Main Menu

খাগড়াছড়িতে ইটভাটার আগ্রাসন, ধ্বংসের মুখে বনাঞ্চল :হুমকির মুখে পরিবেশ

 

আব্দুর রহিম :

 

খাগড়াছড়ির গুইমারায় প্রশাসনের নাকের ডগায়, সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, প্রকাশ্য দিবালোকে ইটভাটার চুল্লিতে পোড়ানো হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট গাছ। উজাড় করে দেয়া হচ্ছে পাহাড়ি বনভূমী। ধ্বংশের মুখে জীব বৈচিত্র, ক্ষত-বিক্ষত রাস্তাঘাট, চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ।

 

ইটভাটার ধ্বংশাত্বক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশের পরও অজানা কারণে দর্শকের ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গুইমারা উপজেলা  সদর থেকে ১কি.মি. দূরে আমতলীপাড়ার ভিতরে SBM ও 4 STAR নামে দুইটি ভাটা ও বাইল্লাছড়ি নামক জায়গায় রয়েছে আরও একটি ইটভাটা যেখানে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে পাহাড়ি কাঠ। যার ফলে উজাড় হয়ে পড়ছে পাহাড়িবন। ধ্বংশ হচ্ছে জীব বৈচিত্র।

 

ভাটাগুলোর চারপাশে রয়েছে প্রায় পাঁচশত একর জমি, যেখানে দোল ক্ষেত সোনালী ফসল ঐ ফসলি জমীগুলো থেকে ইট তৈরীর জন্য মাটি নেয়ার ফলে জমীগুলো এখন উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ধ্বংশস্তুপে পরিনত হয়েছে।

 

ভাটার মরণচুল্লী থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার ফলে একদিকে যেমনি দূষিত হচ্ছে বাতাস, অন্যদিকে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় ফলদবৃক্ষ, জলাশয় ও প্রাণীকুল।

 

রামগড় উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা নাছির উদ্দিন চৌধুরী ইটভাটা থেকে নির্গত কালোধোঁয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বলেন, এটি থেতে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাস দূষনের পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত করে তোলে, যার ফলে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে যায় ফলে ভাটার আশপাসের কয়েক কি.মি.পর্যন্ত পুকুর বা জলাশয়ে আসানুরুপ মাছের উৎপাদন হয়না। ফলদ বৃক্ষ আম, কাঁঠাল,লিচু,পেয়ারাসহ সব ধরনের গাছ ফুলশুন্যহয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হারায়। ব্যাপকহারে গাছ পোড়ানোর ফলে, বন্যপ্রাণির আবাসস্থল ধ্বংশের পাশাপাশি ধ্বংশ হচ্ছে জীব বৈচিত্র। যারফলে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে প্রাণিকূল। আবার ইট তৈরিতে ফসলি জমির উর্বরস্তর নিয়ে যাওয়াতে জমিগুলো উর্বরতা হারানোর পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে।

 

ইটভাটা গুলোতে অবাদে গাছ পোঁড়ানো সম্পর্কে জালিয়াপাড়া মাটিরাঙ্গা রেঞ্জ অফিসার মোশারফ হোসেন বলেন, ভাটাগুলোতে গিয়ে অভিযান চালিয়ে আটক করার ক্ষমতা আমাদের নেই তবে পোড়ানোর উদ্দেশ্যে গাছ পরিবহনের সময় রাস্তায় আটক করার ক্ষমতা আমাদের আছে। এবং আমাদের এই তৎপরতা সবসময়ই বিদ্যমান রয়েছে। তাছাড়া ভাটাগুলোতে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো ঠেকানোর জন্য আমরা ইতিমধ্যে জেলাপ্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।

 

খাগড়াছড়িতে বিদ্যমান ইটভাটা গুলোতে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো সম্পর্কে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন সবসময় সক্রীয়, ভাটাগুলোর অপতৎপরতা বন্ধের জন্য আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে এবং পরিবেশ কৃষি ও জীববৈচিত্র রক্ষার্থে সবসময়ই আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

 

ইট ভাটাগুলোতে অবাদে কাঠ পোঁড়ানো,ফসলি জমির মাটি নেয়া, পরিবেশ দূষন এ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে তারপরও প্রশাসন নিরব কেন জানতে চাইলে, গুইমারা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, এদের বিরুদ্ধে আমি আগেও অভিযোগ পেয়েছি, এবং আমি ভাটার মালিকদেরকে সাবধান করেছি। এরপরও তারা যখন কাঠ পোঁড়াচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আমরা এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেবো।

 

উল্লেখ্য পূর্বেও ইটভাটার উপর সংবাদ সংগ্রহের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র নিকট ভাটার আগ্রাশনের ব্যাপারে প্রশাসনের করনীয় কী জানতে চাইলে তিনি প্রায় একইভাবে আশ্বস্থ্য করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমন ধ্বংশাত্নক কাজ করে চলেছে ভাটা মালিকরা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *