ফেনী জেলা বিএনপির কমিটি: গাজী মানিক ও বরাত চৌধুরী প্রসঙ্গ 

 

 

মাইন উদ্দিন রিমন:

 

ফেনী জেলায় বিএনপি পরিবারে এখন পর্যন্ত সাধারণের মনে স্থায়ী আসনে আসীন মরহুম সহিদ উদ্দিন ফেরদৌস ভাই। স্থানীয় রাজনীতিতে উনার জীবদ্দশায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ভরসার প্রতীক এবং বেগম জিয়ার অতি প্রিয় পাত্র ছিলেন তিনি। অন্যদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে ৯০ এর পর স্বল্প পরিসরে হলেও ৯৬ থেকে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল ও ভরসার কেন্দ্রে পরিণত হন মরহুম মোশাররফ হোসেন এম পি যদিও স্বৈরাচার এরশাদের সময় থেকে আমৃত্যু কেন্দ্রীয় ও জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন তিনি।নেতৃত্বের পালাবদলে এক পর্যায়ে বেগম জিয়ার ভাই মরহুম সাঈদ এস্কান্দার সাহেব এই জেলার অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হন। ২০১২ সালে সাঈদ এস্কান্দার,২০১৪ সালে মোশাররফ সাহেবের মৃত্যুর পর কার্যত এই জেলা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। ২০১৩ সাল থেকে গুঞ্জন উঠে জেলা বিএনপির নতুন কমিটি হবে কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট আবু তাহেরকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করা হয়।২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবদি এই কমিটি হবে হচ্ছে বলে কখনো আন্দোলন কখনো বা অন্যান্য জটিলতায় এই কমিটি আজও আলোর মুখ দেখেনি।সভাপতি পদে বিভিন্ন সময় সাবেক সাংসদ ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি জয়নাল অাবদীন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ,আবু তাহের কিংবা বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিস্টারের নাম আলোচনায় উঠে আসে।পক্ষান্তরে সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মেঝবাহ উদ্দিন ,ছাত্রদলের সাবেক ৩ সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান,শেখ ফরিদ বাহার, এয়াকুব নবী এবং যুবদলের বর্তমান সভাপতি গাজী মানিকের নাম উঠে আসে। কিন্তু সর্বশেষ সাধারণ কর্মীদের মধ্যে সভাপতি হিসেবে তাহের-মিস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ মিজান-গাজী মানিক এই নাম গুলো নিয়ে যতো জল্পনা কল্পনা।

তবে সাধারণ সম্পাদক পদটি নিয়েই যতো আলাপ আলোচনা দেনদরবার লবিং তদবির সবকিছু। সাধারণ কর্মীরা হিসেব করে দেখে বিগত ১০বছরে এই জেলায় কে কতটুকু অবদান রেখেছে, শ্রম ঘাম ত্যাগ সহ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে, কার পক্ষে তৃণমূলের বেশী জয়গান,কে কত মামলার আসামী কিংবা কত জেল জুলুমের স্বীকার অথবা কে আদৌ এসব থেকে মুক্ত? সেই হিসেবে গাজী মানিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হবেন এটাই পুরো জেলার তৃণমূলের প্রত্যাশা। অসংখ্য নেতা গড়ার কারিগর গাজী মানিকের সাথে অনেকে বেইমানি করলেও সেক্ষেত্রে স্বীয় সিদ্ধান্তে অটল থেকে গাজী মানিকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্রদের একজন হিসেবে ছাত্রদল সভাপতি নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত।

কিন্তু সুযোগ সন্ধানী অনেক পদবীধারীর গাজী মানিকের সাথে ছিনিমিনি খেললেও কারাবন্দী গাজী মানিকের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন বরাত।

সময়ের পরিক্রমায় কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে আর একজন নেতা নীতি নির্ধারকের আসনে চলে আসেন।উনার বিত্ত বৈভব আর ব্যাবসায়িক মজবুত অবস্থানের কারণে তিনি চেয়েছেন পুরো জেলার রাজনীতি উনার ইশারায় চালিত হবে। তিনি এখানে পুতুল মার্কা নেতৃত্ব বসিয়ে উনার শেকড় বিস্তারের স্বপ্ন দেখেন কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধ্‌ সাধে গাজী মানিকের প্রার্থীতা এবং নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাতের তৎপরতা। কিছুদিন আগে সাম্প্রতিক ক্ষমতাধর নেতা গাজী মানিককে না রেখে একটি কমিটি করানোর চেষ্টা করেন কিন্তু নেত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি জানিয়ে দেয়া হয় ফেনীর কমিটি তিনি নিজে দেখবেন।আবার গুলশান অফিস থেকে বিতাড়িত একজন ও ঐ নেতার ঘাড়ে সওয়ার হয়ে জেলায় নিজের লোক বসাতে মরিয়া।

নেত্রীর কাছে স্থান না পেয়ে ঐ নেতা ও নেত্রী শুরু করেছেন ভিন্ন খেলা যেখানে গাজী মানিকের কাছের নেতাদের সাথে উনার দূরত্ব তৈরী, অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ সহ জেলায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বর্তমানে গাজী মানিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রদল সভাপতি বরাতকে বিপদে ফেলা। ফলশ্রুতিতে বরাত কে নানাভাবে হুমকি প্রদান সহ বিপদে ফেলার চেষ্টা। কিন্তু এরা আবারও হেরে যাবে কারণ তৃণমূল এদের সাথে নেই।

লেখক- ফেনী জেলা ছাত্রদল নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *