নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন থকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। ১৯ জুলাই বিকেলে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসায় কেন্দ্রীয় এবং সিলেটের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে আরিফুলের পক্ষে কাজ করার কথা বললেও এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান লাভবান হবেন বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
এই বিষয়ে একজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেন, সেলিম নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেও ব্যালট পেপারে তার নাম ও মার্কা থেকে যাবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে ব্যালট পেপার থেকে নাম প্রত্যাহার করা যায় না। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে। ফলে নির্বাচনের দিন অনেক ভোটার ভুল করে সেলিমের বাস মার্কায় ভোট দেবেন। এতে করে আরিফুলের ভোট কমে যাবে। তাছাড়া নির্বাচনের মাত্র কিছুদিন আগে সরে দাঁড়ানোয় সব ভোটারের কাছে এই খবর পৌছাবে না।
সূত্র জানায়, বিএনপির প্রার্থী আরিফুল প্রচারের শুরু থেকেই প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। শুধু নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম নয়, বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াত ইসলামীর নিজস্ব প্রার্থী থাকায় ওই দলটির ভোট পাবেন না তিনি। জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনে থাকায় সেলিমের সরে দাঁড়ানোতে বিএনপির কোনো লাভ নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরদিকে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের দল আওয়ামী লীগ এবং জোটে কোনো ধরনের বিরোধিতা না থাকায় তার ভোট ভাগ হবে না। দল এবং জোটের সব ভোট তিনি পাবেন।
এছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিমের মধ্যে বিরোধীতার কারণে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অবিশ্বাস-আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, সরকারের মদদে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন সেলিম। সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও নেতা-কর্মীদের এই আস্থাহীনতা পুরোপুরি কাটবে না। এর প্রভাব পড়বে নির্বাচনে। ফলে বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সুবিধা পাবেন।