেও তাই।অবাক হয়ে গেলাম। এই আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা? লোকজন যাবে কোথায়? শুধু ঢাকা? করোনাকে কেন্দ্র করে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন বা ডায়াবেটিক হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে আইসিইউ স্থাপন করা যায় কিনা সে ব্যাপারে এমপি নিজাম হাজারী’র সাথে আলোচনাক্রমে খোঁজ খবর নিই। ৩ কোটি টাকার মধ্যে ৫ শয্যাবিশিষ্ট ‘ভেন্টিলেশন’ সুবিধাসহ আইসিইউ স্থাপন স্থাপন করা সম্ভব বলে জানতে পারি। এত কম টাকার জন্য জেলা পর্যায়ে হাসপাতালসমুহে আইসিইউ নাই।
এটা ভাবতেও অবাক লাগছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিগত ১২ বছরে কত বরাদ্ধ স্বাস্থ্য খাতে দিয়েছেন আর তা কোন কালো গর্তে (Black hole) হারিয়ে গেছে তা খবর নেয়ার সময় এসেছে। ৩ মেয়াদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নাই। তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হত তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমুহও সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ অন্তত ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ থাকার কথা।
সব সেক্টরের সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘জি কে শামীম’দের সিন্ডিকেট আজ এ দুরাবস্থার জন্য দায়ী। জিকে শামীমরা ব্যবসায়ী, তারা তাদের ব্যবসার সুবিধার জন্য কর্তাব্যক্তিদের ব্যবহার করতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা এমপি-মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে এবং সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে সৎভাবে কার্যসম্পাদনের মুচলেকা দিয়ে চাকুরীতে ঢুকে লুটেরাদের লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছেন নিজে লাভবান হয়ে । তাদের না ধরে জিকে শামীমদের জেলে পুরে সমস্যার সমাধান হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সহ অন্যান্য মন্ত্রনালয়ের জিকে শামীমদের এবং তাদের লুটপাট চিহ্নিত করে তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরসহ আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।
বিএমএ এবং স্বাচিব কে অনুরোধ করব ডাক্তারদের নিয়োগ-বদলী ‘Departmental proceeding’ এর দিকে নজর না দিয়ে লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। প্রত্যেকটা হাসপাতালে বাজারের প্রতিযোগিতা মুলক মূল্যে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতকরণের ব্যবস্হা করুন। প্রত্যেকটা টেন্ডারের সর্বনিন্ম মূল্যের সাথে বাজার মুল্য মিলিয়ে দেখুন। অনিয়ম এবং মুল্যের ব্যাপক ফারাক দেখলে সেখানেই প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ করুন। এদেশ শুধু মন্ত্রী-সচিব-ডিজি’র নয়। এদেশ আমাদের সবার।
>আজ করোনা সংক্রমনের এ পর্যায়ে এসে অবশ্যই বুঝতে পারছেন সাধারন রোগীদের থেকে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশী বিপদসংকুল অবস্থায় আছেন। সঠিক সময়ে বিএমএ এবং স্বাচিব এ বিষয়ে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন বেহাল অবস্থা হয়ত হত না। কারন বিএমএ এবং স্বাচিব নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে যেকোন সময় কোন নিয়ম- অনিয়মের বিষয়ে জানানোর ক্ষমতা রাখেন। অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।”
#বাংলার দর্পন।