মো. নাইম তালুকদার : দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার গুরুপূর্ণ রাস্তা দিরাই- মদনপুর আঞ্চলিক মহা- সড়ক। যা দিয়ে প্রতিদিন অতিক্রম করেন হাজার মানুষজন। পল্লী অঞ্চল থেকে শুরু করে ঢাকা -সিলেট সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় যাইতে হয় এই রাস্তা দিয়ে।
অসংখ্য যানবাহনের চলাচল করতে হয় বিভিন্ন উপজেলার প্রধান প্রধান শহরে এই সড়ক দিয়ে । মাত্র ২৬ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা।
এই রাস্তার ৮ কিমি দিরাই-শাল্লার সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তার নির্বাচনী এলাকা হলেও ১৬ কিমি সড়কের অপর এলাকা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান’র নির্বাচনী এলাকা।
শেখ হাসিনা সরকারের প্রিয় দুই ব্যাক্তির সড়ক হলে ও উন্নয়নের নূন্যতম চূয়া লাগেনি দিরাই মদনপুর সড়কের। যার ফলে মহা- দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের।
রাস্তার খানা খন্দকের আক্রমনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন হাওরের পাড়ের পথ যাত্রী মানুষজন। প্রতিনিয়ত দূর্ভোগের সাথে তুমুল যুদ্ধ করে ঢাকা-সিলেটসহ সুনামগঞ্জ যেতে হয় মানুষজনের। কুমল মতি শিক্ষার্থী ও গর্ভবতী মহিলাদের এক আতংকের নাম দিরাই-মদনপুর সড়ক। যার নাম শুনে আতংকে বেঙে পড়েন তারা। অনেকেই দিধাবোধ করেন এই সড়ক দিয়ে যাত্রা করতে। রাস্তার মধ্যকার গর্ত ও চার পাশে মাঠি বিহীন থাকায় প্রতিদিন ঘটছে অসংখ্য ছোট বড় দূর্ঘটনা। দিরাই মদনপুর সড়কের বেহাল দশার কারনে, অত্র এলাকার সব কিছুতেই প্রভাবিত হচ্ছে। দিন-দিন ক্ষতির দিকে দাবীতে হচ্ছে জনগন। যার ফলে ক্ষতির কবলে শিক্ষা,চিকিৎসা যাতায়াত সহ বিভিন্ন কর্মপথ। চলিতে বসন্ত মাসে হাওর সুন্দর্য্য বিলাশ ও বিভিন্ন সামাজিক এবং ধর্মীয় উৎসব অনুষ্টান গুলোতে দেখা যায়নি তেমন মানুষ। ভাটি এলাকায় বসন্তে মাসে অনেক আকর্ষণীয় অনুষ্টানে সড়কের অবেস্হা নাজুক থাকায় ঢাকা সিলেট বসবাসরতরা অংশগ্রহন করেন নি অত্র একালাকার কোন অনুষ্টানে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাষ্টারস অধ্যায়নরত ছাত্র রাজু আহমেদ, জানান, বহু দিন ধরে বাড়ীতে যাই নি রাস্তার অবেস্হা খারাপ বলে, চার পাশে খানা খন্দক, মাটি নেই রাস্তার চার পাশে, এসব ঝুকি মোকাবেলায় বাড়ি যাচ্ছি না। তিনি আরও জানান, হাওরের পাড়ে তথা গানের শহর দিরাই উপজেলায় বাড়ী হলে ও বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের উৎসবে ও যাচ্ছি না সড়কের বেহাল দশার জন্য। পথ চারী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা মো.ইমরান হুসেন জানান, দুঃখের সাথে আজ বলতে হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রিয় দুই ব্যাক্তির মাত্র ২৬ কিমি; সড়কের এই বেহাল দশা দেখে মনে হয় এই সড়ক পথে না গিয়ে হাওরের মধ্যদিয়ে হেটে সিলেট সুনামগঞ্জ যেতে।
আমরা এই সড়কের খানা খন্দকের আক্রমনে অতিষ্ঠ, শ্রীঘ্রই সড়ক মেরামত চাই। দিরাই উপজেলার মাইক্রো সমিতির সহ-সভাপতি মো.আতাউর রহমান জানান, গাড়ী চালাতে গিয়ে শরীরের প্রতিটি স্হানে বিষন ব্যাথা করে, বুকের পাজরে পাজরে এখন ও ব্যাথা লাগে দিরাই-মদনপুর রাস্তার আঘাতে। আমরা ড্রাইভার যারা আছি জীবন জিবীকাহ নির্বাহের জন্য আমরা গাড়ী চালাই। অনেকের গাড়ী চালিয়ে সংসার চলে। গাড়ীর একবার সিলেট কিংবা সুনামগঞ্জ গেলেই রাস্তার আঘাতে বর্তমান রিজার্ভ ভাড়ার চেয়ে মেরামত কাজে টাকা ব্যয় হয় বেশি। দিন-দিন রাস্তায় অবেস্হা খারাপ হতে যাচ্ছে। কৃতৃপক্ষ কোন উদ্দেগ নিচ্ছেন না। ফলে প্রাণ ঘাতির মতো বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। মাঝে মধ্য দেখলাম রাস্তার মেরামতের কাজ হচ্ছিল, কিন্তু এখন কাজের কোন খবর নেই। নতুন মেরামত কাজ গুলো পুরাতন কাজের মতো হয়ে গেছে।
দিরাই উপজেলার বাসিন্দা সুনামগঞ্জ জেলা জেসডির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজ্জামেল হক জানান, রাস্তার মধ্যে যে বিশাল বিশাল গর্ত মনে হয় কিছু দিনের ভিতর রাস্তার বাকে বাকে পুকুর হয়ে যাবে। জনগণের মহা-কষ্টের নামে পরিচিত হয়ে যাবে দিরাই-মদনপুর সড়ক। শুধু দিরাই, সুনামগঞ্জ,জামালগঞ্জ নয় প্রত্যেক জায়গার থেকে আগতরা ও এই দূর্ভোগের শিকার। আমি মনে করি যদি অল্প কিছু দিনের ভিতর এই রাস্তা মেরামত না হয়। আর জনগণের কষ্ট ও দূর না হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে।
সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের অর্নাসের অধ্যায়নরত ছাত্র মো.মিফতাহ তালুকদার জানান, আমি বাড়ী থেকে ক্লাস করি আমার শিক্ষার স্হান সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজে, আমার প্রতিদিন বিলম্ব হয়ে যায় রাস্তার কারনে। প্রতিদিন পযাপ্ত পরিমাণ আগে বাড়ী থেকে বের হলেও অনেক বিলম্বে কলেজে গিয়ে পৌছি শুধু রাস্তার কারণে। এ ব্যাপারে সড়ক জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকোশলী নাজমূল ওয়াহেদ চৌধুরী, জানান,এই সড়ক খুব ভাগ্যমতি সড়ক সিএমপির আর্থয়ানে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শ্রীঘ্রই রাস্তার কাজ শুরু হবে। রাস্তায় আর খানা খন্দ থাকবে না।