নিউজ ডেস্ক: শিক্ষার্থী ও শিক্ষার মান নিশ্চিতের লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, এখন থেকে অনুষ্ঠিত যেকোন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। এর মাধ্যমে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ছড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকবে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, গোয়েন্দারা সর্বদা ফেসবুকে প্রশ্ন সংক্রান্ত যেকোন বিষয় দেখা, আপলোড করা এবং ডাউনলোড সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় মনিটরিং করবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এমনকি প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার সঙ্গে যেসব ফেসবুক আইডি দেখা, আপলোড করা এবং ডাউনলোডের সঙ্গে জড়িত থাকবে, সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রশ্নপত্র মুদ্রণ, পরিবহন, বিতরণ, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়ে জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস রোধে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবদের ওপর নজর রাখবে প্রশাসন।
ওই সভায় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কঠোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, যারা প্রশ্ন ছাপার সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে নজরদারিতে রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যার মধ্যে হয়তো আমিও আছি। তাই যারা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত তারা সাবধান। অপকর্মে জড়ালে শাস্তি অবধারিত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশ্ন ফাঁস রোধে গৃহীত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাবলিক পরীক্ষা ঠিক কোন পদ্ধতিতে নেয়া হবে সে বিষয়েও কোনো পূর্ব ধারণা দেয়া হবে না। জানা গেছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে ডিজিটাল সিস্টেমে প্রশ্নপত্র ইনপুট দেয়া থাকবে। পরীক্ষা শুরুর নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষার্থীদের হাতে তা পৌঁছে যাবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো পরীক্ষার জন্য যে প্রশ্নটি দেয়া হবে তা কোন মানুষ দ্বারা নির্ধারিত হবে না। প্রশ্নপত্রের সকল সেট পরীক্ষাকেন্দ্রে যথাসময়ে সরবরাহ করা হবে এবং একাধিক সেটই পরীক্ষার্থীরা দেখতে পাবে তবে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ঘণ্টা বাজার পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে স্থাপিত ডিজিটাল ডিভাইস বা সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা কোন সেটে পরীক্ষা দেবে তা জানতে পারবে। সেট নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি লটারি পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে স্থাপিত ডিজিটাল সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁস হবার কোনো সুযোগ থাকছে না।
প্রসঙ্গত, আগামী ২ এপিল এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষা থেকেই এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিশ্চিত হওয়া গেছে।