বার কাউন্সিল নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি 

বাংলারদর্পন রিপোর্ট :

সারাদেশের আইনজীবীদের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের নীল প্যানেলের। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বার কাউন্সিলের কর্তৃত্ব থাকছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের আইনজীবীদের হাতে।

বার কাউন্সিলের সূত্র অনুসারে, সারাদেশের ৭৮টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই আলাদা করে কেন্দ্রগুলোতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই তথ্য অনুসারে নির্বাচিত ১৪টি পদের মধ্যে ১২টি পদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, বিএনপি মাত্র দুটি পদে জয়লাভ করেছে।

বার কাউন্সিলের সচিব রফিকুল ইসলাম  জানান, সারাদেশে ভোট গ্রহণ গতকাল (১৪ মে) শেষ হয়েছে। কেন্দ্র থেকে রেজাল্ট ঘোষণা শেষে রেজাল্ট শিটগুলো বার কাউন্সিলে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও অনেক কেন্দ্রের রেজাল্ট শিট আমরা হাতে পাইনি। সবগুলো রেজাল্ট শিট হাতে পেলে তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে পাঠানো হবে। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বার কাউন্সিল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন।

তবে বার কাউন্সিল সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ক্যাটাগরিতে সাতটি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেন— বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন,মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল।

তবে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে শুধু সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া, গ্রুপভিত্তিক সাতটি পদের মধ্যেও আওয়ামীপন্থীরা ছয়টি পদে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচিতরা হলেন— (গ্রুপ এ) অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু,(গ্রুপ বি) মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া,(গ্রুপ ডি) এ. এফ. মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, (গ্রুপ ই) পারভেজ আলম খান, (গ্রুপ এফ) মো. ইয়াহিয়া এবং (গ্রুপ জি) রেজাউল করিম মন্টু।

তবে শুধু (গ্রুপ সি)-এ বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নিয়ম অনুসারে ১৪টি পদের মধ্যে আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে সাতজন এবং আঞ্চলিকভাবে (গ্রুপ আসনে) সাতজন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য সদস্য নির্বাচিত হন। আঞ্চলিক সাতটি আসন হলো— ‘গ্রুপ এ’-তে ঢাকা জেলার সব আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ বি’-তে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ সি’-তে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ ডি’-তে কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ ই’-তে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ এফ’-এর মধ্যে রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি এবং ‘গ্রুপ জি’-তে রয়েছে দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ অনুসারে প্রতি তিন বছরে একবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার কাউন্সিল মূলত ১৫ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। উক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে বার কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্ব পান। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যে কারণে এই পদটি ব্যতীত অবশিষ্ট ১৪ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্যে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে মনোনীত প্রার্থীরা ছিলেন— বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, জেড আই খান পান্না, পরিমল চন্দ্র গুহ ও শ ম রেজাউল করীম।

এছাড়া, সাতটি আঞ্চলিক সদস্য পদে আছেন— এ গ্রুপ থেকে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, বি গ্রুপ থেকে কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, সি গ্রুপ থেকে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, ডি গ্রুপ থেকে এ এফ রুহুল আনাম চৌধুরী, ই গ্রুপ থেকে পারভেজ আলম খান, এফ গ্রুপ থেকে ইয়াহিয়া ও জি গ্রুপ থেকে রেজাউল করিম মন্টু।

বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে প্রার্থীরা ছিলেন— সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া।

আর সাতটি আঞ্চলিক সদস্য পদে ছিলেন— এ গ্রুপ থেকে অ্যাডভোকেট মো. মহসীন মিয়া, বি গ্রুপ থেকে অ্যাডভোকেট বাধন কুমার গোস্বামী, সি গ্রুপ থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, ডি গ্রুপ থেকে অ্যাডভোকেট এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন, ই গ্রুপ থেকে শাহ মো. ছারিরুর রহমান, এফ গ্রুপ থেকে অ্যাডভোকেট মো. ইসহাক এবং জি গ্রুপ থেকে শেখ মো. মোখলেছুর রহমান।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সরকার সমর্থকরা জয় পেয়েছিলেন ১১টি পদে। বাকি তিন পদে জয় পেয়েছিলেন বিএনপি জোট সমর্থক প্রার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *