Main Menu

অাওয়ামীলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় অা’লীগের ৩৯ নেতাকর্মীর মৃত্যুদন্ড : লাভবান কারা ?

 

সৈয়দ মনির অাহমদ >>

 

১৯৮৬ সন থেকে ফেনীর উত্তরাঞ্চল থেকে মেধাবী এক ছাত্রনেতা ফেনীর ছাত্র রাজনীতিতে ভুমিকা রেখে এগিয়ে চলছিল সামনের দিকে।  খুব কম সময়ে মেধা ও ভালোবাসা দিয়ে জেলা সংগঠনে নিজের জন্য সর্বোচ্চ  স্থান করে নিয়েছিলেন।১৯৯৭ সনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০১ সনে দলের দুঃসময়েও জেলা ব্যাপি দলের জন্য কাজ করেছেন। প্রতিপক্ষের চেয়ারপার্সন এলাকায় প্রকাশ্যে রাজনীতি করা বেশ কঠিন বিষয়। সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই অসম্ভব কে সম্ভব করে  ২০০৯ সালে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন, এর পর উপজেলা অাওয়ামীলীগের সভাপতি হলেন, অাবার ২০১৪ সনে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন। ফেনীর আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক পরিবর্তনেও তার ভুমিকা ছিল।  ক্ষমতা ও অর্থের দ্বন্ধে স্বদলীয়দের রোষানলে পড়েন তিনি। ২০১৪ সনের ২০ মে ফেনীর একাডেমি এলাকায় সকাল ১১টায় প্রকাশ্য দিবালোকে ইতিহাস তৈরি করে নৃশংসভাবে খুন হন সেই অালোচিত, সমালোচিত বীর “একরামুল হক একরাম “।

 

স্ত্রী,  দুসন্তান, পরিবার পরিজন, দলের নেতাকর্মী সহ ফেনীর লক্ষ জনতার অাহাজারি বিশ্বব্যাপী নাড়া দিয়েছিল। ছোটভাই বাদী হয়ে কারো ইশারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  হত্যা মামলায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী  বিএনপি নেতাকে অাসামি করা হলো। কিন্তু ঘটনার পরদিন একটি ভিডিও প্রকাশ হলে সব হিসেব পাল্টে যায়। র‍্যাব ও পুলিশ সেই ভিডিওর সুত্র ধরে ২৪ জন অা’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীকে অাটক করেন।  ১৬ জন অাসামী অাদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তড়িঘড়ি করে ৫৬ জন কে অাসামী করে সার্জশিট দেয়।  ১০ জন অাসামি ঘটনার পর থেকে পলাতক অাছেন, ৮ জন  জামিনে বেরিয়ে দেশ ত্যাগ করেছে, ১ জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

 

সর্বশেষ ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেলে ৩৯ জন অাওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের  নেতাকর্মীকে খুনি সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যক্রমের রায় দেন জজ অাদালত।     এর মধ্যে জেলা অা’লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর অাদেল, ফুলগাজী অা’লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ চৌধুরী, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধি শিভলু সহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অা’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের অনেক ত্যাগি নেতাকর্মী রয়েছেন।

 

গত ৪ বছর ধরে জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন অারো ১৬জন অা’লীগ নেতা কর্মী। যারমধ্যে অন্যতম প্রতিপক্ষের জুলুম, নির্যাতন, মামলা, হামলার শিকার সকলের পরিচিত ও জনপ্রিয় যুবনেতা জিয়াউল অালম মিস্টারও রয়েছেন।

 

অাদালতের ভাস্যমতে, পরিকল্পিত এ হত্যাকান্ড শুধুই রাজনৈতিক অাধিপত্য বিস্তারের কারনে ষড়যন্ত্র মুলকভাবে স্বদলীয় দের পরিকল্পনায় স্বদলীয় নেতাকর্মীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

 

রায় ঘোষনার এজলাশে কান্নার অাওয়াজ, অাদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের অাহাজারি, কারাফটকে স্বজনদের অাহাজারি সবই অা’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের হতভাগা পরিবার।

 

রাষ্ট্রীয় দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে, এ হত্যাকান্ডে দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকারের চলমান শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাজনীতিতে এটি একটি কালো অধ্যায়। বিরোধী পক্ষ দারুন একটি ইস্যু পেয়েছে।  দেশের আইনশৃঙ্খলা সহজে চিত্রায়িত করতে এটি উদাহরণ হিসেবে ব্যাবহার করছে তারা।

 

একজন দলীয় নেতা খুনের দায়ে অারো অনেক প্রক্রিয়ায় ফাঁসির মঞ্চের দিকে যেতে হবে এই ৩৯ জন স্বদলীয় নেতাকর্মী।

 

এতসব ক্ষতি একটি সুসংগঠিত, গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল অাওয়ামীলীগের।

কিন্তু লাভবান কে বা কারা ?






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *