Main Menu

আমি মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার দাবি করছি- মোঃ আনোয়ার সাদত সিদ্দিকী (রতন)

আমি কথা বলছি সর্ষের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভুত নিয়ে, কথা বলছি মেষ পালে ঘাপটি মেরে থাকা চদ্মবেশী নেকড়ে নিয়ে। ভালোর ভেতর মন্দের এ যুগপত মিশ্রন যুগে যুগে বাধ সেধেছে ভালোর চরম উৎকর্ষকে, কলংকিত করেছে প্রতিটি বড় অর্জনের সফলতাকে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনে কি ছিল তা জানতে হলে আমাদের স্পর্শ করতে হবে সে বিহঙ্গের অনুভূতি যে এ মাত্র খাঁচা থেকে ছাড়া পেয়ে তার বর্ণিল ডানা বিস্তার করেছে অসীম আকাশে। অনুভব করতে হবে সে ভাগ্যবানের হৃদ্স্পন্দন যার বুকে বাঁধা টাইম বোমাটি শেষ সেকেন্ডে নিষিক্র করে লম্বা দম ফেলেছে সেনবাহিনীর বোমা নিক্রিয়কারী স্কোয়ার্ড।
‘বুবু, আপনার নিকট আমার সার্টিফিকেট গুলো রেখে গেলাম। দেশের এ চরম মুহূর্তে আমি বসে থাকতে পারিনা। দেশের জন্য আমার কিছু করতে হবে। দেশ আমার মা। মাতৃভূমি রক্ষা করা ঈমানের অঙ্গ। তাই দেশের প্রয়োজনে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে চলে গেলাম।’ দেশ মাতৃকার বিবর্ণ দিনের অবসান ঘটিয়ে বর্ণিল স্বাধীনতার সুর্য্য চিনিয়ে আনার প্রত্যয়ে এর চিরকুটটি লিখে ঘরে রেখে রাতের আঁধারে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আফছার।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আফছারের ন্যায় লাখো মায়ের সন্তানরা তাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে খরিদ করেছেন লাল সবুজের পতাকা। সুদর্শন সুঠাম ও দীর্ঘ দেহের অধিকারী অবস্থা সম্পন্ন বনেদী পরিবারের বড় ছেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আফছার ছিলেন ন্যায় পরায়ন ও দুঃসাহসী।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরত্ব ত্যাগ, তাদের গৌরব-গাঁথা যেমন আমাদের স্বাধীনতার স্বর্ণালী অধ্যায় তেমনি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বর্বরতা আর নির্মমতা ও আমাদের ইতিহাসের কৃঞ্চ অধ্যায়। পুরাতন এবং নতুন প্রজন্ম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ সর্বত্র অবারিত।
আমি আজ উন্মোচিত করবো ইতিহাসের এক অপঠিত কলংকময় পৃষ্ঠা। ভূমিকায় যেমন অবতারণা করেছিলাম ছদ্মবেশী প্রতারণা নিয়ে। সত্যি কথা-এ বিষয়ে বলতে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। তথাপি প্রদীপের নীচের অন্ধকারের ন্যায় ততা ও ন্যায় নিষ্ঠার পাশা-পাশি হস্ত ধারণ করে চলা অন্যায়, অসতা ও সঠতার এ নির্মম ইতিহাস ও জানা প্রয়োজন আমাদের।
দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনের উষালগ্নে বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী থানায় হাতেগোনা কতিপয় বিপদগামী মুক্তিযোদ্ধা মেতে উঠেছিল নানা অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকান্ডে। লুটতরাজের পাশাপাশি এ দেশের স্বাধীনতার শত্রু রাজাকার, আলবদর বাহিনীর চিহ্নিত সদস্যদের টাকার বিনিময়ে (Save pass) দিয়ে ছেড়ে দেয়া সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সুযোগ সন্ধানী ঐ খল-নায়কেরা। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আবছার বিপদগামী এ সব তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের (মুষ্ঠিমেয়) এ সকল অবৈধ কর্মকান্ডের তীব্র বিরোধীতা করেন এবং এ ধরণের ঘৃণ্য অপারাধীদের টাকার বিনিময়ে (Save pass) নিয়ে সমাজে পুণঃ প্রতিষ্ঠার সুযোগ না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর তরফ থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অন্তরীন রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। স্বার্থে আঘাত লাগায় মোশারফ হোসেন, কাজী আবুল কাশেম, খোকা, গাজী  ও তাদের কতিপয় দুস্ককর্মের সহযোগী বিপদগামী তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারা ১১ ডিসেম্বর’ ১৯৭১ সালে নির্মমভাবে হত্যা করে দেশ মার্তৃকার অতন্দ্র প্রহরী ন্যায়-পরায়ন স্বাধীনতার এ সূর্য্য সন্তানকে। জীবন বাজি রেখে শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অর্জন করা স্বাধীন বাংলার মুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস গ্রহনের মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে ময়ুর পু”ছ পরা কাকের ন্যায় কুলষিত এ নষ্ট মানুষেরা স্বাধীনতার পবিত্র পতাকাকে রঞ্জিত করেছে আপন ভাইয়ের রক্তে। আজো স্বাধীনতা আর বিজয় দিবসে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধরণ মানুষের হৃদয় আকাশ বেদনার রক্তিমরঙ্গে বঞ্চিত হয়, আজো পাখিদের কুজনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছারের অব্যক্ত কথা ঝরে পড়ে কান্না হয়ে।
স্বাধীনতার চার দশক পর আজ যদি দেশ-মার্তৃকার স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীদের বিচার সম্ভব হয় তবে স্বাধীনতার মানস্পুত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আবছারের হত্যাকারীদের বিচার কেন অসম্ভব?
স্বাধীনতা যুদ্ধকে পুঁজি করে আজকের দিনে যেমন সুযোগ সন্ধানী গোষ্ঠির বিস্তার ঘটছে তেমনি তা অতিতেও বিরাজমান ছিল। সরকারের সদি”ছায় যদি সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে মুখোশ উন্মোচিত হতে পারে ও বিচারের মুখোমুখি হতে পারে তেমনি ভাবে তৎকালিন সময়ে ও যারা এ মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে এ ধরণের অন্যায় সুবিধাভোগ ও লুষ্ঠনে লিপ্ত ছিল এবং সরাসরি এমন একজন ন্যায় পরায়ন দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধার হন্তারক ছিল তাদের ও বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। হয়তো এতে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার আত্মার প্রতি ন্যুনতম সম্মান জানানো হবে। মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহারকারী এ সকল ধড়িবাজদের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, বরের সঙ্গী হলেই সবাই বর হয়ে যায় না। অগ্নি নির্বাপনের সময়  সেখানে তিন ধরনের লোকের সমাগম হয় যেমন-অগ্নি নির্বাপনকারী, দর্শক ও লুটতরাজকারী।
বর্তমানে থানা মুক্তিযোদ্ধাদের দন্ড মুন্ডের কর্তা হিসেবে অধিষ্ঠিত মুখোশধারী এ সকল ভন্ডদের স্বরূপ নতুন প্রজন্মের নিকট উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। চিহ্নিত করা প্রয়োজন সমাজের এ সকল ঘুণ পোকাদের পরিচিতি যারা কর্তন করেছে সে গৃহের  খুঁটি যার নীচে তারা দাঁড়িয়ে, একইভাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আফছারের সহযোদ্ধাদের ও প্রয়োজন তাদের প্রাণপ্রিয় কমান্ডারের হত্যাকারীদের বিচারের দাবীকে উচ্চকিত করা।
সরকারী ভাবে এ শহীদের হত্যাকারীদের যথাযথ বিচার করা, তাঁর সমাধী রাষ্টীয়ভাবে সংরক্ষণ করা, তাঁর নামে সোনাগাজী জিরো পয়েন্ট থেকে মুহুরী প্রজেক্টগামী রাস্তাটি নামকরণ করে তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণের বদান্যতা সরকারের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে কৃত দাবীকে আরো প্রতিষ্ঠিত করবে। উল্লেখ্য এ রাস্তার পার্শ্বেই চিরতরে সমাহিত আছেন যুগের শ্রেষ্ঠ সন্তান  কালজয়ী এ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
সর্বশেষে আরজ করছি মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামিন দেশের জন্য জীবন বিসর্জনকারী এ সাহসী মুক্তিযোদ্ধাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
বিনয়ের সঙ্গে বলছি, মুক্তিযুদ্ধ চালাকালীন সময়  সোনাগাজী থানায় ঘটে যাওয়া এক নির্মম ইতিহাস এ প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। ঢালাওভাবে সমুদয় সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা সমাজ এবং অত্র এলাকার বাকী মুক্তিযোদ্ধাদের এতে কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বরং তাদের অমূল্য অবদানে আজ আমরা নিঃশ্বাস নিচ্ছি মুক্ত-স্বাধীন সোনার বাংলাদেশে।

 

লেখক, মোঃ আনোয়ার সাদত সিদ্দিকী (রতন): শহীদ নুরুল আফছার এর ভাগিনা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *