সৈয়দ মনির অাহমদ >>>> ফেনীর সোনাগাজী থানার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মাকসুদুর রহমান মিলুকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছিল রাজাকার শাহজাহান অাকবর । মিলু তৎকালিন অাওয়ামীলীগ নেতা মতিগঞ্জের সুজাপুর গ্রামের বেকুমিয়া বাড়ীর মাহবুুবুর রহমান এর ছেলে।
মিলুর ভাই অাজিজুর রহমান জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পিতা অা’লীগ নেতা মাহবুুবুর রহমান ও ভাই মাকসুদুর রহমান মিলু অংশ গ্রহন করেছিলেন। বাড়ীতে ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিযোদ্বাদের থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন।
১৯৭১ সালের নভেম্বরে রাজাকার শাহজাহান অাকবর ও রাজাকার সাহাবুদ্দিন এর নেতৃত্বে অস্ত্রধারী রাজাকার দল তাদের বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ করে, প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে গুলি করে মাকসুদুর রহমান মিলুকে হত্যা করেছিল।
এর পর থেকে প্রাণ ভয়ে স্বপরিবারে গ্রাম ছাড়া হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে তাদের পরিবারকে ৪হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।
তিনি অারো জানান, যুদ্ধ চলাকালে এই রাজাকার শাহজাহান অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও ভয়ঙ্কর খুনি ছিলেন। সে বাখরিয়া গ্রামে একই পরিবারের দুই ভাই ওলি উল্যাহ ও কামাল উদ্দিন সহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করেছে । স্বাধীনতার পরবর্তি সময় মামলার উদ্যোগে নিয়েছিল পরিবার কিন্তু স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় মামলা করতে পারেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানান মিজানুর রহমান।
সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজুল হক পাটোয়ারী জানান, যুদ্ধকালীন সময় রাজাকার শাহজাহান প্রকাশ্যে বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। মুক্তিযোদ্ধা ও অা’লীগ পরিবারের কোন পুরুষকে সামনে পেলেই গুলি চালাতো এবং নারীদেরকে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যেতো। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
রাজাকার শাহজাহান অাকবর শহীদ কমান্ডার নুরুল অাবছার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অাসামি, বর্তমানে পলাতক অাছেন।