বাংলার দর্পন ডটকম :
সারা দেশে চলছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। এ জন্য যাচাই-বাছাই কমিটিও রয়েছে। তবে এ কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা। অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিরা যাচাই-বাছাই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। কোথাও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বাদ পড়ছেন আবার কোথাও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। এদিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির কার্যক্রম ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান-
বগুড়া ব্যুরো : বগুড়া কাহালু উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ে গেজেটভুক্ত ও ভাতাভোগী প্রায় ১৯ জন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এতে ওইসব মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজনরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কাহালু উপজেলায় নতুন করে ৬৩ জন মুক্তিযোদ্ধা অনলাইনে আবেদন করেন। লাল মুক্তিবার্তার তালিকায় ছিল মোট ৩৯ জন। এছাড়াও গেজেট ভুক্তসহ আরও প্রায় ৪৩ জনের নাম রয়েছে পূর্বের তালিকায়। নতুন আবেদনকারী ৬৩ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ২ জন। লাল মুক্তিবার্তা তালিকার ৩৯ জন বাদে পূর্বের তালিকায় থাকা ৪৩ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ৩৯ জন লাল মুক্তিবার্তা তালিকায় থাকা ৭ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে। উপজেলায় বাছাই শেষে বর্তমানে বৈধ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হয়েছে ৩৯ জন। পূর্বে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮২ জন। এর আগে ভাতা পেয়েছেন ৫১ জন। তালিকা থেকে বাদ পড়া ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধারা মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে জানান, তারা মুজিব বাহিনী হিসেবে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমস্যায় পড়বেন।
ফরিদপুর ব্যুরো : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া হাইকোর্টের নির্দেশে ৪ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি তারিকউল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুকীর যৌথ বেঞ্চে এ স্থগিত আদেশ দেয়া হয় বলে অ্যাডভোকেট সাইদুল বারীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানা গেছে। জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে ৭ সদস্যের কমিটির মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার থাকা বাধ্যতামূলক বিধি রয়েছে। তবে এখানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বাদ দিয়ে কমিটি করা হয়। উক্ত কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ গফফার মিয়া বাদী হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে একটি রিট করে। উক্ত রিটের শুনানি শেষে ২৩ জানুয়ারি বিচারকদ্বয় উক্ত রায় প্রদান করেন। ফলে এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কমিটির সদস্য সচীব রোকসানা রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান আমরা যাচাই-বাছাই স্থগিতকরণের একটি চিঠি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের মাধ্যমে পেয়েছি। কোর্টের প্রেরিত কোনো আদেশ এখনো পাইনি। কোর্টের আদেশ পাওয়ার পর সঠিক বলতে পারব।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : বরিশালের বাবুগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। কমিটিতে যুদ্ধকালীন বেইজ কমান্ডারদের অন্তরর্ভুক্ত না করায় তারা ক্ষোভ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এ লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। বেলা দেড়টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায়ের কাছে ৯৮ জনের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। মো. আমির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য করা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে যুদ্ধকালীন বেইজ কমান্ডারদের অন্তরর্ভুক্ত করা হয়নি।
ফেনী : মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কেন্দ্রীয় ও উপজেলা সংগঠকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাজল ইসলাম নামের এক মুক্তিযোদ্ধা। তার লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন তারা মুক্তিযোদ্ধা নয় অথচ মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ৫ জনকে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কামান্ড কাউন্সিলের নেতা সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, পরশুরাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার কামাল উদ্দিন, সলিয়ার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মনিরা হকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সোনাগাজী উপজেলা মুক্তিযোদ্বারা বৈঠকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, কমান্ডার শাহজাহান বলেন, যাচাই বাছাই কমিটিতে অবশ্যই যুদ্ধ কালিন কমান্ডার থাকতে হবে।
দেওয়ানগঞ্জ : মঙ্গলবার বিকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি জোট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহাবুবুল হক চিশতি ও সংসদ সদস্য রেজাউল করিম হিরা সম্পর্কে যুদ্ধাপরাধী আখ্যায়িত করে বক্তব্য রাখার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার ও বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খাইরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি কমান্ডার রুহুল আমিন বাদশা, জসিজল হক, মোক্তার হোসেন, হোসেন আলী, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।