ভাঙ্গনরোধে ছোট ফেনী নদীতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ (ভিডিওসহ)

ফেনী প্রতিনিধি :
বর্ষা মৌসুমে মজলিশপুর ইউনিয়নে ছোট ফেনী নদীর উপকূলবর্তী এলাকা জোয়ারের পানির তোড়ে বসতভিটে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীভাঙন রোধে সরকারের নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটনের নেতৃত্বে ছোট ফেনী নদীতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বেড়া দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধে কাজ করছে এলাকাবাসী।

 

ছোট ফেনী নদীর নদের অববাহিকায় অবস্থিত সোনাগাজী উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়ন। গত বছর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এ ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ও শতশত একরের ফসলি জমি। এবার ভাঙনের মুখে পড়েছে ওই ইউনিয়নের কুঠিরহাট বাজার সংলগ্ন বিঞ্চপুর গ্রামসহ পাশ্ববর্তী এলাকা।

 

ভাঙন রোধে সরকার কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবার ভাঙন ঠেকানোর লক্ষ্যে এলাকাবাসীর সমন্বয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন ও মজলিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন উদ্যোগী হয়ে মাঠে নেমেছে। কেউ বাঁশ দিয়ে, কেউবা অর্থ দিয়ে নদের গতিপথ সরিয়ে দিতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বেড়া ও মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার সকালে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলা চেয়ারম্যান লিপটন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হোসেনসহ এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ভাঙ্গন এলকায় বাঁধ নির্মাণ করছে।

 

নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, আমার বসতভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে যান কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি রক্ষা হয় না। তবে এবার এগিয়ে এসেছে উপজেলা চেয়ারম্যান। এলাকাবাসী তার উদ্যেগে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণ করছে।

 

উপজেলা চেয়ারম্যান লিপটন বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মজলিশপুর ইউনিয়নে ছোট ফেনী নদীর উপকূলবর্তী এলাকা জোয়ারের পানির তোড়ে বসতভিটে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবারের বর্ষায় কুঠিরহাট থেকে চান্দলা গ্রাম পর্যন্ত নদীর তীর ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিমধ্যে বিঞ্চপুর গ্রামের কালিবাড়ি সংলগ্ন সরকারী পাকাসড়ক ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

 

এভাবে ভাঙ্গন অব্যহত থাকলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও ভাঙন রোধে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তাই আমি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে মজলিশপুরবাসীকে একত্রিত করে নদীর গতিপথ পরিবর্তনে এ পথ বেচে নিয়েছি। এটি সফল হলে নদী ভাঙন রোধ হবে।

 

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, এ মহৎ কাজের সাথে যারা জড়িত সবাইকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। নিজেদের সম্পদ রক্ষায় বাঁশ দিয়ে, অর্থ দিয়ে ও স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজটি আসলেই প্রশংসনীয়।’

তিনি আরো বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগীতা করবো। বাংলারদর্পণ

ভিডিও দেখুন >>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *