Main Menu

ময়মনসিংহ, শেরপুর ও মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে নিহত ৫

বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিলে বেড়েই চলেছে মানুষের সংখ্যা। আজ সোমবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশের তিন জেলায় বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত দুজন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে হতাহত হওয়ার এ ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় আজ সকালে বজ্রপাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম শারমিন আক্তার (১৬)। সে উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের রুহিপাগারিয়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার মেয়ে। সে উপজেলার নিচপাড়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মেয়েটির পরিবার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে প্রাইভেট পড়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা নিয়ে বাসায় ফিরছিল শারমিন। সকাল নয়টার দিকে বাড়ির কাছে পৌঁছালে বজ্রপাতে আহত হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিচপাড়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু নোমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেরপুরের নকলা, শ্রীবরদী ও সদর উপজেলায় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন নকলা উপজেলার মুচারচর গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম (৩২), শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামের কুব্বাত আলী (৬০) ও সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামের মো. আবদুর রহিম (৫০)।

উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে মুষলধারে বজ্রসহ বৃষ্টি পড়ছিল। সকাল ১০টার দিকে নকলা উপজেলার মুচারচর গ্রামে খেত থেকে ধান কেটে বাড়ি ফেরার সময় শহিদুল ইসলাম বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিউল ইসলাম তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামে খেতে ধান কাটার সময় কৃষক কুব্বাত আলী বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আনিসুর রহমান তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামে ধান কাটার সময় মো. আবদুর রহিম বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নকলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান, শ্রীবরদীর আরএমও আনিসুর রহমান ও সদরের ইউএনও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরে বজ্রপাতে মফিজ মিয়া (২৮) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়া (৬০) নামের দুজন গুরুতর আহত হন। নিহত মফিজ পেশায় জেলে ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার বরুণা গ্রামে। আহত রশীদ ও রফিক পেশায় কৃষক।

উপজেলার কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, দুপুরে হাইল হাওরে মাছ ধরতে ও গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহে গিয়েছিলেন হতাহত ব্যক্তিরা। বৃষ্টি শুরু হলে নৌকার মধ্যে আশ্রয় নেন তিনজন। এই সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মফিজ মিয়ার মৃত্যু হয়। আহত রশীদ মিয়া ও মো. রফিক মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *