ফেনী প্রতিনিধি : দাগনভুঞার মফিজুর রহমান লিটন নাকে এক বখাটে ছেলের বিরুদ্বে সংবাদ সম্মেলন করেছে মা আরাধন বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,
আমি আরাধন বেগম (৭০)স্বামী মৃত সফিউল্ল্যাহ, সাং-সোনাপুর, ডাকঘর-সিলোনীয়া বাজার, উপজেলা-দাগনভূঞা, জেলা-ফেনী বটে। আমার স্বামী মৃত সফিউল্ল্যাহ বিগত মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ১৯৭১ সালের ২৫ শে এপ্রিল তারিখে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। তাহার অবর্তমানে আমার ওয়ারিশ তিন পুত্র সন্তান যথাক্রমে ০১। মশিউর রহমান মিলন(৫২), ২। মফিজুর রহমান লিটন(৪৮) ও ৩। সাইফুর রহমান রতন (৪৬)।২নং ক্রমিকের সন্তান মফিজুর রহমান লিটন প্রাপ্ত বয়স অর্জনের পর তার ভবিষ্যত উন্নতির কথা ভেবে তাকে আমি নিজ মালিকীয় দখলীয় ১৫ শতকের জমি বিক্রি করিয়া ও অনেক টাকা দার দেনা করিয়া বিদেশ পাঠাই। প্রবাসে থাকিয়া কিছু অর্থ উপার্জনের পর হইতেই তার বেয়াদবি ও উচ্ছৃংখলতা ভয়াবহ আকার ধারন করে।২০০৯ সালের পূর্ব সময়ে দাগনভূঞা থানার কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজসে সে তার স্ত্রী হাজেরা খাতুনকে বাদি করিয়া আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বেশ কয়েকটি হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা সৃজন করে। এক পর্যায়ে সমাজের মান্যগণ্য ব্যাক্তিদের বিবাদি করিয়া বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এইভাবে আমার এই দ্বিতীয় পুত্র মফিজুর রহমান লিটন আমার শহীদ পরিবারকে ধব্বংশের দ্বার প্রান্তে উপনিত করিয়াছিল।বিগত ০৬/০২/২০১৮ ইং তারিখে দুপুর ১২ ঘটিকার সময় ফেনী পৌরসভার বিসিক এলাকার গ্যাস কোম্পানীর অফিসের সামনে এই মফিজুর রহমান লিটন ৪/৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আমার ছোট ছেলে সাইফুর রহমান রতন এর উপর হামলা চালায়। একই দিন ঐ সময়ের ঘন্টা দুয়েক পরে আবার তাকে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় হামাল করে। পরবর্তিতে আবার ০৯/০২/২০১৮ ইং তারিখে দুপুর ১২:৩০ ঘটিকার সময় সাইফুর রহমান রতন এর মালিকীয় দখলীয় জায়লস্কর উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বের পাকা দালান ঘরে ৪/৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করিয়া দেয় এবং পাঁচটি ভাড়াটিয়া পরিবারকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সে জয়লস্করের সাইফুর রহমান রতন এর উক্ত বাড়িতে গ্যাস লাইন কেটে দেওয়ার জন্য গ্যাস কোম্পানীর অফিসে চেষ্টা তদবীর চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই বিষযে দাগনভূঞা থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।কিন্তু দাগনভূূূূূূূূঞা থানা এসব ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থায় নিতে অপরাগতা প্রকাশ করে আসছে।এছাড়াও বিশস্ত সুত্র সহ লোকজনের মুখে শোনা যাইতেছে যে, আমার এই উচ্ছৃংখল ছেলে মফিজুর রহমান লিটন যে কোন সময় আমার বর্তমান ঠিকানার গ্রামের বাড়ীতে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আক্রমন করার হুমকি দিয়ে আসছে। ইহাতে আমার ও আমার অন্য সন্তানদের জানমালের নিরাপত্তা হীনতা অনুভব করে আসছি। সে অতি সম্প্রতি সাইফুর রহমানকে রতনকে আসামী করিয়া ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে বিগত ০৮/০২/২০১৮ ইং তারিখে তার ছেলে মো: ইমতিয়াজ ও মেয়ে নাহিদা আক্তার উর্মিকে অপহরনের মিথ্যা অভিযোগ আনিয়া সি,আর মামলা নং-৭০/২০১৮ দায়ের করে। এ মিথ্যা মামলাটি স্বাক্ষী প্রমানের অভাবে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে সে আবারও তার ছোট ছেলে মো: ইমতিয়াজ ওরফে লাদেন (১৫) কে অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ আনিয়া আমার পরিবারের সকল সদস্য ও গ্রামের নিরীহ অন্য ৫/৬ জন গ্রামবাসিকে আসামী করিয়া ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালত নং ১ এ পিটিশন মামলা নং ৯৬/১৮ দায়ের করে। সে তার ছেলে লাদেনকে অনত্র কোথাও লুকাইয়া রাখিয়া আমার সন্তানদের ফাঁসানোর জন্য এই মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত এই মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল ও ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য পিবিআই-কে নির্দেশ দেন। পিবিআই এর পরিদর্শক জনাব কামাল উদ্দিন প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে মামলাটির উদ্দেশ্য মূলক ও মিথ্যা বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করছেন। তবে তিনি এখনও আদালতে কোন প্রতিবেদন দাখিল করেনি।আমার এই কুলাঙ্গার সন্তান মফিজুর রহমান লিটন ইতিপূর্বেও বিগত ১০ বছর যাবত দাগনভূঞা থানা ও আদালতে বহু মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়া আমাদেরকে হয়রানি করিয়াছে। এসব বিষয়ে দাগনভূঞা থানায় পর পর কয়েকটি সাধারন ডায়েরী ও অভিযোগ দায়ের এবং পুলিশ সুপারের বরাবরে কয়েকবার অভিযোগ দায়ের করলেও আমরা সুবিচার পাইনি। লিটনের ইতিপূর্বেকার মিথ্যা মামলা গুলো হইতেছে, দাগনভূঞা থানার জিআর-১৩৪/০৮, জিআর ১৫৬/০৮(চাঁদাবাজির মামলা), নন-জিআর-১৬/১২(১০৭ ধারার মামলা), ফেনীর নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিটিশন মামলা নং ১৫৩/১১ (১৪৫ ধারার মামলা), পিটিশন মামলা নং ০১/০৮ (১৪৫ ধারার মামলা), কাতার থেকে দূতাবাসের মাধ্যমে মামলা দায়ের–যাহা ফেনীর পুলিশ সুপারের স্মারক নং ৪৪১৬/২য় তারিখ ০৭/১০/২০১২ ইং মুলে অবগত। উচ্ছৃংখল বেয়াদব মফিজুর রহমান লিটনের এসব মামলা-হামলার বিরুদ্ধে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে দাগনভূঞা থানায় সাধারন ডায়েরি নং ৫৫৪ তারিখ ১৪/০৭/০৮ ইং, ডায়েরি নং ২৬০ তারিখ ০৭/০৭/২০১০ইং, বিগত ০৯/০২/২০১৮ ইং ও ১৫/০৪/২০১৮ ইং তারিখের দাখিলকৃত অভিযোগ এবং ফেনীর পুলিশ সুপারের নিকট বিগত ১৪/০৬/২০১০ তারিখে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তাছাড়াও ২০০৮ইং সনের সংশ্লিষ্ট সময়ে ফেনীর পুলিশ সুপার ও দাগনভূঞা থানায় অনেক অভিযোগ দাখিল করলেও বেয়াদব লিটনের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি।আমার এই কুলাঙ্গার সন্তান ফৌজদারি আইনের গুরুতর ধারায় (জামিন অযোগ্য ধারায়) বহু মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়াছে। যেমন- চাঁদাবাজি, হত্যা চেষ্টা, লুট ইত্যাদির ধারা প্রয়োগে মামলা করিয়াছে। এক পর্যায়ে সে কাতার প্রবাসে থাকিয়া জায়লস্কর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, বাজার কমিটির সেক্রেটারি সহ ৩২ জন মান্য গণ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে দূতাবাসের মাধ্যমে মামলা দায়ের করিয়াছে। যাহা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমানিত হইয়াছে এবং আদালত খারিজ করে দিয়েছে। সে ২৪ ঘন্টা সর্ববস্থাতেই মদ্যপ অবস্থায় থাকে। গুরুজনদের প্রতি বেয়াদাবি ও উচ্ছৃৃংখলতা তার অভ্যাসে পরিনত হইয়াছে। আদম ব্যাপারীর প্রতারনা, নারী ঘটিত কেলেংকারি, ধার-দেনার প্রতারনা হইতে শুরু করিয়া দুনিয়ার এমন কোন অপকর্ম নাই যা সে করে না। এইভাবে তার মামলা হামলার অত্যাচারে আমার শহীদ পরিবার ধব্বংসের মুখামোখি হইয়া দাড়াইয়াছে। এ সকল হামলা-মামলার প্রতিরোধ করিতে গিয়া আমরা বহু টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছি। মামলার খরচ বাবত আমার কয়েক খন্ড জমিন বিক্রি করিতে হইয়াছে। এতএব, উপরোক্ত অবস্থাধীনে সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার আকুল আবেদন এই কুলাঙ্গার বেয়াদব সন্তানের নানা অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপনাদের লেখনি শক্তি প্রয়োগের একান্ত মর্জি হয়।