Main Menu

সুনামগঞ্জ-৩ আসন : নির্বাচনী মাঠে সরব বিএনপি, আ’লীগ, জাপা’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

মো.নাইম তালুকদার :  সুনামগঞ্জ :

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী অধ্যুসিত সুনামগঞ্জ-৩
আসনের (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা) আ’লীগ-বিএনপি’র ও শরীক দলের
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ সরব করে রেখেছেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক
পরিস্থিতিতে আ’লীগের পাশাপাশি বিএনপি’র শান্তিপ্রিয় ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যেও
চলছে গণসংযোগ, প্রচার প্রচারনা। এলাকার প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রবাসী  প্রার্থীরাও
নিজ নিজ দলীয় নীতিনির্ধারণী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনে বর্তমান এমপি ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর
লবিং ও তদবিরে রয়েছেন, সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের
সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। অপর দিকে মাঠে বিরোধী দল বিএনপি তথা
২০দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক এমপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কেন্দ্রীয় যুগ্ম
মহা সচিব মাওলানা এডভোকেট  শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি এম.এ মালেক খান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ (অব:), যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক সভাপতি ও চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, খেলাফত মজলিস নেতা হাফিজ মাওলানা এনামুল হাসান মনোনয়ন চাইতে পারেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এ আসন থেকে বিভিন্ন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনে অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে দলীয় মনোনয়ন
পেতে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের সাথে জোর লবিং, তদবির করছেন। সমর্থকরাও তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে তারা ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এ
ছাড়াও জমিয়ত নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা ইমরান আহমদ, যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টির
সাধারণ সম্পাদক শাহীদুর রাহমান (শহীদ) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।
আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে, দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান
ও সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম, আওয়ামী যুবলীগের সাবেক
কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক
সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা বদিউজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরীর সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম, প্রবাসী বিএনপি নেতা ইসতাব উদ্দিন আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা আবুল কাহার, প্রবাসী বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিনের নামও আােলাচনায় উঠে আসছে। এর মধ্যে আ’লীগের (বর্তমান এমপি) এমএ মান্নান’র বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামে। তিনি এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে সততার সাথে দুইটি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন সজ্জন মানুষ হওয়ায় আবারো আগামী সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হচ্ছেন সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন। তাঁর বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার ভূরাখালি গ্রামে। তিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের পুত্র হওয়ায় এবং বিগত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমএ মান্নানের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করায় তিনিও পিছিয়ে নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে আজিজুস সামাদ ডনও আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বলে তাঁর সমর্থকরা জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি এমএ মালেক খানের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার হাসান-ফাতেমাপুর গ্রামে। তিনি ইতোপূর্বে অসংখ্যবার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়েও দলের জন্য নিবেদিত ভাবে কাজ বরছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী হলে সহজে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি’র
সাবেক আহবায়ক কর্ণেল অব. সৈয়দ আলী আহমদের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে। ইতোপূর্বে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে এ আসনে নির্বাচন করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অবতীর্ণ হয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে তাঁর গ্রহন যোগ্যতা বেশি রয়েছে বলে জানান তাঁর সমর্থকরা। তিনি বিএনপির প্রার্থী হলে আ’লীগ-বিএনপির নির্বাচন জমজমাট হয়ে উঠবে এবং তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী বলে তাঁর সমর্থকরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়ছর এম আহমদের বাড়ি জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ছিলিমপুর গ্রামে।
তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও দলীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিএনপি’র নীতিনির্ধারক তারেক রহমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে এ আসনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহা সচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বাড়ি জগন্নাথপুর
উপজেলার পাটলী গ্রামে। তিনি এ আসনের সাবেক এমপি ছিলেন। যে কারণে নির্বাচনী
এলাকায় তাঁর পরিচিতি ও গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি ২০ দলীয়
জোটের একক প্রার্থী হলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সকল প্রার্থীদের এক দাবি, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে
বিএনপি পরিবারের প্রার্থী চাই।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি (অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী) এম.এ মান্নান
বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্ব^াসী, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
নির্দেশে এলাকর উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমার বিশ^াস আগামীতেও নৌকা নিয়ে নির্বাচন
করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন বলেন, আমার বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষ।
সারা জীবন আ’লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করেছি আমরা। আমার পরিবার
আ’লীগ পরিবার। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও দলী সভাপতি কাছে চাইবো নৌকা মার্কা নিয়ে
নির্বাচন করতে। আমার বিশ^াস প্রধান মন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকবৃন্দ এবার আমার
প্রতি সদয় হবেন। নৌকা নিয়ে নির্বাচন করলে বিপুল ভোটে জয়ী হবো আমি।
‘বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী এম.এ মালেক খান বলেন, দলের জন্য সারা জীবন কাজ
করেছি। বিগত দিন গুলোতে কয়েকবার মনোনয়ন চেয়েছি। এলাকায় জনসংযোগ করে অনেক নেতা-কর্মী তৈরী করেছি। এই মুহুর্তে দলীয় চেয়ারপারসন দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়া’র মুক্তি চাই। এ আসনে একাধিকবার জমিয়তের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এতে বিএনপির নেতৃত্বে ও তৃণমুলে দুর্বল হচ্ছে। এবারও জোটের শরিক দলের প্রার্থী দেওয়া হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দেবে। আমার বিশ^াস আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে এই আসনটি দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে চাই।
জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) আলী আহমদ বলেন, আমি নির্বাচন করতে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। দীর্ঘ দিন থেকেই নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছি। আমার বিশ্বাস দল আমােেক মুল্যায়ন করবে। ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পাবেনা। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ বলেন, ‘এবার আমরা চাই সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী। না হয় এই এলাকায় দলীয় সংকট দেখা দেবে। ‘ সাবেক সংসদ সদস্য ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী বলেন, ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই আসনে আমাকেই মনোনয়ন দেওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছি। এ বিষয়ে জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর’র সঙ্গে তার এ নিয়ে কথাও হয়েছে। অতীতে এ এলাকার জন্য অনেক উন্নয়ন করেছি। দেশের বর্তমার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেগম জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে এ আসনটি আমি উপহার দিতে চাই।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি শীতিল হলে ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রায় ৩ লক্ষাধিক
ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পরবর্তী এমপি নির্বাচিত করতে অধীর
আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় ভোটার ও সমর্থকরা জানান, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী বনাম ২০দলীয় জোট প্রার্থীর মধ্যে লরাই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সময়ই বলে দেবে কার পাল্লা কত টুকু ভারি, কে হবেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের) আসনের
কান্ডারী।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *