Main Menu

বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে ধূম্রজাল | বাংলারদর্পন

 

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ক্লিন ইমেজ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে নিজ দল ও দলের বাইরে প্রায় সকলেই রাজনীতির ভদ্রলোক বলে থাকেন। কিন্তু এই ভদ্রলোকটিকেই আর বিশ্বাস করতে পারছে না খোদ বিএনপির নেতা-কর্মীরাই।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলের অভ্যন্তরে অনেক কথাই চাউর হতে শুরু করেছে। সন্দেহের ডালপালা বিস্তৃত হবার মতো অনেক ঘটনাই এখন দলের প্রতি মির্জা ফখরুলের বিশ্বস্ততাকেই কেবল প্রশ্নবিদ্ধই করছে না, বরং তিনি আসলে কার পক্ষে কাজ করছেন তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

দীর্ঘদিন যাবৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে দলের নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। সিনিয়র নেতাদের সমর্থনে ফখরুল-মওদুদ ও তারেক-রিজভীর সমর্থনে আরেকটি পক্ষের বিভাজন ছিল ওপেন সিক্রেট। সেকারণেই একই ইস্যু নিয়ে প্রায়শই মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদকে আলাদা আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা যায় এবং পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করে থাকেন তারা।

দলের চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার কারাদণ্ড প্রাপ্তির পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হতে শুরু করে। ফখরুল ও মওদুদপন্থীরা বেগম জিয়ার কারাদণ্ডে বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়েছে, ঐক্য জোরদার হয়েছে- ইত্যাদি বক্তব্যের বিপরীতে তারেক-রিজভীপন্থীরা বেগম জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন নয়, দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে তাকে মুক্ত করতে হবে এমন বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন। ফলে মাঠের নেতা-কর্মীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। যদিও বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের পর অধিকাংশ নেতা-কর্মীরাই কঠোর আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ও মওদুদ আহমেদের মতো নেতাদের ইচ্ছায় একদিকে যেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার অজুহাতে নরম কর্মসূচির নামে নেতা-কর্মীদের আন্দোলন থেকে দূরে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে মওদুদ আহমেদ নিয়ন্ত্রিত আইনজীবীদের ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতায় বেগম জিয়ার জামিনও অধরাই রয়ে যায়। এমন অভিযোগ এখন দলের প্রায় সকল নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। জানা যায়, এসব কারণেই জোটের সমন্বয়ের পদ থেকে মির্জা ফখরুলকে এবং আইনজীবী প্যানেল থেকে মওদুদ আহমেদকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

দলীয় কোন্দল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপিকে দুর্বল করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মির্জা ফখরুল লিপ্ত বলেই এখন ধারণা সবার। এমনকি তিনি সরাসরি সরকারের পরামর্শেই বিএনপি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার কিছু অস্বাভাবিক আচরণও এই ধারণাকে আরো দৃঢ় করেছে। যেমন বিশেষ ফোন এলেই তিনি নেতা-কর্মীদের থেকে দূরে গিয়ে ফোন রিসিভ করেন এবং প্রায় প্রতিদিনই রাত বারোটার পর তাকে বাসায় পাওয়া যায় না। এসময় তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সাথে বৈঠক করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের মামলার তুলনায় তার মামলার অস্বাভাবিক ধীরগতি এবং তার পরামর্শেই দলে তার বিরোধিতাকারীদের গ্রেফতার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ বেগম জিয়ার অসুস্থতাজনিত কারণে তাকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজির করা না হলে ওইদিন মির্জা ফখরুল বিকেলে বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে বেগম জিয়া তাকে সাক্ষাৎ দিতে রাজি হননি। জানা যায়, মির্জা ফখরুল কাউকে না জানিয়ে একাই বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তা জেনে ফেলেন এবং একা দেখা করতে যাওয়ায় কৈফিয়ত চাইলে তিনি বেগম জিয়া তার সাক্ষাৎ চেয়ে খবর পাঠিয়েছেন বলে জানান। সূত্রমতে, সেদিন সরকারের সাথে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশ চলে যাবার প্রস্তাব দিতেই তিনি বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে বিএনপিতে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে সমালোচনা আরো তীব্র হতে শুরু করে। বিএনপি নেতা-কর্মীরাই এখন বলতে শুরু করেছেন, “ফখরুল তুমি কার”?






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *