Main Menu

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ১৫টিতে সেনা, ১টি নৌবাহিনী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী দেশের ৩৮৯ উপজেলায় এবং নৌবাহিনী ১৮ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবে। গতকাল বিকেল থেকে সেনা সদস্যরা অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। আজ থেকে তারা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে সেনাবাহিনী এবং একটিতে নৌবাহিনী দায়িত্ব

পালন করবেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পূর্বে, ভোট গ্রহণের দিন ও পরে আইন ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচন কমিশন অথবা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে সন্দ্বীপের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর সদস্যরা গতকাল সন্দ্বীপে অবস্থান নিয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। বাকি ১৫টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) এবং চট্টগ্রাম-৮ এর বোয়ালখালী এলাকার সেনাসদস্যরা আসছেন নবগঠিত কঙবাজার সেনানিবাস থেকে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবর শাহ), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-৮ ( চান্দগাঁও-বোয়ালখালী), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-খুলশী) এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের সেনাসদস্যদের মোতায়ন করা হয়েছে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে।

এক একটি আসনে তিনটি থেকে পাঁচটি পর্যন্ত অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা আজ থেকে বিভিন্ন আসনের কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন এবং রাস্তাঘাট পর্যবেক্ষণ করবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পরিপত্রের উদ্বৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। তবে রিটার্নিং অফিসার সহায়তা চাইলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে ইসির কাজে যাবতীয় সহায়তা দেবে সশস্ত্র বাহিনী। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনা বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এই বাহিনী।’

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কম-বেশি করা যাবে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনাসদস্য সংরক্ষিত হিসেবে মোতায়েন থাকবেন। বিমানবাহিনী প্রয়োজনীয়সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান জননিরাপত্তা বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও বাহিনীগুলোর অনুরোধে উড্ডয়নে সহায়তা করবে।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়, ‘যে ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সেখানে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। তবে বাহিনীর পোশাকে থাকবেন কিন্তু কোনো ধরনের অস্ত্র-গোলাবারুদ বহন করবেন না। ইভিএম কেন্দ্রে যেসব সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর নিকটতম টহল দল ও স্থানীয় ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *