কয়রায় পাখি রক্ষায় ব্যতিক্রমি উদ্যোগ | বাংলারদর্পণ

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রা –
খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামে সামাজিক বনে পাখিদের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন গাছে বসানো হয়েছে মাটির হাড়ি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পাখি বিলুপ্তির কথা চিন্তা করে এ উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।পাখিদের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ বিচরণের জন্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও কয়রা সাইক্লিং গ্রুপের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে পাখি রক্ষায় বিভিন্ন গাছে এসব হাঁড়ি বসিয়েছেন। এ কাজের উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও কয়রা সাইক্লিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিমেষ বিশ্বাস।

প্রায় ২৫০টি মাটির হাড়ি টাঙ্গানোর মধ্যদিয়ে গোবরার সামাজিক বনকে দেশিও পাখি অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে সাথে সাথে উক্ত সামাজিক বনকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস পাখিদের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ বিচরণ ও সামাজিক বনকে রক্ষার্থে অভয়াশ্রম ও সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেন।

নির্বাহী কর্মকর্তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণি বিশেষজ্ঞ, উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা,কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ।
গোবরা গ্রামের বাসিন্দা ইসতিয়াক আহম্মেদ জানান,পাখিদের শান্তিপূর্ণ বিচরণে লক্ষে গোবরার বনে গাছের ডালে পাখিদের নিরাপদে থাকার জন্য মাটির হাড়ি ঝুলিয়ে বাসস্থান তৈরি করায় সামাজিক এই বনের সৌন্দর্য্য আরো বেড়েছে।

কপোতাক্ষ মহা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অদ্রীশ আদিত্য মন্ডল বলেন,কয়রা উপজেলা প্রশাসন ও কয়রা সাইক্লিং গ্রুপের উদ্যোগে দেশি পাখি রক্ষার্থে যে অভয়াশ্রম করা হয়েছে এজন্য সাধুবাদ জানাই। কারণ বন্যপ্রাণী রক্ষার্থে এমন উদ্যোগ দেখে অন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষও উৎসাহিত হবে। এছাড়াও দেশে বন্যপ্রাণী রক্ষা বা সংরক্ষণ আইন আছে। স্থানীয় প্রশাসন সজাগ হলে দেশিও পাখি বৃদ্ধি করা সম্ভব।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী ও কয়রা সাইক্লিং গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিমেষ বিশ্বাস জানান, পাখির নিরাপদ আশ্রয়, পাখি রক্ষা ও তাদের ডিম দেয়ার জন্য হাঁড়িগুলো বসানো হয়েছে। এতে ঝড়, বৃষ্টি, রোদ থেকে পাখিরা বাঁচবে। হাড়িগুলোতে ছোট ছোট ছিদ্র করে দেয়া হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি ঢুকলেও নিচের ছিদ্রগুলো দিয়ে তা পড়ে যাবে।

তাছাড়া হাড়ির দুদিকে বড় দুটি মুখ রাখা হয়েছে। একদিক দিয়ে পাখি ঢুকলে আবার সোজা অপর মুখ দিয়ে বের হয়ে যেতে পারবে। এতে করে পাখির হাড়ির মধ্যে ঢুকতে ও বের হতে কোন বাধা বা সমস্যা হবেনা। আশা করছি আগামী দু’মাসের মধ্যে উপজেলায় কয়েক হাজার হাড়ি বসানো হবে। এতে করে বিলুপ্তপ্রায় পাখীগুলো রক্ষা পাবে এবং হাড়িগুলোতে বাসা বেধে বংশ বিস্তার করতে পারবে।

বৃদ্ধ এক পথচারী বলেন, বর্তমানে মানুষের প্রতি ভালোবাসায় দেখা যায়না। আর পাখির প্রতি এমন ভালোবাসা। সত্যিই আমাদের অবাক করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *