Main Menu

ঔষধ শিল্প দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হবার সম্ভাবনা

 

নিউজ ডেস্ক: যেকোন সময়ের চাইতে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দেশের চাহিদার প্রায় শতভাগ উৎপাদন করে রপ্তানি আয়ে বিশাল অবদান রাখছে এই খাত। রপ্তানি আয় বেড়ে ৪ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। দেশের ৫০ বছরে সুবর্ণ জয়ন্তী ২০২১ সালে রপ্তানি ঔষধ খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি ডলার। এরইমধ্যে আমাদের দেশের ওষুধ সুনাম কুড়িয়েছে বিশ্ববাজারেও। বিশ্ববাজারে ওষুধ রপ্তানিতে বিশেষ শর্ত শিথিলের সুবিধাভোগী দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ হিসেবে ওষুধ রপ্তানি করে থাকে।

দেশের রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার কয়েক বছর ধরে বর্ষপণ্যের ঘোষণা দেয়। গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওষুধকে ২০১৮ সালের প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার বা ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণার ফলে এই শিল্পের সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তাই তৈরি পোশাক খাতের মতো ওষুধ শিল্পকেও এগিয়ে নিতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ওষুধের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে দেশেই কাঁচামাল (এপিআই) উৎপাদনের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় একটি এপিআই পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে শীঘ্রই। এপিআই পার্ক পূর্ণাঙ্গ চালু হলে ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের জন্য আর কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না এবং পোষাক শিল্পের পর ওষুধ দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হতেও সময় লাগবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে বর্তমানে ডোসেজ ফর্মের উন্নত প্রযুক্তির ওষুধ তৈরি হচ্ছে। ভ্যাকসিন, ইনসুলিন, অ্যান্টিক্যান্সার, অ্যান্টিভাইরাস, হরমোন স্টেরয়েড, তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পরিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া দেশের কয়েকটি ওষুধ কম্পানি ইউএস এফডিএ, ইউকে এমএইচআরএ, ইএমএ, টিজিএ অস্ট্রেলিয়া, জিসিসি, এএনভিআইএসএ ব্রাজিল সনদ লাভ করেছে। সম্প্রতি তুরস্ক, কুয়েত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির চুক্তি করেছে। লাইসেন্সিং চুক্তি করে বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদন করে ওষুধ নিতে চায় জাপানি উদ্যোক্তারাও।

জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, পাবনা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ হাজার ৩৩৮টি ছোট-বড় ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে। বিশেষ করে বেক্সিমকো, স্কয়ার, গ্লাক্সো, রেনেটা, ইনসেপ্টা, হেলথ কেয়ার, এসকেএফ, সেনডোজসহ বেশ কিছু কারখানায় আন্তর্জাতিকমানের ওষুধ উৎপাদিত হয়। দেশের উন্নতমানের ৫৪টিরও বেশি কোম্পানি আছে যারা অ্যান্টিবায়োটিকসহ ৩০৩টি গ্রুপের ওষুধ রপ্তানি করে। বর্তমানে পৃথিবীর ১৫০টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

বিশ্বে বর্তমানে ওষুধের রপ্তানি বাজার ১৭০ বিলিয়ন ডলারের। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ বাজার ধরা গেলে এ খাতে রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ১৭ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। আমাদের দেশের ওষুধের গুণগত মান ভালো এবং অন্য দেশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এটি অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য সরকারের নজরদারি বাড়ানো একই সঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী করার পরামর্শও দেন তারা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *