Main Menu

ফেনী শহরের যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা

সৈয়দ মনির আহমদ, ফেনী :
ফেনী শহরের জলাশয় , খাল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফটকসহ যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ফলে একদিকে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে শহরে চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। মারাত্মক হুমকির মুখে জনস্বাস্থ। পৌরসভার বর্জ্য অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নাগরিকদের।

পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহরের মূল সড়কগুলোর পাশে বছরের পর বছর ধরে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। শহরের ট্রাংক রোড, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, মাস্টার পাড়া সড়ক, কলেজ রোড, তাকিয়া রোড, মিজান রোড, কোর্ট বিল্ডিং রোডের সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক শাখার সামনে মুক্তবাজার, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস রাস্তার মাথা, লতিফ টাওয়ার, ফালাহিয়া মাদরাসা রোড, শান্তি নিকেতন রাস্তার মাথা, খাজুরিয়া রোড , আদালত সংলগ্ন সড়ক,, হাসপাতাল রোডসহ বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সকল সড়কেই ময়লা আবর্জনার স্তুপ দেখা যায়।

ফেনী শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপুর্ন ৪টি খাল পাগলির ছড়া, দমদমা, ভোলবোলা ও মধুয়্যাইতেও ফেলা হচ্ছে ময়লা -আবর্জনা। এ ছাড়া শহরের দক্ষিণ অংশে খাজা আহম্মদ লেক , পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শচিন্দ্র পাল ব্রিজের পর থেকে দাউদপুর পুল পর্যন্ত দীর্ঘ জলাধার ও রেলওয়ের পুকুরে ফেলা হচ্ছে ময়লা -আবর্জনা । শহরের প্রতিটি সরু ড্রেন ও নালায় নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে ময়লা। শহরের প্রতিটি লেনে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল ও ক্লিনিক। এসব হাসপাতালের তরল বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও খালে। এতে পরিবেশ মারাত্বক দুষিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে শহরের অধিকাংশ বানিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য কোন ডাস্টবিন নেই। কোন কোন স্থানে ড্রেনের উপর দুই পাশে ছোট ওয়াল তৈরি করে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ডাস্টবিনে ছোট ছোট ভ্যানে করে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ময়লা এনে জড়ো করে এলাকাভিত্তিক ভাড়া করা সুইপাররা। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর আর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও এসব আবর্জনা পরিস্কার করার কোন লোক চোখে পড়ে না।

ফেনী শহরের ১১নং ওয়ার্ড অংশে পাগলিছড়া খালে ময়লার বাগাড়

জানা গেছে, পৌরসভার নিয়োগকৃত সুইপাররা তাদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করেন। এদের নজরদারি করার মতো কেউ নেই। তাই তারা মন চাইলে আবর্জনা পরিস্কার করে, আবার কখনো কয়েক দিন এভাবে ফেলে রাখে। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার এমন বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।

ব্যবসায়ী মেহরাব হোসেন বাংলারদর্পণকে জানান, শহরের শহীদুল্লা কায়সার সড়কের পাউবো, এসি মার্কেট, চক্ষু হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোলা ডাস্টবিনে তাদের যাতায়াতে সীমাহীন দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়। বাণিজ্যিক সড়কে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে আবর্জনার স্তুপ পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে। এছাড়া দাউদপোল কাঁচাবাজার, দাউদপোল ব্রিজ, মুক্ত বাজার, গোলাপ চৌধুরী মার্কেট ও একাডেমী সড়কে আবর্জনার স্তুপ থেকে নির্গত দুর্গন্ধে বিপাকে রয়েছে পথচারীরা। এর ফলে পৌর এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ফেনীর কোর্ট বিল্ডিংয়ের প্রবেশ মুখে পৌরসভার উদ্যোগে মাছের আড়ৎ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে দিনরাত মাছের গন্ধে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এনিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা ত্যক্ত বিরক্ত হলেও পৌরসভার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিয়ে ঝামেলায় জড়াতে চায় না। ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাছের গন্ধে অফিস করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে

ফেনী হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বাংলারদর্পণকে জানান, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারনে ফেনী পৌর শহরের ‍ ড্রেনেজ সিস্টেমে সব সময় জ্যাম লেগে থাকে। ড্রেনে পলিথিনসহ অন্যসব আবর্জনাও জট পাকিয়ে থাকে। এ কারণেই তরল ও কঠিন বর্জ্যে শহরের চারপাশের খাল ও জলাশয়গুলো ভয়াবহ দূষণের শিকার।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গোলাম মাওলার মতে , তরল ও কঠিন বর্জ্যের কারণে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। এতে পরিবেশগত বিপদ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। ফেনী শহরে তরল ও কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল, যার কারণে শহরে দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে । শহরের নাগরিকরা নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি বাংলারদর্পণকে বলেন, প্রতি ঘন্টায় ময়লা- আবর্জনা অপসারনে কাজ করছে সুইপাররা। নিয়মিত তদারকি করছে একটি বিশেষ টিম। তবে শহরকে বাসযোগ্য করার লক্ষে সকলের সহেযাগীতা প্রয়োজন। নাগরিকদের প্রতি বিনীত আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না। পরিবেশ রক্ষার্থে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলবেন। অচিরেই প্রয়োজনীয় স্থানে স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *