মনোহরগঞ্জে বাতেন হত্যা মামলার অাসামীরা প্রকাশ্যে :  পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক

 

এম.তানভীর আলম:

 

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো.আবদুল বাতেনকে (৫০) হত্যার ঘটনার এক মাস সোমবার পূর্ণ হচ্ছে। এখনও অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ১এপ্রিল উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের বাকরা গ্রামে নিজ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে রাস্তার মধ্যে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সহিদুল ইসলাম সহিদ প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে খুন করে ওই বাতেনকে। এ ঘটনায় তার মেয়ে নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে ৫জনকে অভিযুক্ত করে কুমিল্লার আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী নার্গিস আক্তার অভিযোগ করেন, এলাকার প্রভাবশালীরাও এখন আসামিদের পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বার বার চাপ দিচ্ছে।

একই ধরণের অভিযোগ করে কৃষক মো.আবদুল বাতেনের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, আমি অকালে স্বামীকে হারিয়েছি, আমার ৬ সন্তান এতিম হয়েছে। স্বামীর খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

ওই কৃষকের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গত ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের বাকরা গ্রামের মৃত.আবদুর রহমানের ছেলে মো.আবদুল বাতেনকে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর ঘর থেকে বাড়ির সামনের রাস্তায় ডেকে নেয় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম সহিদ। এ সময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রকাশ্যে ওই কৃষকের পেটে ছুরিকাঘাত করে তাঁকে হত্যা করে ওই যুবলীগ নেতা। সহিদ নার্গিস আক্তারের স্বামীর মামা (মামা শ্বশুর)। এদিকে হত্যাকারীদের প্রভাব বিস্তারের কারণে থানায় মামলা করতে না পেরে হত্যার পরদিন ২ এপ্রিল ওই কৃষকের মেয়ে নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে ৫জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ৩ এপ্রিল মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মামলাটি রেকর্ড করেন। মামলায় এ হত্যার ঘটনার মূলহোতা উপজেলা যুবলীগ নেতা সহিদুল ইসলাম সহিদ, তাঁর বড় ভাই উপজেলা আ.লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকির হোসেন, বাদীর শাশুড়ি নুরজাহান বেগম, দেবর সফিকুল ইসলাম ও নুর আলমকে মামলায় আসামি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সামছুজ্জামান বলেন, কৃষক বাতেন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে ঘটনার মূলহোতা সহিদকে গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *