Main Menu

সুনামগঞ্জে বিনোদনের নামে চলছে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার মহোৎসব 

মো. নাইম তালুকদার, সুনামগঞ্জ থেকে :

সুনামগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহি ষোলঘর মাঠে মাসব্যাপি শুরু হওয়া শিল্প ও পণ্য মেলার আড়ালে বিনোদনের নামে চলছে সাধারন মানুষের পকেট কেটে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নেয়ার । মেলার মাঠের ভেতরে শিশুদের বিনোদনের নামে চলছে লুটপাট ও ব্যাপরোয়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় বাণিজ্য। হাওরের পাড়ে অবস্থিত শ্রমজীবী মানুষ, আউল বাউল ও সংস্কৃতির জেলা হিসেবে দেশব্যাপি সুনাম রয়েছে। ২০১৯ সালে জানুয়ারী মাসের প্রথমদিকে জেলা শহরের ষোলঘর ষ্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং বাংলাদেশ বেনারসী মসলিন এন্ড জামদানি সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী শুরু হয়েছে শিল্পও পণ্য মেলা। এই মেলা বাহির থেকে শিল্প ও পণ্য মেলা মনে হলেও ভিতরের দৃশ্য ব্যতিক্রম ও উল্টো। মেলার আড়ালে এক ধরনের জোয়া খেলার আখড়ায় পরিনত হয়েছে মেলার ভিতরের চারপাশ। আর মাইকের বিকট আওয়াজ আশপাশের পাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের ছেলেমেয়ে চলতি বছরের শুরু হওয়া এস এস সি পরিক্ষাথীদের্র পড়াশোনার বারটা বাজিয়ে দিচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। মাইকের আওয়াজে একদিকে যেমন পড়াশোনার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে অপরদিকে শব্দ দূষনে স্থানীয়রা অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লোকজন জানান।

অন্যদিকে মেলায় প্রবেশ মুল্য ১০টাকা দিয়ে টিকেট কিনে মেলায় প্রবেশ করছেন ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের নিয়ে তাদের অভিভাবক  দর্শনার্থীরা। মেলার ভেতরের চারপাশ ঘুরে দেখা যায় শিল্প ও পণ্য সামগ্রী তেমনটা নেই অধিকাংশই বাচ্চাদের মন কাড়ানো বিনোদন ব্যবস্থা রয়েছে এই মেলায়। যা সুনামগঞ্জ বাসীর জন্য এক বেদনা দায়ক হয়ে দাড়িয়েছে। অতিরিক্ত টাকায় টিকেট নিয়ে প্রতিদিন বিনোদন উপভোগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন জেলা নি¤œআয়ের মানষজন। নুন আনতে যাদের পানতা পুরায় তার মধ্যে আবার বসেছে এই মেলা।

মেলায় ৭০টিরও বেশি ষ্টল বসেছে বিভিন্ন নিন্মমানের পণ্য সামগ্রী নিয়ে। পাশাপাশি বাচ্চাদের অতিরিক্ত বিনোদনে ঘিরে রয়েছে পুরো মেলার আঁিঙ্গনা । যেখানে অন্যান্য বছরের বাণিজ্য তুলনায় তিনগুন বাড়তি বিনোদনের ব্যবস।থা করে রাখা হয়েছে ।এই শিল্পও পণ্য মেলার নামে সাধারন  মানুষদের পকেট কাটার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। প্রবেশ টিকেটের নামে চলছে লটারি ব্যবসা ১টির জায়গা একেক জন ৪০/৫০টিরও বেশি টিকেট সংগ্রহ করছেন মটর সাইকেল আর গাড়ি পাওয়ার লোভে । এদের মধ্যে রয়েছে দিন মজুর যারা সারাদিনের রোজ গারের টাকা দিয়ে এই টিকেট ও মেলার বিনোদন উপভোগ করছেন ।

সরেজমিনে ঘুরে মেলায় আসা দর্শনাথীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাচ্চাদের বিনোদন উপভোগ করাতে গিয়ে আমাদের পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে।  বিনোদনের নামে মেলায় বসেছে ¯িøপার যমুনা পার্ক যা  শিশুদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয় মন কাড়ানো খেলা। তারা আরো জানান যাদের টাকা আছে তাদের সন্তানরাইএই পণ্য মেলায় এসে বাচ্ছাদের বিনোদন হিসেবে খ্যাত ¯িøপার বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন। বাচ্ছাদের  ¯িøপার বিনোদনের টিকেট ১৫ মিনিটের জন্য কিনতে হয় ৩০০ টাকায় । আবার অনেকে বলছেন এটা নামে শিল্পও পণ্য মেলা হলেও  আড়ালে  আয়োজকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। অপরদিকে আয়োজকরা দর্শকদের আকৃষ্ট করতে প্রশাসনের চোখ ফাকিঁ দিয়ে বিনোদনের আড়ালে অশ্লীল নৃত্য পরিচালনা করে কামিয়ে নিচ্ছেন অধিক মোনাফা।

 

বিনোদনের মধ্যে রয়েছে নাগরদোলা যার টিকেট মুল্য ৩০টাকা , নৌকা দোলনা টিকেট ৫০ টাকা, রেলগাড়ি ৩০ টাকা, হেলিকপ্টার বিনোদন ৩০টাকা, মটরসাইকেল ও গাড়ির জেন্ডার গেইম টিকেট মুল্য ৩০টাকা, হাতিঘোড়া চড়কি টিকেট ৩০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে বড়দের জন্য সবচেয়ে বেশি সময়ের বিনোদন দিবরুল সার্কাস যার টিকেট মুল্য ৫০টাকা,৭০টাকা,৯০টাকা প্রায় আড়াই ঘন্টার এই বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শতশত দর্শক। শুধু মাত্র রাক্ষসী বিনোদন যমুনা পার্কে বেবি বিনোদনের ব্যবসার নামে তারা প্রতিনিয়ত কামিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত লাখ লাখ টাকা। এই রাক্ষসী বিনোদন বন্ধ করে মেলায় সাধারন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্য সহনীয় পর্যায়ের টিকেট বিনোদন রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট দাবী জানাচ্ছেন পাশাপাশি অতিরিক্ত টিকেটের বিনোদন বন্ধে আয়োজনকারী ও কতৃপক্ষ নজর দিবেন এমন দাবী ভূক্তভোগী সুনামগঞ্জ বাসীর।

 

এব্যাপারে মেলার মালিক বাবলু মিয়ার কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান আমরা ব্যবসা করতে এসেছি আপনারা পত্রিকায় নিউজ না করে আমাদেরকে  সাহায্যসহযোগিতা  করুন। সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্য দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার দিপন বাবু দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি সকল গণমাধ্যমকর্মীদের কন্ট্রোল করবেন। তারপরেও আপনাদের  কিছু জানার থাকলে সাংবাদিক দিপন বাবুর কাছ থেকে জেনে নিবেন ।

 

 

এব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রাজা চৌধুরী বলেন একটি মেলা চলবে সরকারের নীতিমালার আলোকে। কেহ যদি বিনোদনে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন এবং মেলার সুষ্টু পরিবেশ বিনষ্ট করতে মেলায় অশ্লীল নৃত্য চালার্নো চেষ্টা করেন তাহলে অবেশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ ব্যাপরে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আহাদ জানান,এই বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ শরিফুর ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *