Main Menu

শ্রেণীকক্ষেই ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে লম্পট শিক্ষক !

রংপুর প্রতিনিধি,প্রকাশঃ ১১-১১-২০১৬,।

স্কুল শেষে কৌশলে আটকে রেখে শ্রেণিকক্ষেই ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে । এ ধর্ষণ ঘটনার দৃশ্য আড়াল থেকে স্থানীয় দুই যুবক তাদের মোবাইলে ধারন করেছিলেন, তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সে ভিডিও ধর্ষক শিক্ষককেই দিয়ে দিয়েছেন তারা। এমনটাই অভিযোগ ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয়দের ।
এদিকে, স্থানীয় শালিশ ও দেনদরবারের মধ্যেই অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক চম্পট দিয়েছেন। পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে বে-আইনি তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ মিলেছে । এনিয়ে গতকদিন ধরেই পুরো এলাকাজুড়েই চলছে উত্তেজনা। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবারও সারাদিন স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দফায় দফায় মিছিল করেছে স্থানীয়রা। এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইউপি চেয়ারমান আব্দুল আউয়াল বৈঠকের কথা অস্বীকার করে বলেন আমরা জনপ্রতিনিধি। বিভিন্ন বিচার শালিস করতে হয়।
চাকাটা ইউনিয়নের ছোট ছড়ার পাড় গ্রামের ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী ও তার পরিবারে অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুল ছুটির পর নায়কেরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের কাছে গণিত প্রাইভেট পড়ত সে ।
গত ২ নভেম্বর প্রাইভেট শেষে তার সহপাঠিরা চলে গেলে শিক্ষকের কথামত সে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দিচ্ছিল। এসময় ওই শিক্ষক কক্ষের দরজা লাগিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। শত কান্নাকাটিতেও শিক্ষকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সে’ ! ধর্ষণের পর বাড়তি সুবিধার লোভ সহ ঐ শিক্ষার্থীকে হুমকিও দেখায় ঐ লম্পট শিক্ষক। এরপর বিকেলে বাড়ি ফিরে বিষয়টি সে তার মাকে জানায়।
ঘটনার সময় স্কুলের জানালা দিয়ে ‘গোপনে’ ওই যৌন নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে একই এলাকার রাকিব ও ভেদাং নামের দুই যুবক। পরে তারা সেই ভিডিওটি স্থানীয় কয়েকজনকে দেখায়।
স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা গেলো, ‘ধর্ষণের জলজ্যান্ত সাক্ষী ঐ ভিডিও দিয়ে শাস্তি যে নিশ্চিত সেটা লম্পট শিক্ষক হয়তো ভালো ভাবেই আচ করেছিলো। আর সেই সুযোগে রাকিব ও ভেদাং গং ‘মোক্ষম সুযোগ’কে কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ‘ধর্ষণের জলজ্যান্ত সাক্ষী ঐ ভিডিও’ তুলে দেয় ঐ লম্পট শিক্ষকের হাতেই। তবে নিজেদের সাফাইয়ে ভেদাং ও রাকিব নামের স্থানীয় ঐ দুই যুবক জানিয়েছে, ঐ শিক্ষক তাদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে মাফ চেয়েছে তাই তাদের মোবাইল থেকে ঐ ভিডিও মুছে ফেলেছে তারা। ”
ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর অসহায় দরীদ্র মা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান , ” প্রধান শিক্ষক জাহান আলীর কাছে এর বিচার দাবি করলে তিনি বলেন গোপনে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা যাতে এসব প্রকাশ না করি। পরে তিনি ওই শিক্ষককে তিন দিনের ছুটি দেন।”
অন্যদিকে, ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহান আলী বলেন, ” মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এ সুযোগে ধর্ষক ওই শিক্ষক গা-ঢাকা দিয়েছেন। তার বাড়িতে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। তাই আমি কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি ”
স্থানীয় সুত্র ও ধর্ষিতার পরিবার জানিয়েছে, কচাকাটা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল গত রোববার স্থানীয় গোলাম মোস্তফার বাড়িতে সালিশি বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষকের দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে ধর্ষিতার পরিবারকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করতে নিষেধ করেন।
এদিকে, ধর্ষিতার চাচি জানিয়েছেন, তারা বিচার না মানলেও, আউয়াল চেয়ারম্যান জোর করে তার হাতে এ টাকা তুলে দেন। যা তার কাছে এখনও জমা আছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহ বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ও ইসাহাক আলীকে বৃহস্পতিবার সরেজমিন তদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *