নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফেনীর পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতিয় শোকদিবসের কর্মসূচীতে পরশুরাম উপজেলা জামাত দুই শীর্ষ নেতাকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি করার অপরাধে মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো নুরুজ্জামান ভুট্টেুাকে শোকজ করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধায় পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য জানা যায়।
শোকজে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতিয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে উপজেলার চিহ্নিত দুই শীর্ষ জামাত নেতাকে প্রধান ও বিশেষ অতিথি করা হয়। সম্মানের সাথে প্রধান ও বিশেষ অতিথির আসন দেয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ .যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে।
শোকজে বলা হয় একই অনুষ্ঠানে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদ্যবিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্বা এনামুল করিম মজুমদার বাদল উপস্থিত হলেও তাকে সম্মানজনক আসন না দেয়ায় এবং জামাত নেতাদের প্রধান ও বিশেষ অতিথি করায় অপমানিত হওয়ায় সভাস্থল ত্যাগ করেন এবং তাৎক্ষনিক জেলা ও উপজেলা নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন।
শোকজে আরো জানা যায়, আগামী তিনদিনের মধ্যে চেয়ারম্যান মোঃ নুরুজ্জামান ভুট্টেুাকে তথ্য প্রমান সহ ন্যাক্কার জনক ঘটনার বিষয় সন্তোষজনক জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যতায় দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক চেয়ারম্যান ভুট্টেুার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
পরশুরাম উপজেলা দুই শীর্ষ জামাত নেতা মাওলানা নুর মুহাম্মদ আনোয়ার শাহকে প্রধান ও বিশেষ অতিথি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠে । এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ বিব্রত হন।
এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনার শাস্তি দাবি করেছেন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান ভুট্টেুার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতিয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পরশুরাম উপজেলা জামায়তের শীর্ষনেতা মাওলানা নুর মুহাম্মদ এবং ইউনিয়ন জামাতের শীর্ষনেতা আনোয়ার শাহ আওয়ামীলীগ অফিসে হামলা, ভাংচুর সহ বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে দুজনের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ ও সরকার বাদী একাধিক মামলা রয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা জানান উপজেলা আওয়ালীগ অফিস ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদারের বাসায় হামলা ও ভাংচুর মামলা নুর মুহাম্মদ ইতিপুর্বে তিনমাস কারাভোগ করেন। ২০১৪ সালের মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের একটি মসজিদে নাসকতার প্রস্তুতি নেয়ার অভিযোগে ৪০জন শিবির কর্মী সহ পরশুরাম থানার পুলিশ আটক করেছিল নুর শাহকে।
জেলা যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম ফারুখ,উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মির হোসেন মিরু,হাবিবুল্লা হাবিব ও যুবলীগ নেতা মনছুর জানান মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরুজ্জামান ভুট্টেুা দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মামলা হামলা সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে কোনঠাসা করে রাখে। গত ১০বছর ধরে ইউনিয়ন বিএনপি জামাত নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিভিন্ন কর্মকান্ডে জামাত ও বিএনপি নেতাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
