সেনবাগে মেলার নামে চলছে জুয়া, মাদক ও অশ্লীল নৃত্য : ইউএনও’র অভিযান

 

মোহাম্মদ হাসান রবিন, নোয়াখালী থেকে: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের আইছের টেক নামকস্থানে মুক্তিযোদ্ধা বিজয় মেলার নামে চলছে জুয়া, মদ ও অশ্লীল নৃত্যের রমরমা ব্যবসা।

মেলায় নাগর দোলা, মৃত্যুকূপ হোন্ডা, সার্কেসসহ বিভিন্ন স্টলের পাশাপাশি চলছে অবৈধ কূপন বিক্রয়। সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আকর্ষনীয় ও দামী পুরস্কার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিক্রয় করা হচ্ছে লাকী কূপন। এসব লাকী কূপন কিনে তরুণ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

এসব বন্ধের জন্য এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আর্কষণ করলে গত ১২মার্চ রাতে সেনবাগ উপজেলার নির্বাহী অফিসার শতরূপা তালুকদারের নেতৃত্বে মেলায় জুয়ার আসর অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াটিরা পালিয়ে যায়।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে প্রশাসনের লোকজন মেলার জুয়ার আসরের জন্য নির্মিত ১৮টি সামিয়ানা ভেঙ্গে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং নির্দেশ দেওয়া হয় জুয়াসহ অবৈধ কোন কর্মকান্ড না করতে মেলা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৩ মার্চ রাত থেকে আবারও বসানো হয়েছে জুয়া, মদ ও অশ্লীল নৃত্যের আসর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাকী কূপন নামে চলছে টিকেট বিক্রয়। সার্কেস এর উত্তর পার্শ্বে সামিয়ানা দিয়ে ১৮টি জুয়ার বোর্ড বসিয়ে প্রতি বোর্ড থেকে নেওয়া হচ্ছে সর্বনি¤œ ৪০ হাজার টাকা। লাকী কূপন এর সার্কেস থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন নেওয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা করে। এসব কিছুর মূল নেতৃত্বে রয়েছেন, ক্ষমতাশীন দলের কিছু নেতা। অভিযোগ রয়েছে মেলার বিভিন্ন স্টলে প্রকাশ্যে বিক্রয় হচ্ছে বাংলা মগ, ইয়াবাসহ মরণ নেশাসমূহ। এতে আসক্ত হয়ে পড়েছে তরুণ ও কিশোররা। তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে বলে জানিয়েছে একাধিক অভিভাবক।

এই ব্যাপারে সেনবাগ উপজেলার নির্বাহী অফিসার শতরুপা তালুকদার এ প্রতিবেদক কে জনান, আমার সু-নির্ষিষ্ট অভিযোগ পেলে আবারও অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান দিব।

মেলায় আগত তারেক নামে এক ব্যক্তি বলেন, সাধারণ জনগণকে উদভুক্ত করার জন্য মেলা কর্তকপক্ষ লাকী কূপন জুয়ার আসর সরাসরি স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাবল টিভিতে প্রচারের কারণে স্কুল, কলেজের সামনে রাস্তাঘাটে, বাজারগুলোতে লাকীকূপন কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ জণগন। তা থেকে বাদ পড়ছে না শিক্ষার্থীরাও।

নাম না প্রকাশে এক স্কুল শিক্ষক বলেন, মেলার আশেপাশে প্রায় ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঐ প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রায় ৫ হাজারের উপরে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। দিনে রাতে মেলার কূপন বিক্রিয় মার্কিং এর কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা ব্যঘাত ঘটছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সামনের পরিক্ষাগুলোতে ফল বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *