হত্যা মামলা নিয়ে বিরোধেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জোড়া খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রতিবেশীর সঙ্গে একটি হত্যা মামলা সংক্রান্ত বিরোধেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এরশাদুল হক (৩৫) ও তার সহযোগী বাদল সরকার (২৫) খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে এ তথ্য জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আশরাফুল ইসলাম রাব্বী (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (১৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে জেলার কসবা উপজেলার বিদ্যানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সীমান্তপথে পালিয়ে ভারত যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। রাব্বী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাজীপাড়া এলাকার মমিনুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এরশাদুল ও বাদল। এরশাদুল নাটঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছেলে এবং বাদল ওই ইউনিয়নের নান্দুরা গ্রামের সন্তোষ সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন এরশাদুলের ছোট ভাই আক্তারুজ্জামান।

পুলিশ জানায়, গত ২০১৯ সালের ১লা এপ্রিল খুন হন এরশাদুল হকের চাচাতো ভাই সাইদুল্লাহ (৩০)। এ ঘটনায় নান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা আবু নাছির ও তার ছেলে নজরুল ইসলামসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন এরশাদুল। আবু নাছির এবং এরশাদুলের বাড়ি পাশাপাশি। মামলা আপোষ করার কথা বলে আসামিদের কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা নেন এরশাদুল। টাকা নিয়েও আপোষ না করে মামলা চালিয়ে যাওয়ায় এরশাদুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নজরুল।

সম্প্রতি ওই মামলায় নজরুলের বাবা আবু নাছিরকে কারাগারে পাঠান আদালত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, রাব্বীর সঙ্গে নজরুলের পূর্বপরিচয় ছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে গত ১ মাস ধরে সে নজরুলের সঙ্গে তার বাড়িতে ছিল। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন (১৭ ডিসেম্বর) রাব্বী এবং নজরুল পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে এরশাদুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে রাব্বী। এরপর নজরুল তার মোটরসাইকেল থামিয়ে এরশাদুল ও বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহীন আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই রাব্বী ও নজরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে চলে আসে। এরপর তারা আলাদা হয়ে যায়। রাব্বীকে বুধবার (২২ ডিসেম্বর) আদালতে হাজির করা হবে। নজরুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে কিনা- সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *