নিজস্ব প্রতিবেদক |
সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে গতকাল সোমবার যানজট ও জলজটের শহরে পরিণত হয়েছিল গোটা রাজধানী। বিভিন্ন সড়কে জমে ছিল হাঁটু থেকে কোমরপানি।
অনেকে কর্মস্থলে গেছেন এবং ফিরেছেন বৃষ্টি মাথায় নিয়েই। কিন্তু এই যাওয়া-আসার পথে তাঁদের কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে যানজটে। অনেকেই আবার বাহন না পেয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ। রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য গুনতে হয়েছে দ্বিগুণ ভাড়া। সব মিলিয়ে নগরবাসীকে গতকাল চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এই বৃষ্টিপাতের কারণ হচ্ছে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব। আরও কয়েক দিন এ অবস্থা থাকতে পারে। গতকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, আগারগাঁও, তালতলা, মিরপুর, ফার্মগেট, হাতিরপুল, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, মতিঝিল, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন সড়ক, গ্রিন রোড, মিরপুরের কালশী রোড, পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, চকবাজার রোড, পূর্ব জুরাইনের হাজী খোরশেদ আলী রোডে গতকাল দুপুর পর্যন্ত জলাবদ্ধ দেখা গেছে। দুপুরের পর বৃষ্টি কমলে অধিকাংশ সড়কের পানি নেমে যায়। তবে বৃষ্টির সময় সড়কে জমা পানির কারণে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। এসব সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দীর্ঘ সময় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই মাথায়, ছাতা বা গায়ে রেইনকোট চেপে হেঁটে রওনা হয়েছেন গন্তব্যে। ছোট–বড় গর্ত থাকায় রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়।
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শিয়া মসজিদে যাওয়ার পথটি দীর্ঘদিন থেকেই খানাখন্দে ভরা। গতকালের বৃষ্টিতে এই সড়কের ভাঙা অংশে প্রায় হাঁটুপানি জমে ছিল। এই পথে রিকশায় যাচ্ছিলেন মোসলেম উদ্দিন নামের এক যাত্রী। তিনি বলেন, রাস্তায় নোংরা পানি থাকায় হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। তাই রিকশায় উঠেছেন শ্যামলী যেতে। কিন্তু যানজটে আধঘণ্টা ধরে রিকশা আটকে আছে। পাশাপাশি কখন গর্তে পড়ে রিকশা উল্টে যায়, সেই আশঙ্কায় আছেন।
আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। রোকেয়া সরণি হয়ে বাসে এই পথ যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু গতকাল দুপুরে তালতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পশ্চিম কাফরুল পর্যন্ত যেতেই সময় লেগেছে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নূর হোসেন বলেন, ফার্মগেট থেকে তিনি পল্লবী যাওয়ার যাত্রী নিয়েছিলেন। কিন্তু দুই ঘণ্টাতেও পৌঁছতে পারেননি। তালতলায় এসে ভাড়া মিটিয়ে নেমে গেছেন।
আগারগাঁও থেকে তালতলা পর্যন্ত উন্নয়নকাজে সড়কটির এক পাশ কাটা। তাতে এই সড়কে প্রায়ই দীর্ঘ সময় যানজট থাকে। রোকেয়া সরণি ছাড়াও শাহবাগ হয়ে বিজয় সরণি পর্যন্ত সড়কের দুপাশ এবং মিরপুর রোডে গতকাল দুপুরে বেশ যানজট দেখা গেছে। রাসেল স্কয়ার থেকে সোনারগাঁও মোড় পর্যন্ত সড়কটিও ছিল স্থবির।
মৌচাক মোড়ে কথা হয় সুশান্ত পালের সঙ্গে। তিনি সস্ত্রীক কমলাপুর থেকে রিকশায় উঠেছেন বাংলামোটর যাবেন বলে। ৫০ মিনিট পর কেবল মৌচাকে পৌঁছেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বললেন, ‘এই শহর আর শহর নেই। দুর্ভোগের শেষ নেই, তাই কিচ্ছু বলারও নেই।’
দুই মেয়েকে নিয়ে কোচিং শেষে শান্তিনগর থেকে মালিবাগের বাসায় যাবেন রোজিনা খাতুন। তিনি বলেন, ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও একটি রিকশা পেলাম না। ৩০ টাকার ভাড়া চায় ৮০ টাকা।
বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শাহ আলম। সকালের বৃষ্টিতে ছাতা নিয়ে বের হয়েছিলেন, লাভ হয়নি। খিলগাঁও রেলগেটে ভিজে তাই রাগে গজগজ করছিলেন। বাস, রিকশা, লেগুনা না পেয়ে মতিঝিলের অফিসে হাঁটা শুরু করলেন। বললেন, এভাবে কি একটা মিটিংয়ে অ্যাটেন্ড করা যায়? ঢাকায় যখন গরম পড়ে তখন খুব গরম, আর যখন বৃষ্টি হয় তখন পানিতে নৌকা ভাসানো যায়।