প্রবাসীর স্ত্রীর অবৈধ গর্ভপাত নিয়ে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ: নিরিহ শ্রমিককে ফাঁসানোর চেষ্টা

ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর অবৈধ গর্ভপাত নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষ সোনাগাজী মডেল থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরকীয়া প্রেমিককে বাদ দিয়ে নিরিহ কারখানা শ্রমিকের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর ধর্ষণ, অবৈধ গর্ভপাত ঘটনোর দায়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অপর দিকে ওই গৃহবধূকে দুশ্চরিত্রা আখ্যা দিয়ে কারখানা শ্রমিকের মা বিবি রহিমা খাতুন বাদি হয়ে ৫জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। এর মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গৃহবধূকে তার পিতার বাড়িতে তুলে দিয়েছেন স্বামীর পরিবার। এলাকাবাসী, পুলিশ, গৃহবধূ ও কারখানা শ্রমিকের পরিবার জানায়, উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের শরীফ উল্যাহ সোহাগ তার স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রেখে চকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ তিনি সেখানে চাকরি করছেন। এদিকে নূরুল আফছার নামের এক যুবলীগ নেতার সাথে তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যায়।

প্রেমের সূত্রে আফছার তার কন্যা সন্তানদের সহ ওই গৃহবধূকে কক্সবাজার সহ একাধিক স্থানে নিয়ে রাত্রি যাপন করে। এতে ওই নারী অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। তিন মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা থাকা অবস্থায় একই গ্রামের গরি বালা দাস নামের এক নারীর মধ্যস্থতায় মঙ্গলকান্দি বিশ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে এক নার্সের মাধ্যমে গর্ভাপাত ঘটানো হয়। বিষয়টি কিছু দিন গোপন থাকলেও গর্ভাপাত ঘটানোর চুক্তিকৃত টাকা পরিশোধ না করায় গরি বালা দাস বিষয়টি প্রবাসী শরীফ উল্যাহ সোহাগের পরিবারকে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ঘুরে যান ওই গৃহবধূ। তিনি দাবি করেন ২০২০ সালের রমজান মাসে ঈদুল ফিতরের ১০ দিন পূর্বে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হন। এসময় দরজা খোলা পেয়ে একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ঘরে ঢুকে তার শয়ন কক্ষে লুকিয়ে থাকে। এক পর্যায়ে সে কাপড় দিয়ে তার মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেন। এতে তিনি অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি গরি বালা দাসের মাধ্যমে মঙ্গলকান্দি সরকারি হাসপাতালে গিয়ে গত ১ ডিসেম্বর গর্ভপাত ঘটান। গর্ভপাত ঘটাতে তিনি স্বর্ন বন্ধক দিয়ে ২০ হাজার টাকা খরচ প্রদান করেন। খরচকৃত ২০হাজার টাকা চাওয়ায় জাহিদুল ইসলাম ও গরি বালা দাস ঘটনাটি গ্রামবাসীর কাছে ফাঁস করে দেন। তাই তিনি জাহিদুল ইসলাম, তার পিতা আবুল কালাম, ওই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে গোলাফ মাওলা, জামাই আলম, ধন মিয়ার ছেলে নয়ন এবং গরি বালা দাস সহ ৬ জনের নামে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জাহিদুল ইসলাম নরসিংদী এলাকায় সাজেদা টেক্সটাইল মিলের একজন শ্রমিক। তার পিতা আবুল কালাম একজন রিক্সা চালক। তার মা-বাবা অভিযোগ করেন, নূরুল আফছার নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা ওই প্রবাসীর বাড়ির পাশে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ করত। সে সুবাধে ওই নারীর বাড়িতে রাত্রি যাপন করত। আড্ডা দিত। পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে নারীকে নিয়ে কক্সবাজার সহ বিভিন্ন স্থানে রাত্রি যাপন করত। যার স্বাক্ষী গ্রামবাসী ও গৃহবধূর স্বামীর স্বজনদের কাছে তার কন্যরা দিয়েছেন। গর্ভপাত ঘটানোর চুক্তিকৃত টাকা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ায় থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। এর আগে নূরুল আফছারের পরকীয়া প্রেম ও অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করতেন আবুল কালাম ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম। এই ক্ষোভ থেকে অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনায় কারখানা শ্রমিক জাহিদের বিরুদ্ধে ওই গৃহবধূ ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ এনেছেন। গত ২৭ জুলাই সকালে তার ছেলে জাহিদুলকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে যায় ওই গৃহবধূ ও তার স্বজনরা। তাই অপমান ও হয়রানি থেকে রেহাই পেতে এবং ছেলের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জাহিদুলের মা বিবি রহিমা খাতুন বাদী হয়ে গৃহধূ মনোয়ারা বেগম, মো. সবুজ, ও কালা মিয়া সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে জানার জন্য যুবলীগ নেতা নূরুল আফছারের মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *