সোনাগাজী প্রতিনিধি:
গত শনিবার (৪মার্চ) বিকালে সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বক্স বাড়ীর দরজায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মোমিন হোসেনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোমিন হোসেনের ২য় স্ত্রী বাদী হয়ে সুফিয়া খাতুন মায়া (২৭) আলমগীর হোসেন রিংকু (২৮) তারিফ (১৯) সাইফুল (২০) শাহাদাত হোসেন বাবু (১৮) কে অভিযুক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুপিয়া খাতুন মায়া মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কালু ব্যাপারী বাড়ীর কালা মিয়ার মেয়ে। হামলার ২দিন আগেই মোমিন হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে হয়। মোমিন হোসেন স্ত্রী-সন্তানেদের অত্যাচার ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা সহ্য করতে না ফেরে সুফিয়া খাতুন মায়াকে তালাক দেয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। মোমিন হোসেন তাদের অবৈধ ও অসামাজিক কাজে বাধা দেয়ায় প্রায়ই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে মোমিনের ঝগড়া হতো। এক পর্যায়ে সুফিয়া খাতুন মায়াকে তার বাবার বাড়ি রাজাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে বেশ কিছু দিন ধরে অবস্থান করছিলেন। ২মাস পূর্বে কোর্টের মাধ্যমে মায়াকে তালাক দেন মোমিন। এতে মায়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের নিয়া মোমিনের ওপর হামলা চালায়।
মোমিন জানান, আমি বিদেশ (সৌদি ও ওমান) থাকতাম এ সুযোগে মায়া আমার বসত ঘরকে মাদকের আস্তানা হিসেবে বেচে নেয়। এখানে তাদেওর সহযোগিদের নিয়ে মাদক সেবন করে। এক পর্যায়ে এসবের কারনে মায়াকে তার বাবার বাড়ি রাজাপুরে পাঠাই দিই। দেড়বছর আগে কাজীর মাধ্যমে এফিড় এফিডের মাধ্যমে মায়াকে তালাক দিই। মায়া তালাকনামা পাওয়ার পর মায়া তার দলবল নিয়ে আমাকে অপহরণ করে নিয়ে। সেখান থেকে এসআই শহীদ, বাদল চেয়ারম্যান ও সেলিম মেম্বারের সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করে। দেণ মোহরের টাকা নিবেনা এবং তারাক শুদ্ধ হয় নাই বলে আমাকে জানে মারার হুমকি দেয়। আমি তাদের ভয়ে দেন মোহরের বদলে ৩ডিসিম জায়গা সাব কবলা করে দিই। দলিল সম্পূর্ণ হওয়ার পর একদিন জোর পূর্বক মায়ার পরিবার মায়াকে আমার ঘরে প্রেরন করে। তার পরপরই রিংকু ও মায়া মিলে আমার সমস্ত চাষের জমি ৫০ফিট গভীর করে মাটি বিক্রি করে দেয়। খবর শুনে আমি বাড়ীতে এসে কোন রুপ তাদেরকে জিজ্ঞেস করি নাই। রিংকু ও মায়া দুজন মিলে আমার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান বরাবর ৭,৭৫০০০টাকার ক্ষয় ক্ষতির হিসাব দাখিল কওে পিটিশন দেয়। চেয়ারম্যান তার(মায়ার) তালাক নামা পাওয়ার পর মায়াকে এগ্রামে না থাকার নির্দেশ দেন। এরপরই গতবুধবার আমি সামাজিকভাবে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ের ২দিন পর শনিবার আমার বিবাহের ২দিন পরই মায়ার ভাড়াটে সন্ত্রাসী খুনি আলমগীর হোসেন প্রকাশ বোমা রিংকু সাং-দৌলত কান্দি পিং- মোখলেছুর রহমান ও তার সহযোগী সাইফুল পিং-আবু তৈয়ব সাং-পক্ষিয়া, তারিফ পিং আবু তাহের সাং পক্ষিয়া,শাহাদাত হোসেন বাবু সাং-সৈয়দপুর দ্বারা আমাকে শনিবার বিকালে আমার বাড়ীর সামনে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা করে। প্রথমে রিংকু আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আগাত করে সাথে সাথে আমার ষরীর রক্তে বেজে যায় সাথে সাথে রিংকুর সঙ্গীরা অতর্কিত মারতে থাকে। এক পর্যায়ে রিংকু আমাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে তার সহযোগীদের আদেশ দেয়। আমার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে ওদেরকে ধাওয়া করে। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমি মৃত ভেবে মাটিতে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর আমার বাড়ী ও এলাকার লোকজন আমাকে উদ্ধার করে সোনাগাজী হাসপাতালে ভর্তি করে। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে রিংকুর নেতৃত্ত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বাড়ীতে এসে আমার ঘর লুটপাট করে নগদ ১,৬৫০০০টাকা, ৩টি দামী মোবাইল সেট সহ আনুমানিক ৫লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
আমি এখন একা তাই মামলা করতে দেরি হয়েছে। মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
সোনাগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান,অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।