জয়নাল হাজারী কলেজের প্রতিবন্ধী ছাত্রী নাদিয়া এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিচ্ছে 

 

 

ফেনী প্রতিনিধি : প্রতিবন্ধী নাদিয়া এবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছে জয়নাল হাজারী কলেজ থেকে।  পিতা মাতার ১ম সন্তান নাদিয়া পারভিন কুসুম। অন্য দুই ভাই এর ১ম ভাই ফেনী লালপোল সোলতানিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর নাদিয়ার ছোট ভাই ইমাম হাসান পূর্ব মধুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ম শ্রেণিতে পড়ে। নাদিয়া জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সে এবার এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ফেনীর জয়নাল হাজারী কলেজ এর মানবিক বিভাগ থেকে। আজ ২রা এপ্রিল রবিবার ফেনী সরকারী কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় অনন্য পরীক্ষার্থীদের মতো সে নিঃসংকোচ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে।

 

খবর পেয়ে চলে যাই বিকেল চলে যাই ফেনী শহরতরীর মধুপুর গ্রামে তার বাড়ীতে। গ্রামের ছোট বড় সবাই নাদিয়াকে চিনে। সবাই তার বাড়ী চিনিয়ে দিল, কারণ একটাই, জন্মগভাবে শারিরীক প্রতিবন্ধী হলেও তাকে তার ইচ্ছা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। নাদিয়া যেন সকলের গর্ব। সকলের মুখে মুখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার নামটি। জানা যায়, ফেনী শহরের মধুপুর এলাকার কাতার প্রবাসী বাবা নুর আহম্মেদ ও মা ফরিদা ইয়াসমিন এর বড় মেয়ে নাদিয়া জন্মগতভাবেই শারিরিক প্রতিবন্ধী। দুই হাত ও পায়ে সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহন করেও কারো বোঝা হয়ে থাকেনি। অনেকবার ঢাকার পঙ্গু হাসাপাতাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও কোন সমাধান না হওয়ায় তার বাবা তাকে কাতারে নিয়ে যায়, সেখানেও বিভিন্ন হাসাপাতালে চিকিৎসা করান। কিন্ত তাতেও কোন সমাধান হয়নি। ডাক্তার বলছে ইউরোপ-আমেরিকাতে ভালা ডাক্তার দেখাতে হলে হয়ত এর কোন সমাধান হতে পারে।

লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখালে বাবা মা তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কৃতিত্বের সাথে সে মধুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাপনীতে পাশ করার পর জে এস সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বি-গ্রেডে পাশ করে। পরে ২০১৪ সালে মধুপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পরীক্ষায় ৩.৮৩ নিয়ে পাশ করে। এবার ২০১৭তে এইচ এসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে কম্পিউটার শিক্ষা নেয়। পড়ালেখার অবসর সময়ে বিভিন্ন লেখকের বই পড়ে সময় কাটায়।

বড় হয়ে কি হতে চায় এমন প্রশ্ন করা হলে সে জানায়, আমি শারিরিক প্রতিবন্ধী হলেও সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। নিজে নিজের পায়ে দাড়াতে চাই। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সমাজের ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে পড়া-লেখা করে যাতে আমার ক্ষমতা বিবেচনায় একটি চাকরি পাই সে আশা করি। মোটকথা অনন্য সকলের মত আমিও আমার সামাজিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।

নাদিয়ার মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মেয়েকে অনেকবার দেশে-বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলেও কোন সমাধান পাইতেছি না। তার চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত। তার বাবাও তাকে কাতারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন্ হাসপাতালে ডাক্তার দেখালেও এখন পর্যন্ত কোন ফলাফল হচ্ছে না। প্রতিদিন তার জন্য একটি সিএনজি ভাড়া করা থাকে কলেজ থেকে আনা নেয়ার জন্য। এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রতিদিন পরীক্ষায় আসা-যাওয়া বাবদ তিনশ টাকা লাগে। এভাবে করে প্রচুর টাকা খরচ হয় তার পেছনে। মধ্যবর্তী একটি পরিবার হিসেবে ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তার স্কুলের কোন বেতন দিতে হয়না। উপবৃত্তিও পায়। তবে ফেনী সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে সাহায্যের জন্য তার কাগজপত্র অনেক আগে জমা দেয়া হলেও এখনও কোন আশ্বাস পাচ্ছিনা। সমাজসেবা অধিদপ্তর যদি তাকে সহযোগিতা করে তাহলে সরকারে কাছে আরো কৃতজ্ঞতা থাকবে। মেয়ে ভালোবাবে বেঁচে থাকাটা আমাদের চাওয়া-পাওয়া।জয়নাল হাজারী কলেজের অধ্যক্ষ জানান, শারিরকি প্রতিবন্ধকতা পড়ালেখায় তাকে কোন বাধা দিচ্ছেনা। পড়ালেখার প্রতি তার প্রচুর আগ্রহ। পড়ালেখার প্রতি ভালো আগ্রহ দেখে তাকে কলেজ থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *