মোঃ নুর উদ্দীন রোকসার :
কয়েকজন উবার ও পাঠাও রাইডার এবং যাত্রী সেবা গ্রহীতার সাথে আলাপচারিতা প্রাসঙ্গিক আলোচনা।
প্রশ্নে- আমি, আচ্ছা ভাই: আপনার নামতো মোঃ কামরুল হাসান (পাঠাও রাইডার), জ্বি- হ্যাঁ। পাঠাও সেবা (হোন্ডা চালিয়ে) দিয়ে প্রতিদিন আপনার আয় হয় কত টাকা?
উত্তরে- মোঃ কামরুল হাসান (পাঠাও রাইডার): আসলে ভাই আমি পারর্টাইম পাঠাও চালাই-(চাকুরী আওয়ার শেষে) এতে ধরেন, ডেলী আমার ইনকাম কোন দিন ১২০০ টাকা, কোন দিন ১৫০০-১৭শত টাকা; এভারেজ রাত ১২টা পর্যন্ত ১৫০০ টাকার মতো ইনকাম হয়! মোটামুটি ভালোই। সবচেয়ে ভালো লাগ তখনই- এই পাঠাও-উবার পরিবহনটা সেবার ক্ষেত্রেও কোন অংশে কম নয়। বেশির ভাগই জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা পাঠাও-উবার ব্যাবহার করে। সেবা’টা দিতে পারছি ভেবে খুবই আনন্দিত হই। বুঝলেন?
প্রশ্নে- আমি: জ্বি, তা বুজলাম! খুশি হলাম জেনে। তা ভাই, আপনার মাসিক ইনকাম তাইলে ৪৫ হাজার টাকার মতো হয়? আর যারা প্রফেশনালি পাঠাও বা উবার (রাইডার) চালায় তাদের ইনকাম তো আরো বেশি, তাই না?
উত্তরে- আরেকজন (উবার রাইডার) দ্বীন জাহান আলী: জ্বি- তা তো অবশ্যই! আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, বেশির ভাগ পাঠাও বা উবার (রাইডার) চালক স্টুডেন্ট, ওরা পাড়াশুনার পাশাপাশি এই কাজটা খুব ইনজয় করে এবং সম্মান জনকও। নিয়মিত একজন পাঠাও বা উবার রাইডার ডেলী ৩০০০ থেকে ৩৫শত টাকা ইনকাম করে। সেই হিসাবে মাসিক তাদের আয় এভারেজ ১০০০০০ টাকার মতো। কখনো চিন্তা করে দেখেছেন?
প্রশ্নে: আমি, অবাক মনোচিত্তে! উহ্ এতো টাকা আসলেই ইনকাম হয় এই প্রফেশনে? কখনো ভেবেই দেখিনি। তাহলে আপনাদের এটা তো মানতে হবে- মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসী মনোভাব মূলত বেকার সমস্যার কারণেই বেশী হয়! দেশ ডিজিটালাইজেশনের কারনেই এই পাঠাও-উবার সেক্টরের আবির্ভাব হয়েছে। মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, বেকার সমস্যা দূরীকরণে তো ডিজিটালাইজেশনে ভূমিকা আছে, আপনি এর পক্ষে বা বিপক্ষে কি বলবেন?
উত্তরে- একই সময়ে (আলাপচারিতায়) অন্য দুজন- যাত্রীসেবী এবং রাইডার (মাওলানা মুক্তাদির আহমদ এবং শফিকুর রহমান): জ্বি- অবশ্যই! ডিজিটাল বাংলাদেশ তো অবশ্যই হয়েছে। আমার কর্ম এখন এটাই- কর্মই ধর্ম। ধর্মকে তো আর অস্বীকার করতে পারবো না। ডিজিটাল ধারণার কারনেই আমি এই ইনকাম সোর্স এর সুযোগ পেয়েছি (শফিকুর রহমান- রাইডার)।
আমারা দেশের নির্দলীয় সাধারন নাগরিক এবং সচেতন। কে কি বল্লো কান আছে শুনতে হয়, তাই শুনি- কিন্তু আল্লাহ তো আমাকেও বিবেকবোধ কিছু দিয়েছেন। এই পাঠাও, উবার, সহজ আরো কত কি… এমন যা কিছু আছে, সব অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিঃসন্দেহে ডিজিটালাইজেশনের ফসল। হতে পারে- পাঠাও-উবার-সহজ নামের মোবাইল অ্যাপগুলো সরকার তৈরি করেনি বা অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন নামে সেলস্ মার্কেটিং ওয়েবসাইট সরকার বানিয়ে দেয়না। তবে, ডিজিটালাইজেশনের আওতায় সরকার এইগুলো নিয়ন্ত্রন করে। সরকার তো আগেও অনেকেই ছিলো- কই এত্তো সব মোবাইল, ইন্টারনেট, অ্যাপ, অনলাইন মার্কেটিং এর কথা তো আগে শুনিনি, দেখিও নি- যিনি ডিজিটালাইজেশনের উদ্ভাবক, তিনি আগে থেকেই জানতেন- ডিজিটাল হলে দেশের মানুষ এই সকল সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাবে। এই মাত্র মৃত্যুশর্যায় আমার এক নিকট আত্মীয়কে দেখতে গেলাম – আর একটু দেরি হলে তাকে জীবিত পেতাম না। পাঠাও আমাকে এই সুবিধা সেবা দিয়েছে। সুতারাং পাঠাও রাইডারকে ধন্যবাদ। আর এই সকল কিছুর মূলে ডিজিটালাইজেশনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা সর্বজন স্বীকৃত। ডিজিটাল বাংলাদেশের যিনি স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রবক্তা- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং সুপুত্র “সজীব ওয়াজেদ জয়’য়ের” প্রতি আমি ও দেশের সাধারণ জনগণ আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ- (বিশেষ আলাপচারিতায় মাওলানা মুক্তাদির আহমদ) পাঠাও সুবিধাভোগী।
বিঃদ্রঃ এই হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের দৈনন্দিন বাস্তব চিত্র। সরকার বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে অকৃতজ্ঞ মনোবৃত্তি আপনাকে নির্বোধ করে রাখলেও দেশবাসী সচেতন এবং সুফলভোগী। দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে… জয় অবসম্ভাবি।