গিয়াস উদ্দিন রনি, কোম্পানীগঞ্জ: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বৈশাখী রানী মজুমদার (১৪) নামে ৭ম শ্রেণীর নিজেই রুখে দিলের বাল্য বিয়ে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রী বৈশাখী রানী মজুমদার চরপার্বতী এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী।
জানাযায়, বৈশাখী রানী মজুমদার (১৪) চরপার্বতী এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম ছাত্রী। সে উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ডেম্মু ডাক্তার বাড়ীর মৃত লিটন মজুমদারের মেয়ে। তার বাবা সম্প্রতি মৃত্যুর পর মা অন্যকে বিয়ে করে তাকে ফেলে চলে যায়। তার দেখাশুনা করেন দাদী রানী বালা মজুমদার। তার দাদী বৈশাখীর পড়ালেখা বন্ধ করে ওই এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বিবিশান চৌকিদার বাড়ীর বিধান চন্দ্র মজুমদারের ছেলে সিভাষ চন্দ্র মজুমদারের সাথে বিয়ের আয়োজন করেন। কিন্তু মেধাবী ছাত্রী বৈশাখী তা মেনে নিতে পারেনি। ফলে সে চরপার্বতী এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে তার শিক্ষকদেরকে কান্না-কাটি করে বিয়ের বিষয়ে খুলে বলে। এ ঘটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানার পর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাহফুজুর রহমান ঘটনাস্থলে পাঠান।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাহফুজুর রহমান চরহাজারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হুদাসহ অন্যান্য গর্ণমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতে মেয়ের দাদী রানী বালা মজুমদারকে খবর দিয়ে চরপার্বতী এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস রুমে আসেন এবং বাল্য বিয়ের কুপল সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় বৈশাখীর দাদী ভুল বুঝতে পারেন ও ১৮ বছরের পূর্বে বৈশাখীকে বিয়ে দিবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এঘটনার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিবেন বলে উপস্থিত সকলকে ফোনে জানান।
চরপার্বতী এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী বৈশাখী রানী মজুমদারের স্কুলে সকল খরচ বিদ্যালয় বহন করবে এবং তার লেখাপড়ার সকল শিক্ষা সামগ্রী তিনি দিবেন বলে জানান।
বৈশাখী রানী মজুমদার জানান, তার স্বপ্ন লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হবে। তার স্বপ্ন পূরণ করতেই বিয়ে বন্ধ করার উদ্যোগ নেন বলে সে জানান।