Main Menu

কয়রায় সুদের কারবারিদের চাপে নিঃস্ব হচ্ছেন নিরীহ মানুষ

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন,কয়রা :
খুলনার কয়রা উপজেলায় সুদের কারবারিদের চাপে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে নিরীহ মানুষ। সুদের টাকা গুনতে গুনতে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। অনেকেই হালের গরু, সহায় সম্পদ বিক্রি করেও তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

উপজেলার ২ নম্বর কয়রা গ্রামের শাহাবাজ ঢালীর ছেলে আঃ সাত্তার ঢালী দুই বছর আগে তার স্ত্রীর কানের দুল রেখে কয়রা বাজারের পঞ্চানন কর নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ির কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা নেয়। পরে সাত্তার ঢালী ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেও তার ৩৫ হাজার টাকা দামের স্বর্ণের দুল ফেরৎ পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে কয়রা বাজার ব্যবসায়ি সমিতির কাছে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি।
সাত্তার ঢালীর অভিযোগ , ৯ হাজার টাকা নিয়ে এখন তাকে ৩৫ হাজার টাকার কানের দুল ওই সুদের কারবারিকে দিতে হচ্ছে। এর আগে তাকে তিন হাজার টাকা সুদ হিসাবে দেওয়া হয়। এরপরও কানের দুল ফেরৎ নিতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, তন্ময় জুয়েলার্সের মালিক পঞ্চানন কর দীর্ঘ দিন ধরে স্বর্ণের ব্যবসার আড়ালে সুদের কারবার চালিয়ে আসছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোন অনুমোদন নেই। তিনি অবৈধভাবে জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে সুদের কারবার করে রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চুরির মালামাল ক্রয় করারও অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে তন্ময় জুয়েলার্সের মালিক পঞ্চানন কর বলেন, সব অভিযোগ সঠিক নয়। অনেকেই টাকার প্রয়োজনে তাদের গয়না বন্ধক রেখে উপকার নেওয়ার চেষ্টা করেন। মাঝে মধ্যে তাদেরকে উপকার করে থাকি। কাউকে অহেতুক হয়রাণী করিনা।

খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল সাত্তার ঢালী একা নয়। সুদের কারবারিদের চাপে সম্মানের ভয়ে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি কর্মস্থল ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকার বাইরে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলার মাদারবাড়িয়া গ্রামের এক স্কুল শিক্ষক দম্পতি সুদের মহাজনের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এছাড়া এক শ্রেণির মহাজন নামধারি দাদন ব্যবসায়িদের কবলে পড়ে অনেক জেলে পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন। এসব সুদের কারবারি বা দাদন ব্যবসায়িরা টাকা দেওয়ার আগে ফাঁকা চেক অথবা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন।
পরে আসলের দ্বিগুন, তিনগুন টাকা পরিশোধের পরও চেক ও স্ট্যাম্পের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়। অনেকেই সম্মানের ভয়ে সহায় সম্পদ বিক্রি করে সুদের কারবারির টাকা শোধ দিতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলারদর্পণ






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *