তিনদিন ধরে ডাক্তার শূন্য উখিয়া হাসপাতাল,অসহনীয় দুর্ভোগ অসহায় দরিদ্রদের!

স্টাফ রিপোর্টার-
পর্যটন খ্যাত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা হাসপাতালে কোন ডাক্তার না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা অসংখ্য রোগী চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফেরত গেছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে প্রায় আধ ঘণ্টা উখিয়া হাসপাতালে অবস্থান করে কোন ডাক্তারের দেখা মিলেনি৷ ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উখিয়া হাসপাতালে ১১ জন ডাক্তার কর্মরত থাকার কথা থাকলেও ১ জন ডাক্তার ছাড়া আরকাউকে পাওয়া যায়নি৷


হাসপাতালের কাউন্টার থেকে স্লিপ হাতে নিয়ে বারান্দায় অপেক্ষা করছে শতাধিক মহিলা ও শিশু রোগী। আইওএম’র একজন চিকিৎসক থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত তুলে তিনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না। তবে ডাক্তারের চেয়ারে বসে বেতন বিলের কাজ করছেন। এসময় রোগীদের আহাজারি ও শিশুদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। গত শনিবার সকালে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন গিয়ে রোগীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
উপজেলার হারাশিয়া গ্রামের গৃহিণী মরিয়ম খাতুন সাংবাদিকদের জানান, তার ৮ মাস বয়সী শিশু আবির ২/৩ দিন ধরে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত। গত শনিবার ভোর থেকে তিনি হাসপাতালে এসে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ডাক্তার উপস্থিত থাকলেও শত অনুনয় বিনয় করার পরও তিনি শিশুটিকে একনজর দেখেননি বলে অভিযোগ করেন।
এসময় ওয়ালাপালং থেকে আসা মহিলা রোগী জিগার সুলতানা জানান, আইওএম’র চিকিৎসক ডাক্তার আহাদের কাছে গিয়ে তার শারীরিক অবনতির কথা বললে ওই ডাক্তার রেগে উঠে বলেন, সে এখন অসুস্থ, সুস্থ হয়ে উঠলে রোগী দেখা হবে। ইচ্ছা থাকলে অপেক্ষা কর, না পারলে চলে যাও। এমন দুর্ব্যবহারে রোগীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। টিকেট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত সরওয়ার নামের একজন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী রোগীদের টিকেট দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজবাহ উদ্দিনের সাথে আলাপকালে জানান, এনজিওদের নিয়োগকৃত কোনো চিকিৎ্সক হাসপাতালের কমান্ড মানেন না। তারা ইচ্ছামত হাসপাতালে আসে যায়। তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে কেউ স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। কেন থাকতে চান না এর জবাবে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের বাউন্ডারি না থাকায় চিকিৎসকরা হাসপাতালটিকে নিরাপদ মনে করেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *