Main Menu

ফেনী রেল স্টেশন এলাকায় গণছিনতাই ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য

ফেনী’ প্রতিনিধি :
ফেনী রেলস্টেশান পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চলছে গণছিনতাই ও রমরমা মাদকের বাণিজ্য। চট্টগ্রাম ও সীমান্ত থেকে আসা ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে সয়লাব এখন ফেনী রেলস্টেশান এলাকা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার ভোরপর্যন্ত স্টেশানের যাত্রী ও ট্রেনথেকে প্রায় ১৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ফেনী রেলওয়ের স্টেশান মাষ্টার মাহবুবুর রহমান ট্রেনথেকে ও স্টেশান এলাকায় প্রতিদিন যাত্রীরা ছিনতাইয়ের কবলে পড়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন স্টেশান এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বার বার পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন উন্নতি করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন।

ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসায়ীর অধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপ প্রায় প্রতিদিনেই দেশিয় অস্ত্রনিয়ে স্টেশান এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়, ফেনী মডেল থানা ও লাকসাম থানাকে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, জুয়েল (প্রকাশ বোবা জুয়েল) শাকিল, টুম্পা ও বাদশা স্টেশান এলাকায় সকল অপরাধ ঘটাচ্ছে। জনবল কম থাকায় আমার কিছুই করার নেই। এদের প্রত্যেকের নামে ৭/৮ টি করে মামলা রয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা টহলের মাধ্যমে স্টেশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময় সামান্য মাদক আটক করতে পারলেও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।

স্থানীয় লোকজন পুলিশ ফাঁড়ির একাদিক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগে বলেন এলাকার আলোচিত সোর্স ফাতেমা, আলমগীর, আলম, হাসান, মামুন, জুয়েল, সাকিল, এবং টুম্পার মাধ্যমেই ছিনতাই ও মাদক বাণিজ্য থেকে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এসআই সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহলে রয়েছে চরম ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়,এটি ভারত সীমান্তের অদূরে ফেনী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে চোরাই পথে আসা বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রি হয় এই এলাকার আনাচে-কানাচে। ফেনী স্টেশানের ৮টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার ফেনসিডিল, ভারতের তৈরি ইয়াবা, গাঁজা, আফিমসহ নানা ধরনের মাদক আসছে দেদার।

ফেনীর সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক দেশে এনেই বড় বড় সিন্ডিকেটগুলো ফেনী স্টেশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পাইকারি হাট বসায়। প্রতিদিন ট্রেন,প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিকআপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং বাইসাইকেলযোগে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

ফেনী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের স্থানিয় কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী ও এলাকার সচেতন মহল জানায়, স্টেশান পুলিশ ফাঁড়ি পুলিশ যদি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করে তাহলে এই এলাকায় মাদক ও ছিনতাই বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি ইতিমধ্যে মডেল থানা পুলিশের সাথে কথা হয়েছে। থানা পুলিশের সহযোগিাত ছেয়েছি। আমিও পুলিশের পাশাপাশি দলীয় লোকজন নিয়ে মাদক ও ছিনতায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ও কঠোর ভুমিকা পালন করবো।

ভুক্তভোগী ট্রেনযাত্রী মাহিনুর বেগম বলেন বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর থেকে নামার পরপরেই একযুবক আমার সাথে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে ট্রেনের উল্টোদিকে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে পালিয়ে গিয়েছে।

স্থানিয়দের সহযোগিতায় খোজাখুজি করেও পাইনি। দোকান দার ও পুলিশ ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য বলেন অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হবে না। তাই বাড়ী ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছি। স্থানীয়দের অভিযোগ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এ লাকায় ১৫টিরও বেশি ছিনাই হয়েছে। সকল ছিনাতাইকৃত মালামাল বিক্রির টাকার একটি অংশ এসআই সাইফুল ইসলামকে দেওয়া হয়।

স্থনীয় ব্যবসায়ীরা ছিনতাই কারীদরে পুলিশের তাতে তুলে দিতে ছাইলেও তিনি এমন আসামী গ্রহন করতে রাজিনয়। তাই সাধারন মানুষ এখন আর কোন ছিনতাই কারীকে আটক বা প্রতিহত করতে এগিয়ে আসছেনা।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার বলেই মাদক ব্যবসায়ীদের একটা গ্রæপ আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার করছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের স্টেশান মাষ্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, স্টেশান পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইফুল ইসলামকে আমার সাথে নিয়ে ফেনী মডেল থানায় নিয়ে ওসি নিজাম উদ্দিনের সাথে বসে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি। থানা পুলিশ ও ফাঁড়ি পুলিশ তাদেরকে আটক না করে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *