মদনে মুক্ত জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার

মদন (নেত্রকোনা)প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার মদন উপজেলার বর্ণী নদী বেড় দিয়ে চটা জাল দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে।

 

নদীর মাঝামাঝিতে জাল ফেলে মাছ শিকার করায় পণ্যবাহী নৌকা যাতায়াতে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নদীতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বর্ণী নদীর মদন অংশে ও পাশের উপজেলার তাড়াইল অংশে গেলে বেশ কয়েকটি স্থানে চটাবেড় ও সরকারি নিষিদ্ধ চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য চোখে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, তাড়াইল অংশের ধলা গ্রামের কিছু প্রভাবশালী লোকজন ও মদন অংশের আলমশ্রী গ্রামের কিছু লোকজন মূল নদীর অংশ মৎস্য শিকারীদের নিকট পত্তন দেয়। মৎস্য শিকারীরা চটাবেড় ও চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার করে।

 

এমনকি নদীটির অধিকাংশ স্থানে গাছের ডাল ও বাশঁপুতে মাছ শিকার করার জন্য কাঠা দিয়ে রেখেছে। এলাকায় তাদের ভয়ে কেহ মুখ খোলতে সাহস পায় না।

 

মদনের ধানকুনিয়ার লালন, আলমশ্রী গ্রামের শহর উদ্দিন ও তাড়াইল উপজেলার ধলা গ্রামের আব্দুর রউফসহ ১৪-১৫ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

 

প্রায় এক মাস ধরে এভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এই বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মালবাহী বড় ধরনের নৌকা যাতায়াত করতে পারছে না।

 

নৌকায় লেগে সামান্য জাল ক্ষতি হলেই গালিগালাজসহ গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা এমন অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসী ও ভোক্তভোগীরা নদীটি মুক্ত থাকার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

মৎস্যজীবি নারায়ন বর্মণ, সুনিল বর্র্মণ জানান, মগড়ানদীসহ এলাকায় প্রতিটি উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রভাবশালীরা জাল ও গাছের ডাল দিয়ে কাঠা দেয়ায় এখন আমাদের জাল দিয় মাছ ধরার কোন সুযোগ নাই। মাছ ধরতে গেলে অপমান অপদস্ত হতে হয়। তাই আমরা অন্য পেশা খুঁজছি।

বালু, পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল গণি মিয়া জানান, সিলেট সুনামগঞ্জ থেকে এ নদীপথ দিয়ে মদন, আটপাড়া, কেন্দুয়া ও নেত্রকোনা সদর উপজেলায় নৌ-পথে মালামাল নিয়ে আসার একমাত্র রাস্তা এটি।

 

 

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ নৌ-পথে শতাধিক জাল ও গাছের ডাল দিয়ে কাঠা দেওয়ায় নৌকা নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। নৌকায় লেগে জাল ক্ষতি হলে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় এমনকি তাদের মাধ্যমে অপদস্তও হতে হয়। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেও কোন সমাধান পাইনি।

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা (চ:দা:) জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ জানান, আগামীকাল আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *