Main Menu

পরিবারের স্মৃতিতে শহীদ কমান্ডার নুরুল আফছার- মালিহা তারান্নুম

 

মুক্তিযুদ্ধ…..

খুব পরিচিত একটা শব্দ,অন্তত আমার জন্য। সেই ছোটবেলা থেকেই তো পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি এবং বিভিন্ন বই-পুস্তকে পরে এসেছি। কিন্তু এতো ছোট মনে তখন এতো কিছু ঢুকতো না। বুঝতে পারতাম না। তবে আজ বুঝি এই অবাধ স্বাধীনতা, সবুজ শস্যে ভরা সোনার মাটি  ও আমাদের প্রাণ প্রিয় সুন্দর বাংলাদেশে  বেঁচে থাকার মর্ম। ভাবতেই খুব ভালো লাগে যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্যই বাংলার দামাল ছেলেরা অসীম দেশপ্রেম মনের মধ্যে লালিত করে দেশকে এনে দেয় স্বাধীনতা। আর এই আনন্দের মাত্রা আমার কাছে গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যখন মনে পড়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আমার পরিবারের একজন ও দেশের জন্য লড়েছেন। তিনিও শহীদ যোদ্ধাদের একজন। যদিও তিনি সরাসরি যুদ্ধে পাকিস্থানী হানাদারদের হাতে শহীদ হননি। শহীদ হয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও যুদ্ধ করে। হ্যাঁ,পাঠকগণ। ইনিই হলেন আমার শ্রদ্ধেয় নানাভাই তথা নানুর প্রিয় ও আদরের ছোট ভাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আবসার।  আমার নানু ছিলেন ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড়। তারপর আমার নানাভাই( আফছার)। উনারা প্রায় কাছাকাছি বয়সের ছিলেন। নানাভাই( আফছার) যেহেতু পরিবারের বড় ছেলে,তাই সবাই উনাকে খুব আদর করতেন। নানুই সবচেয়ে বেশি আদর করতেন। পরিবারের শিক্ষা-দীক্ষা নিয়েই বেড়ে উঠছিলেন তিনি। বয়স আর কত! এ তো ১৮ কি ১৯! উনার দুই ভাগিনা ভাগ্নি ছিল। (বর্তমানে আমার বড় খালামনি ও বড় মামা)  তন্মধ্যে উনি আমার বড় খালামণিকে খুব বেশি আদর করতেন। বড় খালামণিকে উনি বলেছিলেন,তোকে আমি খুব বড় ডাক্তার বানাবো।আজও খালামনি নানাভাই এর কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর জন্য দোআ করেন।পরিবারের যারাই নানাভাইকে( আফছার) দেখেছেন সবাই নানাভাই এর সাথে কাটানো সুন্দর স্মৃতিগুলো মনের মধ্যে গেঁথে রেখেছেন।তাঁরা হয়তোবা সব স্মৃতি স্মরণ করতে পারেন না। কিন্তু আমরা যখন উনাদেরকে নানাভাই( আফছার) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি উনারা তখন বাকরুদ্ধ হয়ে যান।চোখের কোনায় পানি জমে সবকিছু ঝাপসা হয়ে উঠে। আর যখন পরিবারের বড়রা বলেন আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনি। শুধু শুনি না;মনে হয় যেন,উনাদের সাথে আমরাও ঐ দুঃসময়টা পার করে বুড়ো হয়ে গেছি।স্মৃতিচারণ করতে করতেই বুড়ো হয়েছি।আমার নানা ভাই এবং নানু দুজনেই নানাভাইকে(আফছার) খুব কাছ থেকে দেখেছেন।নানা উনাকে নিজের ভাইয়ের মতোই ভালোবাসতেন।শুধু অবসার নানাভাই নন,সব নানাভাইকেই আমার নানা খুব ভালোবাসতেন। উনার ভালোবাসার প্রগাঢতা এমন ছিল যে, সেসময়ে যে কোনো একজন নানাভাইয়ের প্রয়োজনে আমার নানা নিজের রক্ত দেন যেসময়ে রক্তদান একটা ভীতিকর ব্যাপার ছিল। আল্লাহ আমার মরহুম নানাকে জান্নাতবাসী করুন(আমিন)। (আফছার)নানাভাইকে ঘিরে নানার অনেক অব্যক্ত স্মৃতি রয়ে গেছে যা হয়তো আমরা আর কখনোই জানতে পারবো না। কিনতু সময় তার সাক্ষী হয়ে থাকবে।    আমার নানুর কথাই বলি। নানু এবং নানাভাই(আফছার) ছিলেন পিঠাপিঠি ভাইবোন। খুঁনসুটি,ভালোবাসা সবকিছুই ছিল তাদের মধ্যে। নানাভাই(আফছার) আবার খুব দুষ্ট ছিলেন। বড়আব্বু (নানাভাইয়ের আব্বু) নানাভাইকে সাধারণরত হাত-খরচের টাকা পয়সা দিতে চাইতেন না এই ভেবে যে, ছেলে হয়তবা খারাপ হয়ে যেতে পারে;যদিও বড়আব্বুর সহায়সম্পত্তি ও প্রতিপত্তি ছিলো অনেক বেশি। তাই নানাভাই(আফছার) নানুর কাছেই গিয়ে আবদার করে বলতেন,- বুবু আমাকে কিছু টাকা দাও না!নানু কখনো দিতেন আবার কখনো দিতেন না। একবার এরকম নানু য্খন টাকা দিলেন না , তখন রাতের বেলা নানাভাই(আফছার) বড়আব্বুর কিছু কাপড় একটি পুঁটলিতে বেঁধে ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাঁশঝাড়ের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে চলে আসেন।পরেরদিন সকালবেলা উনি নিজেই বাড়ির সবাইকে জানিয়ে দেন যে রাতের বেলা চোর এসেছিলো। খোঁজাখুঁজির পর অবশ্য সব জিনিসই পাওয়া যায়। তখন নানু নানাভাইকে(আফছার) একপাশে ডেকে নিয়ে বলেন,- চোর বুঝি আমার বইয়ের ভিতর থেকেই টাকা চুরি করেছিল রাতের বেলা? ধরা পড়ার পর নানাভাই(আফছার) বলেন-,বুবু তুমি আব্বাকে কিছু বলো না। আমি যখন বড় হয়ে চাকরি করবো তখন তোমার সব টাকা দিয়ে দিবো।  তৎকালীন সময়ে আমার নানাভাইয়ের(আফছার) ভালোবাসা ও শিক্ষা ছিল অসামান্য ও অতুলনীয়। যদিও উনি উনার ভাগ্নিকে খুব আদর করতেন,তবুও তিনি তাঁর ভাগ্নিকে সুশিক্ষা দিতে কার্পণ্য বোধ করেন নি কখনো। একবার উনি উনার প্রিয় ভাগ্নিকে নিয়ে দুপুরের একটি দাওয়াতে যান। উনার ভাগ্নির আবার ডিম্ সিদ্ধ ছিল খুব পছন্দের। তাই উনার ভাগ্নি বাড়ি ফেরার আগে দাওয়াত থেকে সবার অজান্তে একটি সিদ্ধ ডিম্ নিয়ে আসেন বাড়িতে গিয়ে খাবেন বলে। কিন্তু নানাভাই( আফছার) জানতে পারার সাথে সাথে প্রিয় ভাগ্নিকে একটা লাগিয়ে দেন এবং অনেক বকা দিয়ে বলেন আর জন কখনো এরকম না করেন। এভাবেই চলছিল উনার দিনগুলো। একটা সময় দেশের বিপদে যুদ্ধের জন্য ডাক আসে। হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যে নিমিষেই যেন তিনি খুব সাহসী হয়ে উঠেন। সেইসাথে বুঝদার ও বটে। তাই তো উনি ভয়ে পিছু হতে যান নি। বরং দেশের প্রয়োজনে যখনই উনার ডাক আসতো তখনি উনি ছুতে চলে যেতেন সেখানে। কোনো পিছুটান উনার গতি কখনো রোধ করতে পারে নি। বড়আব্বু জানতেন না যে উনার ছেলে এতো বড়ো হয়ে গেছে। জানলে হয়তোবা উনি উনার ছেলেকে প্রথম প্রথম বকা দিতেন না। প্রথম দিকে  বড়আব্বু উনাকে রাতে বাইরে যেতে নিষেধ করতেন. কারণ দেশের পরিস্থিতি তখন মোটেই সুবিধার ছিল না। পরে যখন বুঝতে পারলেন উনার ছেলে দেশের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন তখন থেকে আর কিছু বলতেন না। শুধু নীরবে আল্লাহর কাছে ছেলের জন্য দোআ করে গেছেন। মাঝে মাঝে বড়আব্বু নানুকে বলতেন যেন উনি নানাভাইকে(আফছার) বোঝান। নানুকে বড়আব্বু খুব আদর যত্ন করতেন। নানুর প্রত্যেকটা আবদার ই তিনি রেখেছিলেন। তাই উনি নানুকে গিয়ে মাঝে মাঝে দুঃখ প্রকাশ করতেন। শুধু যে বাবার ই চিন্তা ছিল তা না। বোন ও ভাইয়ের চিন্তায় সারাক্ষন অস্থির হয়ে থাকতো। এই বুঝি ভাইয়ের কিছু হয়ে গেলো। আর হয়তোবা বুবু ডাকটা শুনতে পাবো না। নানু নানাভাইকে(আফছার) বলতেন এসব ছেড়ে পরিবারের কাছে চলে আসতে। কিন্তু এসব কোনো কথাই নানাভাইকে(আফছার) টলাতে পারতো না। বরং এক অন্ধকার রাতে এসে উনি নানুকে বলেন,- বুবু আমি এখন যে জায়গায় আছি সেখান থেকে ফেরার আশা করা সম্ভব নয়। আমার মতো দামাল ছেলেরা যদি দেশের এই বিপর্যয়ে ঘরের কোনায় গিয়ে ভয়ে বসে থাকি তবে এই সোনার দেশটা স্বাধীন হবে কি করে?নয়তো দেশের মানুষের কাছে আমরা দায়বদ্ধতা এড়াতে পারবো না। বুবু আমার যেকোনো সময়ে যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। আমার অনুপস্থিতিতে বাবাকে আর পুরো পরিবারকে দেখাশোনার দায়িত্ব তোমার। আমার জন্য তোমাদেরকে অনেক কষ্ট ও সহ্য করতে হতে পারে। বাবা মা কে আমার সালাম দিয়ো। আল্লাহর কাছে আমার জন্য আর দেশের স্বাধীনতার জন্য দোআ করো। প্রত্যেকটি কথাই বুবুর অন্তরে গিয়ে বাধা পায়। হজম করার শক্তি যেন নেই। এরপর নানাভাই(আফছার) ইন্ডিয়া চলে যান ট্রেনিং এর জন্য।  অনেকদিনপর নানাভাই(আফছার) আসেন বাড়িতে পরিবারের সবার খোঁজ নেয়ার জন্য। শুনেছি নানাভাই(আফছার) যখন বাড়িতে আসতেন তখন বাড়ির পিছনে পুকুরের পাশে এক গর্তের মধ্যে উনার অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন যে গর্তের মধ্যে ঢুকে উনার প্রিয় ভাগ্নি অনেক দুষ্টমি করতেন। যখন উনি বাড়িতে থাকতেন তখন রাতের সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আকাশের দিকে তাকে করে গুলি ছুড়তেন। আর সেই গুলি নিয়ে উনার পাশে বসেই খেলা করতেন দুই ভাগিনা ভাগ্নি। আস্তে আস্তে গ্রামের লোক জানতে পারেন যে ফরাজী বাড়ির বড় ছেলে মুক্তিযোদ্ধা। খবরটা পাকবাহিনীর কাছে যেতেই একদিন ওরাও সুযোগ বুঝে আক্রমণ করে ফরাজী বাড়ি। মানুষজন জানে বেঁচে গেলেও নিরীহ পশুগুলোকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। এমনকি নানুর  বিয়ের শাড়ি আর গয়নাগুলো পর্যন্ত নিস্তার পায় নি।সব কিছু জলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রাতে নানাভাই( আফছার) বাড়িতে ফেরার পর জানতে পারেন মিলিটারিরা সব জ্বালিয়ে দিয়েছে তখন উনি ক্রোধে ফেটে পড়েন , সেই সাথে নানুর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন,-বুবু আমি তোমার  বিয়ের শাড়ি আর গয়নাগুলো রক্ষা করতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দিয়ো।নানু উনাকে শান্তনা দিয়ে বলেন,ওসব কিচ্ছু না। এদিকে শহরে চাকরিজীবিরতো নানা, নানুর আর বাড়ির খবর শুনে সাথে সাথে রওনা দেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়ির কাছাকাছি হতেই কিছু লোক নানার হাত পা বেঁধে নিয়ে যায় পাকবাহিনীর সদস্য ভেবে। কিন্তু পরে যখন মুক্তিবাহিনীরা জানতে পারে উনি কমান্ডার নুরুল আবছার এর দুলাভাই তখন ওরা সাথে সাথে নানার কাছে ক্ষমা চেয়ে নানাকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

একবার খালামনির গলার চেইন টা এক টান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন নিতে চাইলে পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলো এই ইটা কমান্ডার নুরুল আবসার এর ভাগ্নি। তখন আর ওই যোদ্ধাটি চেইনটা নেয় নি। শুধু সহযোদ্ধা নয়,গ্রামের মানুষগুলো ও নানভাইকে(আফছার) খুব শ্রদ্ধা করতেন ও ভালোবাসতেন। যুদ্ধের পরে ও যদি ভ্যানগাড়ি ওয়ালাকে কেউ বলতো- আমি আবছারের পরিবারের লোক তখন ওই চালক আর তার পারিশ্রমিক খুঁজতেন না। আজ গ্রামের লোকজন নানাভাই এর কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ফুল দেন এবং দোআ করেন।  তখনকার যুদ্ধের অবস্থা এতটা ভয়াবহ ছিল যে শত্রুরা যেন এক একটা নরপশুতে পরিণত হয়েছিল। ইসলাম এ আছে , যুদ্ধের সময় নারী ও শিশুরা হলো নিষ্পাপ। তোমরা তাদেরকে সম্মান করো এবং নিরাপত্তা দাও। কিন্তু সেসময় কাহিনী ছিল যেন উল্টা। তখন নিরাপদ ছিল পাকিস্তানী দোসররা এবং সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তায় ভুগতো নারী ও শিশুরা।  মাঝে মাঝে নারী ও শিশুরা পাকবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শরীরে-মুখে কালী মেখে রাখতেন। আমার খালামণিকে তখন বুক পরিমান পানির মধ্যে মাথায় শিকড় দিয়ে ঢেকে রাখতেন যাতে উনাকে চোখে না পরে। সেসব পাষান হৃদয়ে ছিল না কোনো মায়া।নির্বিচারে অনেক দুঃখী মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে ঐসব পশুরা কুন্ঠিত হয় নি। এতরকম ভয় ও আশংকা নিয়ে এক পর্যায়ে যুদ্ধ শেষ হয়। ডিসেম্বর মাস। সীতাকুন্ড,মিরসরাই,নোয়াখালী,ফেনী অঞ্চল তখন স্বাধীন হয়। নানাভাই( আফছার) সহীহ সালামতে বাড়িতে ফিরে আসেন। সবার অপেক্ষার পালা শেষ হয় এবং বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু বেশিদিন সেই খুশি স্থায়ী হয় নি। সবাই তখন অস্ত্র জমা দিয়ে দিচ্ছিলো। নানাভাই ও অস্ত্র জমা দিয়ে দেন। তখনই তিনি জানতে পারেন উনার প্রাণ প্রিয় বন্ধু এখনো অস্ত্র জমা দেয় নি এবং সেই অস্ত্র দিয়ে উনার কয়েকজন বন্ধু লুটতরাজ  ও অপকর্ম করছিলেন। নানাভাই সেটি সহ্য করতে পারেন নি। এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। কিন্তু উনার বন্ধু উনার কথা পাত্তাও দিলেন না এবং মনে মনে উনার প্রতি ক্ষোভ জমাতে শুরু করেন।  তো বিজয় দিবসের কিছুদিন আগে বড়আম্মু বড়ো বড়ো রাজঁহাস রান্না করেন  দাওয়াত করে খাওয়াবেন বলে। ঠিক সেইদিনই নানাভাইয়ের সেই বন্ধু নানাভাই( আফছার) কে নোয়াখালী থানায় ডাকে। নানাভাই(আফছার) যাওয়ার পর প্রথমে উনাকে বন্দুক দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়ে উঠেনি ব্রাশফায়ার এর অবিরত গুলি করার কারণে।  বড়আব্বু জানতে পেরে সাথে সাথে ছেলের লাশ এর খোঁজ করেন। সেই বন্ধু  নানাভাই(আফছার) এর লাশ প্রায় ৫-৬ মাস বের করে দেন।  অনেক লোক সেদিন নানাভাই(আফছার) কে দেখতে এসেছিলো। আর বড়আব্বু সবাইকে বলছিলেন-, দেখো দেখো, সবাই আমার ছেলেকে দেখো।  আমার ছেলের দাঁত এখনো চকচক করছে। মূলত উনি শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের শোকে  বড়আম্মু অনেকদিন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিজের গলায় নিজেই ছুরি বসিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আজ আর আমার বড়আম্মু বড়আব্বু( আফছারের বাবা-মা) নেই। উনারা হয়তো এখন নিজের ছেলের সাথে রয়েছেন। সব শহীদ যোদ্ধাদের প্রতি এবং আমার শ্রদ্ধেয় নানাভাইয়ের(আফছার) প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক আল্লাহর কাছে উনাদের মাগফেরাতের জন্য দুআ করি। সবশেষে সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই আবেদন রইলো যাতে আমার নানাভাইকে( আফছার) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয়। যে গ্রামকে মুক্ত করতে তিনি জীবন দিয়েছেন সেই গ্রামের উনার কবর সংলগ্ন সড়কটি উনার নামে’শহীদ নুরুল আফছার” সড়ক নামকরণ করা হয়।

( শহীদদের একমাত্র বোন ও ভাগ্নির স্মৃতিচারণ হতে)

লেখিকা -শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল অাফছার এর নাতনী






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *