শিক্ষক আমির ভুঞার ভিটে-মাটি নিলামে তুলতে বড় ভাই বাবুল মোক্তারের অভিনব প্রতারনা

স্টাফ রিপোর্টার:
সোনাগাজীর দলিল লিখক গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া (বাবুল মোক্তার) অভিনব প্রতারনার মাধ্যমে ছোট ভাইয়ের সম্পত্তির খারিজা খতিয়ান সৃজন করে ব্যাংকে মর্টগেজ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারনার শিকার হয়ে ভিটে-মাটি হারাতে বসেছে নিরীহ স্কুল শিক্ষক আমির উদ্দিন ভুইয়া। সোনাগাজী সহকারী কমিশনার (ভূমি) উক্ত খারিজা খতিয়ান বাতিল করে দিলে বাবুল মোক্তার ও তার ছেলে রাফাতুল হিমেল গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে হামলা করে ছোটভাইকে হত্যার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষক আমির উদ্দিন ভুইয়া বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী, এলাকাবাসী ও থানায় দাখিল করা অভিযোগের সুত্রে জানা গেছে- জিৎপুর গ্রামের মরহুম ছাদেক ভুঞার জীবদ্দশায় ৩০/১২/২০০২ ইং তারিখে মতিগঞ্জ এস.আর অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৬৬৩০/০২ নং দানপত্র দলিল মূলে ৪৮ শতক সম্পত্তি তার দুই পুত্র গিয়াস উদ্দিন ভুঞা (বাবুল মোক্তার) ও আমির উদ্দিন ভুঞার নামে দান করে গেছেন। দানপত্র দলিলের মর্মমতে দুই ভাই সমান হারে মালিক হয়েছেন। বাবুল মোক্তার প্রতারনার মাধ্যমে আমির উদ্দিনের বসত:ভিটা সহ গোপনে সম্পত্তির মুল্যবান অংশের ২৪ শতক নামজারী করে ৪২২ নং খারিজা খতিয়ান সৃজন করে। উক্ত দলিল ও প্রতারনার মাধ্যমে সৃজিত খারিজা খতিয়ান ন্যাশনাল ব্যাংক সোনাগাজী শাখায় মর্টগেজ দিয়ে ঋনের নামে ১০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যথা সময়ে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করে ছোটভাই আমির উদ্দিনের ভিটে-মাটি নিলাম করিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করে। ব্যাংকের লোকজন বাড়ীতে গিয়ে মাস্টার আমির উদ্দিন ভুঞাকে ভিটে-মাটি ছাড়া করার হুমকি দিলে গিয়াস উদ্দিন বাবুল মোক্তারের জঘন্য প্রতারনার ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

নিরীহ স্কুল শিক্ষক আমির উদ্দিন ভুঞা বাদী হয়ে বাবুল মোক্তারের সৃজিত ৪২২ নং খারিজা খতিয়ান বাতিল করার জন্য সোনাগাজী এসি ল্যান্ড বরাবরে রিভিউ মামলা নং- ৪৯ (ঢররর) ২০১৯ দায়ের করলে দো-তরফা সূত্রে বিস্তারিত শুনানী শেষে প্রতারনামূলক ভাবে সৃজিত ৪২২ নং খারিজা খতিয়ান বাতিল করে দিয়ে পূর্বের বি.এস ১৫৯ খতিয়ান বহাল করা হয়। খারিজা খতিয়ান বাতিল হওয়ার পরে গিয়াস উদ্দিন ভুঞা (বাবুল মোক্তার) বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে ০৩/২০১৯ নং জমাখারিজ রিভিশান মামলা আনয়ন করে। জমা খারিজ বাতিল হওয়ার কারনে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ঋন পরিশোধের তাগাদা দিতে থাকলে বাবুল মোক্তার ও তার ছেলে হিমেল গুন্ডা পান্ডা লেলিয়ে দিয়ে স্কুল শিক্ষক আমির উদ্দিনকে হত্যা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। কারন, আমির উদ্দিন ভুঞার আবেদনের কারনে প্রতারনা মূলক খারিজা খতিয়ান বাতিল হয়।

এ শিক্ষক তার ভিটেমাটি রক্ষার্থে সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বাবুল মোক্তার ও তার ছেলে রাফাতুল হিমেল গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে গত ১১ জুলাই-২০১৯ তারিখে শিক্ষক আমির উদ্দিন ভুঞাকে আক্রমন করে হত্যার চেষ্টা করে। ঐ দিনেই আমির উদ্দিন ভুঞা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ (এসডিআর নং- ৯৫৫) দাখিল করেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মাস্টার আমির উদ্দিন ভুঞা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন- গিয়াস উদ্দিন ভুঞা (বাবুল মোক্তার) আমার সহোদর বড়ভাই। তিনি এ ধরনের জালিয়াতি করবেন তা কখনো ভাবতে পারিনি। আমি বড় ভাইকে পিতার মত শ্রদ্ধা সম্মান করি। জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে সৃজিত খারিজা খতিয়ান বাতিল হলে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ঋন পরিশোধের জন্য বড়ভাইকে চাপ দেয়া হচ্ছে।

আমার ভাই-ভাতিজারা মনে করে আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে একতরফা ভাবে খারিজা খতিয়ান আবার বহাল করে ব্যাংকের মাধ্যমে আমার ভিটে মাটি নিলামে তুলতে পারবে। আমি বেঁচে থাকলে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করে অন্য কোন উপায় থাকবে না। আর এ জন্যই তারা আমাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে। যে কোন সময় আমাকে হত্যা করে লাশগুম করে দিবে মর্মে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। তিনি বি.এস খতিয়ান বহাল রেখে ভিটে-মাটি রক্ষা করার জন্য এবং নিজের জীবন রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি প্রত্যাশা করেন।

জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন- মাস্টার আমির উদ্দিন ভুঞার লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে যথাযথ আইনী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
নাশনাল ব্যাংক সোনাগাজী শাখার ব্যাবস্থাপক বলেন- ব্যাংক ঋনের টাকা আদায় সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন ভুঞা (বাবুল মোক্তার) বলেন, ভুমির বিষয়টি পারিবারিক। তবে ব্যাংক ঋনের বিষয়টি আমার ব্যাক্তিগত। বিরোধীয় ভুমি দখল বন্টন হয় নাই। আমি আমার মালিকী ২৪শতক জমাখারিজ করেছিলাম। আমার খারিজা খতিয়ান বাতিলের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করেছি।

সূুত্র :সাপ্তাহিক ফেনীর ডাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *