Main Menu

আল্লাহর এক অপরূপ নেয়ামত  ঋতুরাজ বসন্ত ★ বাংলারদর্পন 

 

মো.নাইম তালুকদার :

 

মহান মাবুদের এক অপরূপ নেয়ামত  আজ ঋতুরাজ বসন্তের আগমণ দিন।

ঋতুরাজ বসন্তের বাতাসে জুড়িয়ে যাচ্ছে মন। নিজেকে  আজ খুব সুখী লাগছে এই সোনার বাংলায় ঋতুরাজ বসন্তের  আগমন পেয়ে। আমি আজ নিজেকে নিয়ে খুব গর্ববোধ আমার জন্মমাটি বাংলায় ঋতুরাজ বসন্তের বাতাস পেয়ে।   প্রকৃতি আজ দক্ষিণা দুয়ার খুলে দিয়েছে।আর  সে দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া। বসন্তের আগমনে কোকিল গাইছে হাওরের জেলা   সুনামগঞ্জের পল্লীর বিভিন্ন অলি গলিতে  গান। ভ্রমরও করছে প্রাণভরে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের করছে মিলন  মেলা। আজ পহেলা ফাল্গুন। ফাল্গুনের এই মিষ্টি সকালে সবাইকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানাই।

 

 

 

ফাল্গুনের মিষ্টি কুয়াশাঘেরা সকালের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। তাইতো ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এতো বর্ণিল সাযে সজ্জিত । বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সকল কুসংস্কার অন্যায় অত্যাচারকে  পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। তাই কবির ভাষায়- ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। আর বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান আজ মনে পড়ে যায়, বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে বন্ধুর বাড়ীর ফুলে ঘ্রাণ আমার বাড়ী আসে।

 

বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে।  এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। বাংলায় বসন্ত উৎসব এখন প্রাণের উৎসবে পরিণত হলেও এর শুরুর একটা ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে, যা অনেকের অজানা।

 

 

 

মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন । নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে।

 

নতুন রূপে প্রকৃতিকে সাজাবে ঋতুরাজ বসন্ত। ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনার বসন্ত আর আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়ার আজ প্রথম দিন।

 

শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া,  এখন আপন মনে  স্পর্শে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। লাল আর হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসবে বাঙালি।

 

 

 

বসন্ত অনেক ফুলের বাহারে সজ্জিত হলেও গাঁদা ফুলের রঙকেই এদিনে তাদের পোশাকে ধারণ করে তরুণ-তরুণীরা। খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুলের মালা। বসন্তের আনন্দযজ্ঞ থেকে বাদ যায় না গ্রাম্যজীবনও। আমের মুকুলের সৌরভে আর পিঠাপুলির মৌতাতে গ্রামে বসন্তের আমেজ একটু বেশিই ধরা পড়ে। বসন্তকে তারা আরও নিবিড়ভাবে বরণ করে।

 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তরুণ মনে আবার লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। চারিদিকে যেন সাজ সাজ রব। নতুন কচিপাতার দোলায় দুলছে প্রকৃতি, দুলছে আবেগী মন। আজ নতুন প্রাণেও লেগেছে ফাগুনের সতেজ হাওয়া। ঋতুরাজ বসন্ত আজ প্রত্যেকের হৃদয়কে করেছে উচাটন। বসন্তের আগমন মানেই তরুণ হৃদয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার

 

বসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপরও রং ছড়ায়।

 

১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

 

বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। এছাড়া তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি,  সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ধানমন্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারাদিন। আজ দিনভর চলবে তাদের বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করবে বাঙালি।

 

সারা বাংলার পাঠক প্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল  বাংলার দর্পণ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ বিদেশে সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষজনকে জানাই   আবারো শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও বাসন্তি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবাই ভাল থাকবেন। সুস্থ্য থাকবেন, সুখে থাকবেন, ভাল থাকবেন। এই কামনা শুভকামনা  করি।

 

লেখক :নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলার দর্পণ ডটকম :






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *