ফেনীতে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারনে আওয়ামীলীগে বিভাজন, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়ার দাবি | বাংলারদর্পন

ফেনী প্রতিনিধি :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ (ফুলগাজী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ ও ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশারকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অংগসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাভিবক্ত হয়ে পড়েছেন। এই দ্বিধাবিভক্ত কোথাও কোথাও সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন নিয়ে শংকায় রয়েছেন ভোটারা। তৃনমুল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা চান, ওই দুই প্রার্থী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়া দরকার।

সূত্রে জানা গেছে, এই দ্বিধাবিভক্তির জের ধরে দাগনভূঞায় ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দুধমুখা বাজারে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাজোট প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর (লাঙ্গল) সমর্থক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার (আপেল) সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আপেল প্রতীকের প্রার্থী আবুল বাশারের নির্বাচনী কার্যালয় ও মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকদের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার জন্য দুই পক্ষেই পরস্পরকে দায়ী করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও প্রার্থী বাশারের সমর্থক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আবছার অভিযোগ করেন, ওই দিন বিকেলে এতিমখানা বাজারে আবুল বাশারের নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর সময় তাদের সমর্থক রহমানকে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ ও তার সহযোগীরা। সন্ধ্যায় তারা আবার দুধমুখা বাজারের আবুল বাশারের কেন্দ্র কমিটির সভা চলাকালীন সময়ে হামলা করতে গেলে বাশার সমর্থকরা তাদের ধাওয়া দেয়।

এসময় তারা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে বাশার সমর্থকরা সেই মোটরসাইকেল দুটি ভাঙচুর করে। এ সময় অন্তত তিনজন আহত হয়। তাদের নাম জানা যায়নি। কিছুক্ষণ পরে মহাজোট সমর্থকরা পুনঃরায় একত্রিত হয়ে দুধমুখা বাজারে আবুল বাশারের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় জগতপুর গ্রামের নূরার টেক এলাকায় বাসার গ্রুপের হাসান ও কামরুলকে মারধর করে। আহতদের দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা মো. রাশেদ অভিযোগ করেন, তারা ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বাশার সমর্থক তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা ও তাদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

ঘটনার পর দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছালেহ আহম্মদ পাঠান জানান, ছোটখাটো ঘটনার কথা শুনেছি। তবে কোন পক্ষই থানায় মামলা বা অভিযোগ দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *